ঢাকা
logo
প্রকাশিত : April 6, 2026

ইরানের কাছে কতগুলো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আছে, যা বলল ইসরাইল

ইরানের মোট ২,৫০০ ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে এখন মাত্র কয়েকশ অবিশিষ্ট আছে, যা ইসরাইলে আঘাত হানতে সক্ষম। তবে ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ)-এর কিছু সূত্র দ্য জেরুজালেম পোস্টের কাছে স্বীকার করেছে, ইরানের বর্তমান অস্ত্রভাণ্ডার সম্পর্কে আসলে নিশ্চিতভাবে কেউ কিছু জানে না।

গত শনিবার রাতে চ্যানেল ১২-এর একটি প্রতিবেদনে ইসরাইলি বিমান বাহিনীর কর্নেল 'টি' (ছদ্মনাম) দাবি করেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের কাছে এখনো ১,০০০-এর বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। এই তথ্যটি আইডিএফ-এর আগের অনুমানের (কয়েক শত ক্ষেপণাস্ত্র) সম্পূর্ণ বিপরীত।

জেরুজালেম পোস্টের সঙ্গে আলাপকালে সামরিক বাহিনী প্রথমে তাদের আগের অনুমানকেই সমর্থন করেছিল, কিন্তু পরে স্বীকার করে যে সঠিক সংখ্যাটি কারোরই জানা নেই।

ইসরাইলের হামলার পর ইরানের কতগুলো ক্ষেপণাস্ত্র উদ্ধারযোগ্য?

এখন বড় প্রশ্ন হলো, ইসরাইলি হামলার ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে কতটি শেষ পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হবে? এর অনেকগুলো হয়তো ধ্বংস হয়নি, বরং সাময়িকভাবে ইরানের নাগালের বাইরে চলে গেছে।

এই প্রশ্নের গভীরে আরও একটি বিষয় রয়েছে—ধ্বংসস্তূপের ধস কি সামান্য নাকি অনেক বড় আকারের? এর ওপরই নির্ভর করছে ইরান কত দ্রুত বা আদৌ এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আবারও ব্যবহারের উপযোগী করতে পারবে কিনা।

সূত্রের তথ্যমতে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইরান বুলডোজার টিম ও বিশেষ প্রযুক্তি তৈরি করেছে, যা দিয়ে ধসে পড়া ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট বা সাইলো (মিসাইল রাখার বিশেষ ভাণ্ডার) একদিনের কম সময়ের মধ্যেই উদ্ধার করা সম্ভব। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কেবল দীর্ঘমেয়াদী মজুত হিসেবে নয়, বরং স্বল্প সময়ের মধ্যেই পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী হয়ে উঠতে পারে।

ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ যন্ত্র (লঞ্চার) বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা। ইরানের কতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ধ্বংস হয়েছে এবং কতটি মাটির নিচে চাপা পড়ে অকেজো হয়ে আছে, তা নিয়ে আইডিএফ বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছে।

তাদের হিসাবে, ইরানের প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ লঞ্চার অন্তত সাময়িকভাবে অকেজো হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ ধ্বংস হয়েছে এবং বাকি ৫০ শতাংশ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে।

বিভ্রান্তিকর বিষয় হলো, মাঝেমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও আইডিএফ দাবি করেছে যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ৯০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। কিন্তু আবার অন্য সময়ে দেখা গেছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের হার সাময়িকভাবে আবারও বেড়ে গেছে।

যুদ্ধের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার হার কমছে

সাধারণত যুদ্ধের চতুর্থ দিনের মধ্যেই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার হার দৈনিক ২০টির নিচে নেমে আসে এবং সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এটি আরও কমেছে। এই সব অমিমাংসিত প্রশ্নের কারণে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারে আসলে ঠিক কতটি ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট আছে, তার সুনির্দিষ্ট সংখ্যা বের করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এতসব প্রশ্ন থাকা সত্ত্বেও কিছু নির্দিষ্ট সংখ্যা এই পরিস্থিতি বুঝতে সাহায্য করে। উদাহরণস্বরূপ, ইসরাইল জানে যে ইরান তাদের লক্ষ্য করে ৫০০-র বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। অন্যদিকে উপসাগরীয় দেশগুলো জানিয়েছে, ইরান তাদের ওপর সব মিলিয়ে প্রায় ১,৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

আইডিএফ-এর দাবি অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর সময় ইরানের কাছে প্রায় ২,৫০০ ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। সেই হিসেবে ইসরাইলি বাহিনী একটি ক্ষেপণাস্ত্রও ধ্বংস না করলেও এখন ইরানের হাতে ৭০০-র কম ক্ষেপণাস্ত্র থাকার কথা। আর আইডিএফ যদি অন্তত কয়েক শ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে থাকে, তবে ইরানের হাতে এখন মাত্র কয়েক শত ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট আছে।

তবে এখনো একটি সম্ভাবনা রয়ে গেছে যে, আইডিএফ যুদ্ধ শুরুর সময় ইরানের মোট ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা কম অনুমান করেছিল। এর আগেও এমনটি ঘটেছে—২০২৫ সালের জুনে আইডিএফ বলেছিল ইরানের কাছে ২,৫০০ ক্ষেপণাস্ত্র আছে, কিন্তু কয়েক মাস পর তারা সেই সংখ্যা সংশোধন করে ৩,০০০ বলেছিল।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram