

হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি: নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার বিভিন্ন নৌ-ঘাটে ইজারাদারদের বিরুদ্ধে নির্ধারিত শুল্কের বাইরে অতিরিক্ত চার্জ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ প্রেক্ষিতে বাড়তি চার্জ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক যৌথ আলোচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নির্ধারিত শুল্ক হারের বাইরে চেয়ারম্যান ঘাটসহ বিভিন্ন নৌ-ঘাটে ইজারাদাররা অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে আসছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, চেয়ারম্যান ঘাটে যাত্রী প্রবেশ ফি ৫ টাকার পরিবর্তে ১০ টাকা এবং স্পিডবোটে যাত্রীপ্রতি ৩০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া চেয়ারম্যান ঘাট থেকে বিভিন্ন নৌ-রুটে চলাচলকারী কাঠবডি নৌকায় যাত্রীপ্রতি ৫০ টাকা আদায়ের অভিযোগও ওঠে।
এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয় এবং বিভিন্ন সময় বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে আলোচিত ও সমালোচিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা ও থানা প্রশাসন বিষয়টি সমাধানে উদ্যোগ নেয়। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়ে প্রশাসনের যৌথ বৈঠকে এক কার্যকরী সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়।
সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা হয়- ১২ জন যাত্রী বহনে সক্ষম স্পিডবোটের ক্ষেত্রে প্রতিবার বার্দিং চার্জ(জলযান বা নৌযান ঘাটে ভেডার জন্য নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রদেয় ফি) ৫০ টাকা নির্ধারিত থাকবে। এর বেশি হলে ইজারাদার সর্বোচ্চ ১০০ টাকা নিতে পারবেন। তবে কোনো অবস্থাতেই যাত্রীপ্রতি এ চার্জ আদায় করা যাবে না।
অন্যদিকে, চেয়ারম্যান ঘাট থেকে বিভিন্ন নৌরুটে চলাচলকারী কাঠবডি নৌকায় ৫০ জন যাত্রী পর্যন্ত বার্দিং চার্জ ৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যাত্রীসংখ্যা ৫০ জনের বেশি হলে ইজারাদার সর্বোচ্চ ১০০ টাকা নিতে পারবেন। এক্ষেত্রেও প্রতিজন যাত্রীর কাছ থেকে আলাদাভাবে বার্দিং চার্জ আদায় করা যাবে না।
এসব নির্ধারিত নিয়ম হাতিয়া উপজেলার নলচিরা নৌঘাটসহ হাতিয়া নদীবন্দর ও বিআইডব্লিউটিএর আওতাধীন সংশ্লিষ্ট এলাকার জন্য প্রযোজ্য হবে।
সিদ্ধান্ত গ্রহনের এসময়, হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল, হাতিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ কবির হোসেন, বিআইডব্লিউটিএর ট্রাফিক ইনচার্জ মাসুম বিল্লাহ ও চেয়ারম্যান ঘাট ইজারাদার পক্ষের ম্যানেজার শাহীন আলমসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তে নৌপথে নিয়মিত যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। একই সঙ্গে নির্ধারিত শুল্কের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
