

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সদস্য এবং আপ বাংলাদেশের চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আহবায়ক কমিটির সদস্য তাহমিদ উল্ল্যাহ হত্যার ঘটনায় পরিবারের করা মামলায় জাহেদুল ইসলাম প্রকাশ চাকমা জাহেদ (২০) নামে এক ছাত্রদল কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার জাহেদ উপজেলার ৩ নম্বর জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর সোনাপাহাড় এলাকার দানা মিয়া সর্দার বাড়ির মৃত ইউসুফের ছেলে। রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুরে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান।
জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ জানান, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খাঁনের নির্দেশনায় জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী নাজমুল হকের নেতৃত্বে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলের আশপাশে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনাপূর্বক ঘটনার সাথে জড়িত কতিপয় আসামীকে শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত আসামী জাহিদুল ইসলামকে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের তাজপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেন।
এদিকে গ্রেপ্তার জাহিদুল ইসলামের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেখা যায় সে ছাত্রদলের কোন পদপদবীতে না থাকলে ও ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সভা-সমাবেশ ও ধানের শীষের গনসংযোগে সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী নাজমুল হক বলেন, ‘আসামীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাহমিদ হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। গ্রেফতার আসামীসহ অভিযান পরিচালনা করে আসামীর দেখানো মতে বারইয়ারহাট পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জামালপুর এলাকার রবিউল হক সওদাগর বাড়ীর সামনে পাকা রাস্তার দক্ষিণ পাশে পানির ড্রেন থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ১ টি চাপাতি উদ্ধার করা হয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘আসামীকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তথ্য প্রযুক্তি এবং ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনায় জড়িত বাকিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলমান রয়েছে।’
নিহত তাহমিদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় আছে কিনা জিজ্ঞেস করলে ওসি বলেন, ‘তাহমিদের পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে এবং পুলিশ এ বিষয়ে নজর রাখছে।’
প্রসঙ্গত, গত বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় হিঙ্গুলী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জুবায়ের বারইয়ারহাট পৌরসভার একটি দোকানে পায়ের উপর পা তুলে বসেছিলেন। এসময় দোকানে আসেন বারইয়ারহাট পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক নজরুল ইসলাম লিটন। তাকে দেখে জুবায়ের পা নামিয়ে না বসায় লিটন জুবায়েরকে লাথি মারে। এরপর উভয় পক্ষ বাকবিতন্ডায় জড়ায়। পরবর্তীতে লিটন ও জুবায়ের নিজ নিজ এলাকা জামালপুর ও হিঙ্গুলীর লোকজন নিয়ে আসলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে নিহত জুলাই যোদ্ধা তাহমিদসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত তাহমিদকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে বারইয়ারহাট জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১ টার সময় তার মৃত্যু হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার রাত ১০ টায় জানাযা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) তাহমিদের মা বিবি জোহরা বাদি হয়ে অজ্ঞাত ১০-১৫ জনকে আসামি করে জোরারগঞ্জ থানায় মামলা (নং-৫) দায়ের করেন।
এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ ও নিন্দা জানিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আপ বাংলাদেশ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন করার পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি তুলেন।

