

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, উপকূলীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে মোংলায় ৫ হাজার গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন'র কারিগরি সহায়তায় এবং গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ড'র অর্থায়নে 'নবলোক পরিষদ'র বাস্তবায়নে এসব চারা বিতরণ করা হয়।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মোংলা উপজেলার চিলা, মিঠাখালী, চাঁদপাই ও সুন্দরবন ইউনিয়নের ৫শ উপকারভোগীর প্রত্যেককে ১০টি করে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা/কলম প্রদাণ করা হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে ২টি নারিকেল, ২টি সুপারি, ২টি সফেদা, ২টি কদবেল ও ২টি নিমগাছের চারা। পাশাপাশি চারার সুরক্ষা ও গাছের পরিচর্যার সুবিধার্থে প্রত্যেককে ২৭ গজ করে মোট ১৩,৫০০ গজ ব্লু-নেট সরবরাহ করা হয়েছে।
সোমবার চাঁদপাই ও চিলা ইউনিয়নের ২৩০ জন নির্বাচিত উপকারভোগীদের মাঝে চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন হাওলাদার পনি। এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জিসিএফ-আরএইচএল প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী কাজী তোবারক হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবু হোসেন হাওলাদার পনি বলেন, উপকূলীয় মোংলা অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিভিন্ন প্রভাব মোকাবিলায় বাড়ির আঙ্গিনা ও বসতভিটায় বৃক্ষরোপণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণের মাধ্যমে একদিকে যেমন বসতভিটার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য উন্নত হবে, অন্যদিকে ভবিষ্যতে ফল ও কাঠজাত সম্পদের মাধ্যমে উপকারভোগীদের অতিরিক্ত আয় ও খাদ্য নিরাপত্তার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
নবলোক পরিষদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, জিসিএফ-আরএইচএল (GCF-RHL) প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো উপকূলীয় অতিদরিদ্র ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবন ও সম্পদের ঝুঁকি কমানো এবং জলবায়ু সহনশীল ও টেকসই জীবন-জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি করা। বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যা এ লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ একটি কার্যক্রম।
বিতরণ করা চারাগুলো যথাযথভাবে রোপণ, পরিচর্যা ও সংরক্ষণের মাধ্যমে একটি সবুজ, নিরাপদ ও জলবায়ু সহনশীল বসতভিটা গড়ে উঠবে বলে আশা করছেন প্রকল্পের উপকারভোগী ও সংশ্লিষ্টরা।
