

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের চিলমারীতে দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে ভূমি সেবার সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছে ভূমি অফিসের সেবাগ্রহীতারা। সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর আইডি না হওয়ায় অনলাইনে নামজারি(মিউটেশন) ও ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) প্রদানসহ নানা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে জমি দলিল সংশ্লিষ্ট কাজ করতে না পেরে চরম বিপাকে পড়েছেন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে অসুবিধায় পড়েছেন দুর্গম চরাঞ্চল থেকে সেবা নিতে আসা সেবাগ্রহীতারা।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে চিলমারী উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদটি শুন্য থাকায় অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসাবে সহকারী কমিশনার (ভূমি)’র দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। পূর্ববর্তী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বদলীর পর গত ১৫ মার্চ তারিখে যোগদান করেন বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার। তিনি যোগদানের পর দীর্ঘ ২ মাসেও এসিল্যান্ডের আইডি করেননি। আইডি না হওয়ায় নামজারি, মিস কেস, ভুল দাগ সংশোধন, ভুল খাজনা সংশোধনসহ ভূমি সেবার যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে দীর্ঘ ২ মাস যাবত ভূমি সেবা সংক্রান্ত কাজে ব্যাপক হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে উপজেলার সাধারণ সেবা গ্রহীতাদের। বিশেষ করে অসুবিধায় পড়েছেন দুর্গম চরাঞ্চল থেকে সেবা নিতে আসা সেবা গ্রহীতারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জমি কেনা-বেচা বা জরুরি প্রয়োজনে খতিয়ান হালনাগাদ করতে নামজারি অত্যাবশ্যক। কিন্তু প্রায় দুই মাস ধরে অনলাইনে সকল প্রকার আবেদন প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন অনেকে। এদিকে, বর্তমানে অনলাইনে খাজনা পরিশোধ বাধ্যতামূলক করা হলেও এসিল্যান্ডের আইডি না থাকার অজুহাতে সাধারণ মানুষ তাদের ভূমি কর পরিশোধ করতে পারছেন না। ফলে বকেয়া বাড়ছে এবং জমি সংক্রান্ত আইনি কাজে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষগুলো দিনের পর দিন উপজেলা ভূমি অফিসে ঘুরেও কোনো সমাধান পাচ্ছেন না।
নজরুল ইসলাম নামে এক ভূক্তভোগী জানান, মায়ের চিকিৎসার জন্য তিনি জমি বিক্রি করেছেন। কিন্তু জমি গ্রহীতাকে দলিল করে দিতে না পারায় তার মায়ের চিকিৎসা প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী কম্পিউটার দোকানী সোনা মিয়া বলেন, ডিজিটাল সেবার নামে চিলমারীর মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। প্রায় দুই মাস ধরে একটি সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পোর্টাল বন্ধ থাকা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অফিসের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও শুধু 'সার্ভারে সমস্যা' বা আইডি নেই এমন কথা শুনতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান জানান, ভূমি সেবা কার্যক্রমের জন্য এসিল্যান্ডের একটি আইডি করতে হয় যা ঢাকা থেকে হয়। একটু জটিলতার কারণে এখনও এসিল্যান্ডের আইডিটি হয়নি। আসা করছি আগামী সপ্তাহের মধ্যে আইডি হয়ে যাবে।

