

অভিনয় থেকে রাজনীতিতে আসা তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগম (টিভিকে)-এর জন্য এক বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা হতে যাচ্ছে আজকের আস্থা ভোট। খুবই অল্প ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও শেষ পর্যন্ত বিজয়ের সরকার আস্থা ভোটে টিকে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকেই।
আজ বুধবার বিজয়ের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বিধানসভা বৈঠক নিয়ে এমন তথ্য জানা গেছে ভারতীয় সংবাদসংস্থা এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে।
তামিলনাড়ু বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন। বর্তমানে বিজয়ের টিভিকের বিধায়ক সংখ্যা ১০৭। কারণ, বিজয় যে দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, তার একটি থেকে তিনি পদত্যাগ করেন।
এদিকে, টিভিকের জোটসঙ্গী কংগ্রেসের রয়েছে ৫ জন বিধায়ক। এছাড়া সিপিআই, সিপিএম, আইইউএমএল এবং ভিডিসিকের আটজন বিধায়কের সমর্থন মিলিয়ে বিজয়ের সরকারের পক্ষে সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ১২০।
তবে এই সমীকরণে অনিশ্চয়তার একটি বড় কারণ হলেন বিধায়ক শ্রীনিবাসা সেতুপতি। এক ভোটের ব্যবধানে তার জয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী ডিএমকের প্রার্থী। পরে মাদ্রাজ হাইকোর্ট তাকে আস্থা ভোটে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখে। বর্তমানে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন এবং আজই এ মামলার শুনানি হওয়ার কথা।
যদি সুপ্রিম কোর্ট তার বিরুদ্ধে রায় দেয়, তাহলে টিভিকের সমর্থন সংখ্যা কমে ১১৯-এ নেমে আসবে। তবুও তা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১১৮ এর তুলনায় বেশি থাকবে।
এদিকে রাজনৈতিক নাটকে নতুন মোড় এনে দিয়েছে এআইএডিএমকের ৩০ জন বিদ্রোহী বিধায়কের সমর্থনের ইঙ্গিত। তারা আজ বিজয়ের সঙ্গে বৈঠকও করেছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে তারা এখনও এআইএডিএমকের সদস্য এবং সরাসরি বিজয়ের পক্ষে ভোট দিতে পারবেন না, তবে তারা ভোটদানে বিরত থাকতে পারেন। সেক্ষেত্রে উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যের সংখ্যা কমে যাবে, যা বিজয়ের সরকারের পক্ষে সুবিধাজনক হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিদ্রোহ শুধু আস্থা ভোটকে ঘিরে নয়, বরং এআইএডিএমকের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়েও। বিদ্রোহী বিধায়কেরা বর্তমান দলনেতা ই পালানিস্বামীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, পালানিস্বামী ডিএমকের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করছেন, যা এআইএডিএমকের আদর্শের পরিপন্থী। যদিও পালানিস্বামী ও ডিএমকে উভয়েই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সব মিলিয়ে, আজকের আস্থা ভোটে বিজয়ের সরকার টিকে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল হলেও, তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে ভবিষ্যত জোট রাজনীতি ও এআইএডিএমকের অভ্যন্তরীণ সংঘাত।

