

প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে না পারায় আজ শনিবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারছেন না থালাপতি বিজয়। রাজ্যটির রাজ্যপাল আর ভি আরলেকারের দপ্তরের সূত্র জানিয়েছে, ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন তিনি প্রমাণ করতে এখনও পারেননি।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাছি (ভিসিকে), আম্মা মাক্কাল মুন্নেত্র কাজাগাম (এএমএমকে) এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের (আইইউএমএল) সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করেছিল বিজয়ের দল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেই সমীকরণ ভেঙে যায়। আইইউএমএল স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তারা বিজয়ের নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ নয়। অন্যদিকে এএমএমকে রাজ্যপালের কাছে চিঠি দিয়ে জানায়, তারা বিজয়কে নয়, বরং অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজাগাম (এআইএডিএমকে)–কে সমর্থনের কথা জানিয়ে রাজ্যপালের কাছে চিঠি দিয়েছে।
গত মাসের নির্বাচনে বিজয়ের দল টিভিকে প্রথমবার অংশ নিয়েই বড় চমক দেখায়। ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৮টিতে জয় পেয়ে দলটি দীর্ঘদিনের দুই শক্তিধর রাজনৈতিক শিবির—ডিএমকে ও এআইএডিএমকের আধিপত্যে বড় ধাক্কা দেয়। তবে নির্বাচনী সাফল্যের পরও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করতে না পারায় এখন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় পড়েছে দলটি।
রাজ্যপাল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার নিশ্চয়তা ছাড়া সরকার গঠনের আমন্ত্রণ দেওয়া হবে না। টানা বৈঠকের পরও তিনি নিজের অবস্থান বদলাননি। এমনকি নির্বাচিত বিধায়কদের আনুষ্ঠানিক সমর্থনপত্র জমা দিতেও বলা হয়েছে বিজয়কে।
বর্তমানে বিজয়ের দলের সঙ্গে রয়েছে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের পাঁচজন বিধায়ক। তবে কংগ্রেসের শর্ত ছিল, বিজেপির মতো কোনো সাম্প্রদায়িক দলের সঙ্গে জোট করা যাবে না। এই সিদ্ধান্তের জেরেই দীর্ঘদিনের ডিএমকে-কংগ্রেস জোটে ভাঙন ধরে এবং রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বিজয়ের দল পরে সিপিআই(এম) ও সিপিআইয়ের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে। বাম দল দুটি বাইরে থেকে সমর্থনের আশ্বাস দিলেও সরকারে যোগ দেওয়ার আগ্রহ দেখায়নি। অন্যদিকে কংগ্রেস সমর্থনের বিনিময়ে মন্ত্রিসভায় দুটি মন্ত্রণালয় চেয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
এদিকে রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে ডিএমকে ও এআইএডিএমকের সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়েও জোর গুঞ্জন ছড়ায়। দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও বিজয়ের দ্রুত উত্থান দুই দলকেই অস্বস্তিতে ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদিও শেষ পর্যন্ত আদর্শিক বিরোধের কারণে সেই সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হয়নি।
অন্যদিকে বিজেপি এই পরিস্থিতিতে নিজেদের কোনো ভূমিকা থাকার অভিযোগ নাকচ করেছে। দলটির নেতারা বলছেন, এটি একটি ‘বিভক্ত জনরায়’, আর বিজয় যদি সাংবিধানিকভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে রাজ্যপাল অবশ্যই তাকে সরকার গঠনের সুযোগ দেবেন।

