

মাসুদ রানা, খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় চুরির মাত্র সাত ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশের অভিযানে প্রায় তিন লাখ টাকা মূল্যের দুটি ফিজিয়ান (বিদেশি) গাভী উদ্ধার করা হয়েছে। একই অভিযানে আন্তঃজেলা গরুচোর চক্রের এক সক্রিয় সদস্য আশরাফুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৫ জুন) সকালে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার রানীগঞ্জ গরুর হাট এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরদিন মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। আটক আশরাফুল ইসলাম গাইবান্ধা জেলার কাজদহ গ্রামের বাসিন্দা এবং মজিবর রহমানের ছেলে।
পুলিশ জানায়, সোমবার ভোরে খানসামা উপজেলার আলোকঝাড়ী ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের মিস্ত্রিপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. হামিদুল ইসলামের বাড়িতে গরু চুরির ঘটনা ঘটে। গভীর রাতে চোরচক্রের সদস্যরা বাড়ির প্রাচীর টপকে ভেতরে ঢুকে মূল ফটকের তালা কেটে গোয়ালঘরে থাকা দুটি ফিজিয়ান গাভী নিয়ে পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী মো. হামিদুল ইসলাম জানান, তিনি রাতে ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার পর ভোরের দিকে ঘুমিয়ে পড়েন। তার ধারণা, ভোর ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে কোনো এক সময় পরিকল্পিতভাবে চুরি সংঘটিত হয়। সকালে তার স্ত্রী মোছা. শিউলী বেগম গোয়ালঘরে গিয়ে গরু না দেখে চিৎকার করলে পরিবারের সদস্যরা ছুটে আসেন। পরে তারা বাড়ির গেটের তালা কাটা এবং গোয়ালঘর খালি দেখতে পান।
খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও গরু দুটির সন্ধান না পেয়ে ভুক্তভোগী খানসামা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার পরপরই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয় খানসামা থানা পুলিশ। এসআই রুস্তম আলীর তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি, স্থানীয় সূত্র ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে পুলিশ জানতে পারে, চুরি হওয়া গরু দুটি দ্রুত বিক্রির উদ্দেশ্যে অন্য এলাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আটক আশরাফুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে আন্তঃজেলা গরুচোর চক্রের সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় গরু চুরিসহ একাধিক মামলার তথ্য রয়েছে। চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
উদ্ধার হওয়া গরুর মধ্যে একটি সম্পূর্ণ কালো রঙের ফিজিয়ান গাভীর আনুমানিক মূল্য এক লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং অপর কালো-সাদা ছোপযুক্ত গাভীর মূল্য প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার টাকা। দুটি গরুর মোট বাজারমূল্য প্রায় তিন লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চুরির অল্প সময়ের মধ্যেই গরু উদ্ধার এবং অভিযুক্তকে আটক করায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এলাকাবাসীর মতে, সাম্প্রতিক সময়ে গরু চুরির ঘটনায় খামারিরা উদ্বিগ্ন থাকলেও পুলিশের এই দ্রুত অভিযানে তাদের আস্থা আরও বেড়েছে।
খানসামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল বাছেত সরদার বলেন, “গরু চুরির খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিই। এসআই রুস্তম আলীর নেতৃত্বে একটি টিম দ্রুত অভিযান চালিয়ে গরু উদ্ধার ও একজন অভিযুক্তকে আটক করতে সক্ষম হয়।”
তিনি আরও বলেন, “আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জনগণের জানমাল রক্ষায় খানসামা থানা পুলিশ সবসময় তৎপর।”
পুলিশ জানায়, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে উদ্ধার হওয়া গরু দুটি প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পাশাপাশি আন্তঃজেলা গরুচোর চক্র নির্মূলে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
চুরির মাত্র সাত ঘণ্টার মধ্যে গরু উদ্ধার ও অভিযুক্তকে আটক করার ঘটনাকে খানসামা থানা পুলিশের একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তারা আশা করছেন, এ ধরনের তৎপরতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে গরুচোর চক্রের দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমে আসবে।
