

দেশের সব বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও অন্যান্য অপারেশনাল কার্যক্রমে বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ত হওয়া এবং এর ফলে বিমানবন্দরের নিরাপত্তার শঙ্কা নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্দেশনা জারি করেছে বেবিচক।
জানা গেছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কাতার এয়ারওয়েজের সঙ্গে বিভিন্ন সেবা প্রদানের একটি চুক্তি করে প্রতিষ্ঠানটি। এই গোপন চুক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে বিভিন্ন ধরনের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অথচ বাংলাদেশে বাণিজ্যিক আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা পরিচালনার আইনগত অনুমোদন ও লাইসেন্স রয়েছে কেবল রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের। এমন পরিস্থিতিতে ওই প্রতিষ্ঠানটির কোনো আইনগত ভিত্তি, লাইসেন্স বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের মাধ্যমে এ ধরনের সেবার চুক্তি করেছে, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা অন্যের ডিউটি পাস ব্যবহার করে সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ, ডিউটির বাইরে এয়ারসাইডে অবস্থান এবং অননুমোদিতভাবে প্রটোকল দেওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষও।
এসব বিষয়ে গত ২ জুলাই ‘গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততায় উদ্বেগ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এর পর শুরু হয় তোলপাড়; নড়েচড়ে বসে বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। সব বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এবং অন্যান্য অপারেশনাল সার্ভিসের জন্য বেবিচকের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করাসহ বেশ কিছু শর্ত আরোপ করে গত সোমবার একটি অফিস অর্ডার জারি করে বেবিচক। বাংলাদেশি মালিকানাধীন ৪২টি এয়ালাইন্সের জিএসএ (জেনারেল সেলস্্ এজেন্ট) বরাবর এই অফিস আদেশের চিঠি পাঠায় বেবিকের ফ্লাইট স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড রেগুলেশনস বিভাগ।
গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এবং অন্যান্য অপারেশনাল সার্ভিসের জন্য বেবিচক অনুমোদন বাধ্যতামূলকসংক্রান্ত ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বেবিচকের নজরে এসেছে যে, কিছু প্রতিষ্ঠান বেবিচক থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন/লাইসেন্স গ্রহণ না করেই যে কোনো এয়ারলাইন বা এয়ারক্রাফট অপারেটরকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অথবা অপারেশনাল সার্ভিস প্রদান করছে বা প্রদানের ইচ্ছা পোষণ করছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এতদ্দ¦ারা জানানো যাচ্ছে যে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বেবিচকের পূর্বানুমোদন বা বৈধ লাইসেন্স ব্যতিরেকে বাংলাদেশের যে কোনো বিমানবন্দরে কোনো এয়ারলাইন বা এয়ারক্রাফট অপারেটরকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং বা অন্য কোনো অপারেশনাল সার্ভিস প্রদান করতে পারবে না।
চিঠিতে আরও বলা হয়, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এবং/অথবা অন্য কোনো অপারেশনাল সার্ভিস প্রদানের ইচ্ছুক যে কোনো প্রতিষ্ঠানকে কার্যক্রম শুরু করার আগেই বেবিচক থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন বা লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে। এয়ারলাইনস এবং এয়ারক্রাফট অপারেটরদের যে কোনো গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এবং অপারেশনাল কার্যক্রমের জন্য শুধু বেবিচক কর্তৃক যথাযথভাবে অনুমোদিত/লাইসেন্সপ্রাপ্ত সংস্থাকে নিয়োজিত করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
এতে আরও বলা হয়, এই নির্দেশনার যে কোনো লঙ্ঘন অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অ্যাক্ট, ২০১৭ এবং অন্যান্য প্রযোজ্য এভিয়েশন আইন ও বিধিবিধানের বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যার মধ্যে উপযুক্ত আইনগত ব্যবস্থা ও শাস্তি আরোপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে কঠোরভাবে এই নির্দেশনা পরিপালন নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ করা হলো।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি কার্যক্রম। এ কাজে যুক্ত প্রতিটি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের যথাযথ লাইসেন্স, নিরাপত্তা ছাড়পত্র, প্রশিক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন থাকা বাধ্যতামূলক। অনুমোদনহীন কোনো প্রতিষ্ঠান এ ধরনের কার্যক্রমে যুক্ত হলে তা শুধু আইন লঙ্ঘনের বিষয় নয়; বিমানবন্দরের নিরাপত্তা, যাত্রী ও উড়োজাহাজের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল ব্যবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। শুধু আইন নয়, আইনের বাস্তবায়নও জরুরি। আর চিঠি ইস্যুর মাধ্যমে সীমাবদ্ধ না থেকে তদারকিও বাড়াতে হবে। তা হলেই এই সমস্যা থেকে উত্তোরণ সম্ভব হবে।
