

রাশিয়া বিশ্বের সবচেয়ে বিধ্বংসী ও শক্তিশালী আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) ‘সারমাত’র সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। মঙ্গলবার (১২ মে) দূরপাল্লার এই অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রটির পরীক্ষা চালানো হয় বলে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে।
পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ৩৫ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই সফল উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে রাশিয়া তাদের সামরিক সক্ষমতার এক নতুন উচ্চতা প্রদর্শন করল, যা বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
ক্ষেপণাস্ত্রটির সফল পরীক্ষার পর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এক বিবৃতিতে জানান, ‘সারমাত’ বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। তিনি দাবি করেন, পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক বাহিনীর হাতে থাকা যেকোনো ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় এটি কয়েকগুণ বেশি শক্তিশালী এবং অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন মারণাস্ত্র বহনে সক্ষম।
পুতিন আরও ঘোষণা করেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ‘সারমাত’ আনুষ্ঠানিকভাবে রুশ সেনাবাহিনীর যুদ্ধকালীন দায়িত্বে মোতায়েন করা হবে। তাঁর মতে, এই নতুন মারণাস্ত্র রাশিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং যেসব রাষ্ট্র মস্কোকে হুমকি দেওয়ার চেষ্টা করছে, তারা পদক্ষেপ নেওয়ার আগে দ্বিতীয়বার ভাবতে বাধ্য হবে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সারমাতের এই পরীক্ষা আন্তর্জাতিক সামরিক ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন ও নতুন উত্তজনা তৈরি করতে পারে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও উত্তর কোরিয়ার মতো শক্তিশালী দেশগুলোর কাছে প্রায় ১২ হাজার কিলোমিটার পাল্লার আইসিবিএম প্রযুক্তি রয়েছে।
রাশিয়ার দাবি সত্য হলে ‘সারমাত’ সেই সক্ষমতাকে বহুগুণ ছাড়িয়ে প্রায় ৩৫ হাজার কিলোমিটার পাল্লা অতিক্রম করতে সক্ষম, যা কার্যত বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের লক্ষ্যবস্তুকে তছনছ করে দিতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এই শক্তি প্রদর্শন বৈশ্বিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে নিবিড় গবেষণার পর রাশিয়া এই ‘সারমাত’ ক্ষেপণাস্ত্রটি তৈরি করেছে। একাধিক ধাপে সফল পরীক্ষার পর এখন এটি রাশিয়ার সামরিক শক্তির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে যুক্ত হতে যাচ্ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স উল্লেখ করেছে, রাশিয়ার এই পদক্ষেপ পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য একটি কঠোর সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাশিয়ার সামরিক প্রযুক্তির এই অভাবনীয় উন্নয়ন আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের আধিপত্য আরও সুসংহত করবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: রয়টার্স

