

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে কুড়িগ্রামের পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমারের পানি বিপদসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে কাউনিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বেড়েছে ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানিও।
সোমবার (২৯ জুন) সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, দুধকুমার নদের পানি বিপদসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে পানি বাড়তে থাকায় জেলার নদী তীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
নদ-নদীর পানি বাড়ায় কোথাও কোথাও তীব্র হয়ে উঠেছে ভাঙ্গন। বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে অনেক পরিবার।
এদিকে পানি বাড়ায় নদ-নদী অববাহিকার নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে তলিয়ে গেছে পটল, পাটসহ বিভিন্ন সবজি ক্ষেত। পানি আরও বৃদ্ধি পেলে নদীর অববাহিকার নিচু এলাকাসহ চরাঞ্চলগুলো প্রাবিত হয়ে ঘর-বাড়িতে পানি প্রবেশ করবে বলে জানায় স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, পানি বৃদ্ধির ফলে নদ-নদী অববাহিকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়ছে। তবে এসব এলাকার ঘর-বাড়িতে এখনও পানি প্রবেশ করেনি। একই অবস্থা চরাঞ্চলগুলোরও।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নে দুধকুসার নদের অববাহিকার শাহ্ আলম জানায়, গতরাত থেকে দুধকুমারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তার বাড়ি ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। গ্রামবাসীর সহায়তায় ঘর সরিয়ে অন্যের জায়গায় রাখলেও স্থায়ীভাবে বসবাসের কোন সুবিধা নেই বলে জানান তিনি।
সদরের পাঁচগাছি ইউনিয়নের শুলকুর বাজার এলাকার মজিবর রহমান জানায়, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে তার পটল ও পাট ক্ষেত তলিয়েছে। পানি আরও বৃদ্ধি পেলে নিচু এলাকার ঘর-বাড়িতে পানি প্রবেশ করবে বলে জানান তিনি।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, উজান থেকে নেমে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে কুড়িগ্রামের সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর মধ্যে দুধকুমার নদের পানি ইতোমধ্যে বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। আগামী ৩ থেকে ৪ দিন পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
