

আবু হেনা সাকিল, রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম সাইমন স্ট্রোক করে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। স্ট্রোকে আক্রান্ত সাইমনের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে তাকে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সযোগে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।
রবিবার (৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের হোস্টেলসংলগ্ন খেলার মাঠ থেকে তাকে ঢাকার উদ্দেশে পাঠানো হয়। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ উদ্যোগ নেয়।
এর আগে শনিবার রাতে ছাত্রাবাসে অবস্থানকালে হঠাৎ স্ট্রোক করেন সাইমন। বিষয়টি জানাজানি হলে তাকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
রাবির আইবিএর প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম সায়মনের সহপাঠী সৌরভ বলেন, আমার বন্ধু জাহিদুল ইসলাম সায়মন সকালে ঘুমাচ্ছিল। ঘুমের মধ্যে সে খাট থেকে পড়ে যায়। প্রথমে আমরা কিছু বুঝতে পারিনি। পরে দেখি তার শরীর শক্ত হয়ে গেছে। তখন তাকে তুলে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাই এবং ইমার্জেন্সিতে ভর্তি করাই। প্রথমে আমরা বুঝতে পারছিলাম না তার কী সমস্যা হয়েছে।
পরে সিনিয়র ভাই ও শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করি। স্যাররা দেখে জানান, সে স্ট্রোক করেছে। এর আগেও সে দুইবার স্ট্রোক করেছিল। এরপর স্যাররা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাকে দ্রুত আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে এখানে তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অপারেশন সম্ভব না হওয়ায় আজ তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, আমাকে জানানোর পর তৎক্ষনাৎ আমরা আইসিইউ'র ব্যবস্থা করি। ডাক্তার যারা ছিলেন তারা দেখাশোনা করেছেন। ওনারা এনালাইসিস করে বলেছিলেন যে আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ঢাকায় স্থানান্তর করা দরকার। রাজধানীর নিউরোসায়েন্স হসপিটালে ভালো চিকিৎসা আছে। এটি বাই রোডে রিস্ক হয়ে যায়, আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম এয়ারে করে ঢাকায় স্থানান্তর করবো। শিক্ষার্থীদের বলবো তার জন্য সবাই দোয়া করবেন। সে যেন সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এরূপ কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। পরিবার থেকে দূরে থাকা শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বর্তমান অভিভাবক হিসাবে দেখছেন।
