

দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে বিচ্ছিন্ন জনপদ ‘ট্রিস্তান দা কুনহা’। সেখানে একজন মুমূর্ষু ব্রিটিশ নাগরিকের প্রাণ বাঁচাতে এক রুদ্ধশ্বাস ও ঐতিহাসিক উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে ব্রিটিশ সামরিক বাহিনী। দ্বীপটিতে যাতায়াতের জন্য কোনো রানওয়ে না থাকায় শেষ পর্যন্ত প্যারাশুট নিয়ে আকাশ থেকেই সেখানে অবতরণ করতে হয়েছে চিকিৎসক ও প্যারাট্রুপারদের।
অক্সফোর্ডশায়ারের বিমানঘাঁটি থেকে যাত্রা শুরু করে ব্রিটিশ বিমানবাহিনীর একটি বিশালাকায় কার্গো বিমান।
দ্বীপের ওপর পৌঁছানোর পর বিমান থেকে অত্যাবশ্যকীয় অক্সিজেন সিলিন্ডার ও জীবন রক্ষাকারী ওষুধসহ ঝাঁপ দেন ছয়জন প্যারাট্রুপার ও দুইজন অভিজ্ঞ সামরিক চিকিৎসক।
রয়টার্সের প্রতিবেদন মতে, গত এপ্রিলের মাঝামাঝিতে একটি প্রমোদতরি এই দ্বীপে নোঙর করার পর এক ব্রিটিশ যাত্রী ‘হান্টাভাইরাসে’ আক্রান্ত হন। গত ২৮ এপ্রিল থেকে তার শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি ঘটে। মাত্র ২০০ বাসিন্দার এই দ্বীপে চিকিৎসার সরঞ্জাম অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় বিশেষ করে অক্সিজেনের চরম সংকট দেখা দেয়।
সমুদ্রপথে সেখানে পৌঁছাতে অন্তত ছয় দিন সময় লাগত, কিন্তু রোগীর অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দ্রুততম সময়ে আকাশপথে সাহায্য পাঠানোর এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেয়।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মানবিক সাহায্য ও চিকিৎসার প্রয়োজনে এভাবে প্যারাশুট জাম্পের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ কর্মী মোতায়েনের ঘটনা এটিই প্রথম। কোনো বিমানবন্দর না থাকায় এবং জরুরি মুহূর্ত হওয়ায় সরাসরি আকাশপথকেই বেছে নেওয়া হয়। ১৬ এয়ার অ্যাসল্ট ব্রিগেডের ব্রিগেডিয়ার এড কার্টরাইট জানান, অত্যাধুনিক সরঞ্জাম ও চিকিৎসকদের এই সাহসী পদক্ষেপ দ্বীপবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়েছে।
বর্তমানে আক্রান্ত ওই ব্যক্তিকে আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।

