

নুরুল ইসলাম আসাদ, উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি: বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ওটরা ইউনিয়নে পূর্ববিরোধের জেরে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে গুরুতর জখম এবং তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে আরও দুইজন আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করে উজিরপুর মডেল থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন আহত মো. মনির হোসেন (৪৯)। বর্তমানে তিনি উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এজাহারে ভবানীপুর গ্রামের বাবু মুন্সিকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভবানীপুর এলাকায় হাজী তাহের উদ্দিন ইসলামিয়া ডিগ্রি কলেজের পশ্চিম পাশে জালাল মোল্লার দোকানের সামনে প্রথম ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, পূর্ব শত্রুতার জেরে বাবু মুন্সি মনির হোসেনকে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেন। তিনি এর প্রতিবাদ করলে অভিযুক্ত রামদা হাতে তাকে আক্রমণের জন্য তেড়ে যান। এ সময় মনির হোসেনের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পরদিন ২৫ জুলাই সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে মনির হোসেন বাজারে যাওয়ার পথে ওটরা রাস্তার মাথা বাজারের বটতলা এলাকায় পৌঁছালে পূর্বের বিরোধের জেরে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে তার পথরোধ করেন। এরপর লাঠি, লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। একপর্যায়ে প্রধান আসামি বাবু মুন্সি রামদা দিয়ে তার মাথায় কোপ দিলে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে হৃদয় বেপারী ও মারুফ আহমেদ লিংকনের ওপরও হামলা চালানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, লোহার রডের আঘাতে হৃদয় বেপারীর বাম হাতের কব্জি এবং মারুফ আহমেদ লিংকনের ডান হাতের মধ্যমা আঙুল ভেঙে যায়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
আহত সাক্ষী হৃদয় বেপারী বলেন, "মনির ভাইয়ের ওপর হামলার খবর পেয়ে তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে যাই। তখন অভিযুক্তরা আমাদের ওপরও হামলা চালায়। লোহার রডের আঘাতে আমার বাম হাতের কব্জি ভেঙে গেছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।"
আরেক আহত সাক্ষী মারুফ আহমেদ লিংকন বলেন, "আমরা শুধুমাত্র একজন আহত মানুষকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু হামলাকারীরা আমাদেরও ছাড় দেয়নি। আমার হাতে গুরুতর আঘাত লেগেছে। এমন ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হওয়া প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে সাহস না পায়।"
আহত বাদী মোঃ মনির হোসেন বলেন, "আমাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে। আগের দিন প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার পরও আমি বিষয়টি গুরুত্ব দিইনি। পরদিন সংঘবদ্ধভাবে অস্ত্র নিয়ে আমার ওপর হামলা চালিয়ে মাথায় রামদা দিয়ে কোপ দেওয়া হয়। আমাকে বাঁচাতে এসে আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আমি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।"
তবে অভিযোগে নাম উল্লেখ করা ব্যক্তিদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে উজিরপুর মডেল থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া সম্ভব হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগের বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযোগের সত্যতা তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
