

মোঃ ইব্রাহীম মিঞা, বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ মহাসড়কের বিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক ও মোড়ে স্থাপিত গাইড পিলার, প্রতিফলক (রিফ্লেক্টিভ) চিহ্ন এবং নিরাপত্তা সরঞ্জামগুলো অযত্ন-অবহেলায় কার্যকারিতা হারাতে বসেছে। কোথাও ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে গাইড পিলার, সতর্কীকরণ চিহ্ন এছাড়াও কোথাও আবার প্রতিফলক চিহ্ন নষ্ট হয়ে গেছে বা খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ফলে বিশেষ করে রাতের বেলায় এবং বৈরী আবহাওয়ায় চালকদের জন্য সড়কের বাঁক ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এতে দিন দিন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দা খৈয়ম বলেন, মহাসড়কের বিভিন্ন বাঁকে স্থাপিত রিফ্লেক্টিভ গাইড পিলারগুলো দীর্ঘদিন ধরে ঝোপঝাড়ে আচ্ছাদিত হয়ে রয়েছে। অনেক পিলারের প্রতিফলক নষ্ট হয়ে গেছে, আবার কিছু স্থানের প্রতিফলক দুর্বৃত্তরা খুলে নিয়ে যাওয়ায় রাতের অন্ধকারে এগুলো আর দৃশ্যমান হয় না। এছাড়াও গাছের ডাল পালা দিয়ে অনেক সতর্কীকরণ চিহ্নগুলো ঢেকে যাওয়ায় চালকদের নজরে আসে না। ফলে অপরিচিত চালকরা বাঁক ও রাস্তার পাশে কোন ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অথবা পার্শ্ব রাস্তা সম্পর্কে আগাম ধারণা না পেয়ে দুর্ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছেন।
স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আসাদুজ্জামান মুক্তা জানান, গত বছর মহাসড়কের একটি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে গাইড রেল (গার্ডরেল) ভেঙে কয়লাবোঝাই একটি ট্রাক নিচে পড়ে যায়। ওই ঘটনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়। এরপরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ তাদের।
এদিকে টাটাকপুর মোড়ও বর্তমানে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয় পথচারী আলতাফ হোসেন বলেন, মহাসড়ক সংলগ্ন তিন মাথা মোড় সংযোগ সড়ক ঢালু (স্লোপিং) এবং সড়কের নকশাগত সীমাবদ্ধতার কারণে পশ্চিম দিক থেকে আসা যানবাহনগুলো তুলনামূলক বেশি গতিতে মহাসড়কে প্রবেশ করে। ফলে রাস্তা পারাপারের সময় ছোট যানবাহন, মোটরসাইকেল ও পথচারীরা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন। অন্যদিকে ধীরগতির যানবাহনগুলো মহাসড়কে উঠতে গিয়ে প্রায়ই গতি তুলতে না পেরে পিছিয়ে যাওয়ার (ব্যাক রান) পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতে পেছন থেকে আসা দ্রুতগতির যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষের আশঙ্কা বেড়ে যায়। এই কারণে অতীতেও একাধিক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
সাম্প্রতিক দুই দিনের ব্যবধানে টাটাকপুর মহাসড়কের প্রায় একি স্থানে দুটি প্রাণহানির ঘটনা ঘটায় এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। তারা অবিলম্বে ঝোপঝাড় পরিষ্কার, ক্ষতিগ্রস্ত গাইড পিলার ও রিফ্লেক্টর প্রতিস্থাপন, গাইড রেল মেরামত এবং টাটাকপুর মোড়সহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অ্যাডভোকেট শাহনেওয়াজ শুভ বলেন, মহাসড়কের পাশে সাধারণ মানুষের চলাচলের যে ফুটপাতের ব্যবস্থা এটা নেই। দিনাজপুর সড়ক বিভাগ সম্প্রতি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেও দেখা যায় যে, পুনরায় ঐ জায়গাগুলো আবার তারা দখলে নেয়। এবিষয়ে সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে দিনাজপুর–গোবিন্দগঞ্জ মহাসড়কের ফুলবাড়ী সড়ক উপ-বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আমানউল্লাহ আমান মুঠোফোনে জানান, সড়কের গাইড পিলার ও আশপাশের ঝোপঝাড় নিয়মিত পরিষ্কার করা হলেও আগাম বৃষ্টিপাতের কারণে দ্রুত জঙ্গল বেড়ে যাওয়ায় এবার তা করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নজরে আনার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গার্ডরেল টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মেরামত করা সম্ভব হবে।
বিরামপুর পৌর শহরের ব্যস্ততম তিনমাথা মোড় (ঢাকা মোড়) এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই যানজট নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, যত্রতত্র অটোরিকশা দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো এবং সড়কের ওপর বাস থামিয়ে যাত্রী তোলার কারণে যানজট আরও তীব্র আকার ধারণ করছে। এছাড়া অবৈধ পার্কিং ও উচ্ছেদের পর পুনরায় ফুটপাত ও সড়কের পাশে দোকানপাট বসে যাওয়ায় পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। নির্ধারিত গতিসীমা উপেক্ষা করে অনেক যানবাহন দ্রুতগতিতে চলাচল করায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম সরকার বলেন, দিনাজপুর থেকে বিরামপুর, হাকিমপুর, নবাবগঞ্জ ও ঘোড়াঘাট উপজেলার দূরত্ব তুলনামূলক বেশি হওয়ায় ট্রাফিক সার্জেন্টরা নিয়মিত আসতে পারেন না। তবে তারা মাঝে-মধ্যে এসে অভিযান পরিচালনা ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। পাশাপাশি স্থানীয় পুলিশও সুযোগ অনুযায়ী বিষয়গুলো তদারকি করে থাকে।
এ বিষয়ে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা, অবৈধ পার্কিং, ফুটপাত দখল, উচ্ছেদকৃত স্থান পুনর্দখল এবং সড়কে গতিনিয়ন্ত্রণে উপজেলা ও পৌর প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিনা খাতুন বলেন, “বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। এগুলো আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপস্থাপন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
