

দক্ষিণ লেবাননের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ৯০০ বছরের পুরোনো বিউফোর্ট দুর্গ দখল করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু এ ঘটনাকে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে নির্ণায়ক পরিবর্তন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলি স্থলবাহিনী লিতানি নদী অতিক্রম করে লেবাননের আরও ভেতরে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননের জাহরানি নদীর দক্ষিণে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে। সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র দাবি করেন, হিজবুল্লাহর সদস্য, স্থাপনা বা সামরিক সরঞ্জামের কাছাকাছি অবস্থান করলে সাধারণ মানুষের জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়বে।
অন্যদিকে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সমষ্টিগত শাস্তি এবং পোড়ামাটি নীতি অনুসরণের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ লেবাননে বেসামরিক জনগণের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করেছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার বলেন, ‘লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা বহু মানুষের প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতি এবং অবকাঠামোর ক্ষতি ডেকে এনেছে।’ তিনি সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি হিজবুল্লাহকেও ইসরায়েলের ওপর হামলা বন্ধ ও নিরস্ত্র হওয়ার আহ্বান জানান।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ অবিলম্বে সব ধরনের অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। ফ্রান্স জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বানের উদ্যোগ নিয়েছে। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাডেফুলও ইসরায়েলি বাহিনীর আরও গভীরে অগ্রযাত্রা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
প্রায় নয়শ বছর আগে ক্রুসেডারদের নির্মিত বিউফোর্ট দুর্গ দীর্ঘদিন ধরে লিতানি উপত্যকা নিয়ন্ত্রণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান হিসেবে পরিচিত। উঁচু পাহাড়ের ওপর অবস্থিত এই দুর্গ অতীতে বহু সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। নেতানিয়াহুর মতে দুর্গটি দখল ইসরায়েলের নিরাপত্তা নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এবং এর মাধ্যমে হিজবুল্লাহ নিয়ন্ত্রিত এলাকায় আরও শক্ত অবস্থান গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
এদিকে দক্ষিণ লেবাননের টাইর শহরের একটি হাসপাতালের আশপাশে বিমান হামলায় অন্তত তেরোজন হাসপাতালকর্মী আহত হওয়ার খবর দিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। হামলায় হাসপাতালটির উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
সীমান্তের অপর পাশে ইসরায়েলি এলাকাগুলোতেও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরকবাহী আকাশযান হামলার আশঙ্কায় কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। ইসরায়েল দাবি করছে, হিজবুল্লাহর হামলা সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন। অন্যদিকে লেবানন বলছে, ইসরায়েলের বিমান হামলাই ওই চুক্তি ভঙ্গ করছে।
