

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধে মুখে ওমান উপকূলের কাছাকাছি নৌপথ ব্যবহার করে গোপনে এই প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ পারাপার করছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’। খবর রুশ সংবাদমাধ্যম আরটির।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত তিন সপ্তাহে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সমন্বয়ে প্রায় ৭০টি বাণিজ্যিক জাহাজ এই কৌশলগত সংকীর্ণ জলপথটি পার হয়েছে। ইরানি বাহিনীর নজরদারি ও সম্ভাব্য হামলা এড়াতে এই জাহাজগুলোর বেশিরভাগই তাদের ট্র্যাকিং সিস্টেম সম্পূর্ণ বন্ধ করে রেখেছিল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলার জবাবে ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথটি ‘শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলোর’ জাহাজের জন্য পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। এর আগে এই পথ দিয়ে বিশ্বের মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ করা হতো।
পরবর্তীতে তেহরান জানায়, কেবল তৃতীয় কোনো দেশের জাহাজ যদি নির্দিষ্ট শুল্ক প্রদান করে এবং ইরানের সামরিক নির্দেশনা মেনে চলে, তাহলেই তারা এই প্রণালি ব্যবহারের অনুমতি পাবে।
গতকাল রবিবার (৩১ মে) ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করে, পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় অনুমতি নিয়ে তাদের নজরদারিতে ২৮টি জাহাজ এই প্রণালি পার হয়েছে।
এর আগে গত এপ্রিল মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজে আটকে পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে পার করার উদ্দেশ্যে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি প্রকাশ্য সামরিক অভিযানের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে তিনি তা স্থগিত করতে বাধ্য হন।
জানা গেছে, সৌদি আরব মার্কিন বাহিনীকে তাদের ‘প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটি’ ব্যবহার করে যুদ্ধবিমান ওড়ানোর অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর ট্রাম্প এই উদ্যোগ থেকে পিছিয়ে আসেন।
তবে প্রকাশ্য অভিযান বন্ধ করলেও যুক্তরাষ্ট্র গোপনে জাহাজ পারাপার সচল রেখেছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের তথ্যমতে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) গত তিন সপ্তাহে এই জলপথ দিয়ে প্রায় ৭০টি বাণিজ্যিক জাহাজের পারাপার সমন্বয় করেছে।
গত ৮ এপ্রিল একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়া সত্ত্বেও এই আন্তর্জাতিক নৌপথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। সংঘাত শুরু হওয়ার আগে এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন যেখানে প্রায় ১৫০টি জাহাজ চলাচল করত, বর্তমানে তা কমে ১০টিরও নিচে নেমে এসেছে।
বর্তমানে এই সংকটের কারণে পারস্য উপসাগরে তেল ও গ্যাস ট্যাংকারসহ প্রায় ১ হাজার ৬০০ থেকে দুই হাজার বাণিজ্যিক জাহাজ আটকা পড়ে আছে। এসব জাহাজে কর্মরত হাজার হাজার নাবিক চরম অনিশ্চয়তা ও মানবিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
