

ইন্টারন্যাশনাল লিগ টি-টোয়েন্টিতে দুর্দান্ত পারফর্ম করছেন বাংলাদেশের মোস্তাফিজুর রহমান।রবিবার(২১ ডিসেম্বর) শারজায় গালফ জায়ান্টসকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে দুবাই ক্যাপিটালস। এই জয়ে বড় অবদান রেখেছেন কাটার মাস্টার।
কাটারই ভরসা আর এই কাটার দিয়েই পুরো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। ইন্টারন্যাশনাল লিগ টি-টোয়েন্টিতে (আইএল টি-টোয়েন্টি) এক ওভারের মাত্র চার বলের মধ্যে তিন উইকেট তুলে নিয়ে গালফ জায়ান্টসের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান বাংলাদেশের বাঁহাতি এই পেসার। তাঁর বিধ্বংসী বোলিংয়ে ১৫৬ রানে গুটিয়ে যায় গালফ জায়ান্টস, আর সহজ জয়ে পৌঁছে যায় দুবাই ক্যাপিটালস।
আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় দুবাই ক্যাপিটালস। ইনিংসের শুরুতে নতুন বলে কিছুটা খরুচে ছিলেন মোস্তাফিজ। প্রথম ওভারে তিনি দেন ১৩ রান। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ভয়ংকর রূপ নেন এই ‘কাটার মাস্টার’।
ইনিংসের ১৪তম ওভারে আবার বল হাতে নেন মোস্তাফিজ। তখন গালফ জায়ান্টসের স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ১১০ রান। এই ওভারেই ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। প্রথমে জেমস ভিন্সকে উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ করান তিনি। পরের কয়েক বলের মধ্যেই অফ-কাটারে বোল্ড হয়ে যান দুর্দান্ত ফর্মে থাকা আজমতউল্লাহ ওমরজাই। এরপর নিখুঁত এক ডেলিভারিতে ব্যাটের কানায় বল লাগিয়ে শন ডিকসনকেও সাজঘরের পথ দেখান মোস্তাফিজ।
মাত্র চার বলেই তিন উইকেট হারিয়ে ১১০/৩ থেকে মুহূর্তেই গালফ জায়ান্টসের স্কোর দাঁড়ায় ১১৬/৬। এই ধাক্কা সামলে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি দলটি। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারের আগেই ১৫৬ রানে অলআউট হয় তারা।
মোস্তাফিজ ৩.৫ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে নেন ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। পরিসংখ্যানের বাইরেও তার বোলিংয়ের প্রভাব ছিল স্পষ্ট। এই পারফরম্যান্সের সুবাদেই ম্যাচসেরার পুরস্কার ওঠে তার হাতে। চলতি আসরে সাত ম্যাচে তার উইকেট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ যা তাকে টুর্নামেন্টের অন্যতম সফল বোলারদের কাতারে রেখেছে।
১৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় দুবাই ক্যাপিটালস বড় কোনো বিপদে পড়েনি। ৬ উইকেট হাতে রেখে এবং ৪ বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করে দলটি।এক ম্যাচেই আবারও প্রমাণ হলো মোস্তাফিজুর রহমানের কাটার ঠিকঠাক পড়লে, বিশ্বের যে কোনো ব্যাটিং লাইনআপ মুহূর্তেই এলোমেলো হয়ে যেতে পারে।

