

গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বৃদ্ধ লুৎফর রহমানকে জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে বৃদ্ধাশ্রমে পুনর্বাসন করা হয়েছে। লুৎফর রহমানের মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র প্রকাশিত হলে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান নিজ উদ্যোগে লুৎফর রহমানের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেন।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে তাকে নতুন পোশাক পরিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য সামগ্রী প্রদান করে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিরাপদ বৃদ্ধাশ্রমে নিয়ে যাওয়া হয়।
রাস্তাঘাট থেকে পলিথিন ও বিভিন্ন পরিত্যক্ত সামগ্রী সংগ্রহ করে তা বিক্রি করে যা আয় হতো, তা দিয়েই জীবিকা নির্বাহ করতেন নীলফামারী সদর উপজেলার কুন্দুপুকুর ইউনিয়নের বাড়োঘড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব লুৎফর রহমান চৌধুরী। থাকতেন রাস্তার পাশে পলিথিন ও খড়কুটো দিয়ে তৈরি একটি ঝুপড়ি ঘরে। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে এমন মানবেতর জীবনযাপন করতেন তিনি। নীলফামারী সদর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের ডোমার সড়কসংলগ্ন নটখানা এলাকায় একটি বাউন্ডারি দেয়ালের পাশে পলিথিন, ছেঁড়া ব্যানার ও খড়কুটো দিয়ে তৈরি ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করতেন তিনি।
জানা যায়, লুৎফর রহমান চৌধুরী সদর উপজেলার কুন্দুপুকুর ইউনিয়নের মৃত ছলি মামুদ চৌধুরীর ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা নবিজুল ইসলাম বলেন, জেলা প্রশাসকের এ মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। এটি শুধু একজন অসহায় বৃদ্ধের পুনর্বাসন নয়, বরং মানবিক দায়িত্ববোধ, সামাজিক সচেতনতা এবং গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকারও একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিরাপদ বৃদ্ধাশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা সাজেদুর রহমান সাজু বলেন, জেলা প্রশাসকের সহযোগিতায় ওই বৃদ্ধকে এই বৃদ্ধাশ্রমে নিয়ে আসা হয়। কোনো বাবা-মা যেন রাস্তায় পড়ে না থাকে। তার থাকা-খাওয়া, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সেবার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও কষ্টের জীবন থেকে মুক্ত হয়ে তিনি এখন নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশে জীবনযাপনের সুযোগ পাবেন।
