

ভারতের বেসামরিক পারমাণবিক খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে চলতি সপ্তাহে দেশটি সফর করছে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক শিল্প খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের একটি প্রতিনিধি দল। ২০ সদস্যের এই মার্কিন নির্বাহী পারমাণবিক শিল্প প্রতিনিধি দলটি ১৮ থেকে ২১ মে পর্যন্ত নয়াদিল্লি ও মুম্বাই সফর করছেন।
সম্প্রতি ভারত সরকার দীর্ঘদিন ধরে কঠোর নিয়ন্ত্রণে থাকা পারমাণবিক খাতে বেসরকারি অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ত করার পর এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভারতের এই খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ আগ্রহকে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন বিজেপির রাজ্যসভা সদস্য ও কূটনীতিক হর্ষ বর্ধন শ্রীংলা। তিনি বলেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অংশীদারিত্ব হতে পারে ‘গেম চেঞ্জার’।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক জ্বালানি খাতের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বর্তমানে ভারত সফর করছেন, যা দেশটির প্রতি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন।
শ্রিংলা আরও বলেন, বর্তমানে ভারতের পারমাণবিক জ্বালানি সক্ষমতা ৮ দশমিক ৮ গিগাওয়াট। নতুন আইনের মাধ্যমে দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগের জন্য একটি কাঠামো তৈরি হয়েছে, যার মাধ্যমে ২০৪৭ সালের মধ্যে এ সক্ষমতা ১০০ গিগাওয়াটে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ভারতের অর্থনীতি দ্রুতগতিতে সম্প্রসারিত হচ্ছে। ফলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন ‘বেসলোড’ বিদ্যুতের প্রয়োজন রয়েছে, যা পারমাণবিক জ্বালানি সবচেয়ে কার্যকরভাবে সরবরাহ করতে সক্ষম।
শ্রিংলা বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রাষ্ট্রদূত থাকাকালে মার্কিন পারমাণবিক কোম্পানিগুলোর জন্য ভারতে বিনিয়োগের উপযোগী নীতিগত ও নিয়ন্ত্রক পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, সংসদে ‘শান্তি বিল’ উত্থাপনের সময় তিনি এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন এবং বিলটিকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। বর্তমানে এটি ‘শান্তি আইন’ হিসেবে কার্যকর হয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালের নিউক্লিয়ার লায়াবিলিটি অ্যাক্টে যে সীমাবদ্ধতা ছিল, নতুন আইন তা অনেকাংশে দূর করেছে। একই সঙ্গে ভারত প্যারিস কনভেনশনের সঙ্গে নিজেদের নীতিকে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করেছে এবং দেশীয় ও বিদেশি বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য একটি নতুন কাঠামো তৈরি করেছে।
তিনি আরও বলেন, ভারতের পারমাণবিক জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের সুযোগ খতিয়ে দেখতে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সফর অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। এটি ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে পারমাণবিক জ্বালানি খাতের গুরুত্বকে তুলে ধরে।
বিনিয়োগের বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে শ্রিংলা বলেন, এ খাতে কিছু মৌলিক নীতিমালা ও পরিচালন কাঠামো এখনো নির্ধারণ করা প্রয়োজন। প্রতিনিধি দলটি ইতোমধ্যে নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট খাতের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। তিনি বলেন, এই সফর ভারত সরকার ও মার্কিন শিল্পখাত—উভয় পক্ষের আগ্রহেরই প্রতিফলন।

