

সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটি (এসএইউ) শিবরাত্রির দিনে মেসে খাবার পরিবেশন নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের ঘটনায় এক বাংলাদেশি পিএইচডি গবেষককে বহিষ্কার করেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মেসের সেক্রেটারিকে ৫০০০ রুপি জরিমানা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল কমিটির তদন্তের পর এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া।
এতে বলা হয়, ঘটনাটি ঘটে ২৬ ফেব্রুয়ারি। সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেসে মাছের ঝোল পরিবেশনকে কেন্দ্র করে দুই ছাত্রগোষ্ঠীর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও হাতাহাতি হয়। ছাত্রদের অভিযোগ অনুযায়ী, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) সদস্যরা আগে থেকেই দাবি করেছিল যে, মহা শিবরাত্রির উপবাসের দিনে শুধু নিরামিষ খাবার দেয়া হোক। কিন্তু মেনুতে মাছের ঝোল থাকায় এবিভিপি সদস্যরা তা সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। এ থেকে উত্তেজনা ছড়ায় এবং হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এসময় মেস কমিটির এক নারী সদস্যকেও শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
ছাত্র ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই) এবিভিপি-র বিরুদ্ধে অন্যদের খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপ ও ধর্মনিরপেক্ষতার ওপর আঘাত হানার অভিযোগ আনে। অন্যদিকে এবিভিপি বলে, উপবাসের দিনে আমিষ পরিবেশন করা ছিল অসংবেদনশীল এবং তা ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করেছে। পুলিশ পিসিআর কল পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসে এবং কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। ফলে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণভাবে সমাধান করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের পর্যালোচনার পর পিএইচডি গবেষক সুদীপ্ত দাশকে গুরুতর অসদাচরণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং অবিলম্বে বহিষ্কারের নির্দেশ দেয়া হয়। তাকে স্থায়ীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো কোর্সে পুনরায় আবেদন করা থেকে বিরত করা হয়েছে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হোস্টেল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় জানায়, ২০২২ সালে একই ধরনের বিশৃঙ্খল আচরণের জন্য সুদীপ্ত দাশকে একবার সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল, যদিও পরে শাস্তি কমিয়ে ৫০০ রুপি জরিমানা এবং সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছিল। মেস সেক্রেটারি যশোদা সাওয়ান্ত সরাসরি ঘটনায় জড়িত না থাকলেও, মেসে শৃঙ্খলা রক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে ৫০০০ রুপি জরিমানা করা হয়েছে। ১৫ জুলাই প্রকাশিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারি আদেশে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়েই এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
