ঢাকা
logo
প্রকাশিত : March 28, 2026

নিক্সন থেকে ট্রাম্প: প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর মধ্যে ‘ব্যাক চ্যানেল’ যখন পাকিস্তান

১৯৭১ সালের মাঝামাঝি, শীতল যুদ্ধের চরম উত্তেজনার সময়, একটি পাকিস্তানি সরকারি বিমান রাতে গোপনে ইসলামবাদ থেকে বেইজিংয়ে উড়ে যায়। বিমানটিতে ছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার। সফরটি ছিল সম্পূর্ণ গোপন, মধ্যস্থতাকারী ছিল পাকিস্তান, আর এর ভূরাজনৈতিক প্রভাব প্রজন্মজুড়ে বিস্তৃত ছিল।

পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় পর, পাকিস্তান আবার বার্তা আদান-প্রদানের দায়িত্ব নিয়েছে। ২৫ মার্চ পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার নিশ্চিত করেছেন, ওয়াশিংটন ডিসি থেকে পাঠানো ১৫ দফার যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব তেহরানে পৌঁছে দিচ্ছে ইসলামাবাদ। এতে কূটনৈতিকভাবে সহায়তা দিয়েছে তুরস্ক ও মিশর।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ ২৮ মার্চ দ্বিতীয় মাসে গড়াচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান আলোচক স্টিভ উইটকফও নিশ্চিত করেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করছে ইসলামাবাদ। এর কয়েক ঘণ্টা পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে ঘোষণা দেন, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে সম্ভাব্য হামলা ১০ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হচ্ছে। তার ভাষায়, এটি ইরান সরকারের অনুরোধে করা হয়েছে।

ইরান এখনো সরাসরি আলোচনার কথা অস্বীকার করছে। তবে হামলার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের এই সাময়িক বিরতি নির্দেশ করছে যে, গত সপ্তাহে দেওয়া তার হামলার হুমকি এরইমধ্যে দু’বার পিছিয়ে গেছে। আর এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় রয়েছে।

এই ভূমিকা নতুন নয়। পাকিস্তান ১৯৭১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে গোপন যোগাযোগ স্থাপনে মধ্যস্থতা করেছিল। ১৯৮০-এর দশকে সোভিয়েত দখলদারিত্বের অবসানে সহায়ক জেনেভা অ্যাকর্ডসের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল দেশটি। ২০২০ সালের দোহা চুক্তির আলোচনাতেও সহায়তা করে এবং বিভিন্ন সময় সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়েছে ইসলামাবাদ।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে আগ্রসান শুরু করে। প্রথম দিনের হামলাতেই নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ইসলামাবাদ নীরবে কিন্তু গভীরভাবে এই সংকটে জড়িয়ে পড়েছে, ফোনালাপ ও বৈঠকের মাধ্যমে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বারবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে কথা বলেছেন। সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির অন্তত একবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন। শরিফ ও মুনির দুজনই সৌদি আরব সফর করেছেন। দেশটির সঙ্গে গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে পাকিস্তান পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে। সৌদি আরবে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে আর সাম্প্রতিক সময়ে তা ইরানি হামলার মুখেও পড়েছে।

পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত নাগমানা হাশমি বলেন, “পাকিস্তানের গল্প সাধারণত সংঘাতের দৃষ্টিকোণ থেকেই বলা হয়। কিন্তু অভ্যুত্থান, সংকট আর সীমান্ত সংঘর্ষের খবরের আড়ালে আরো একটি ধারাবাহিক বাস্তবতা রয়েছে— একটি রাষ্ট্র, যেটি বারবার তার ভৌগোলিক অবস্থান ও মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ককে শান্তির কূটনৈতিক শক্তিতে রূপ দিতে চেষ্টা করেছে।”

এই কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা স্থায়ী ফল দেবে, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে আবার একটি পরিচিত প্রশ্ন সামনে এসেছে: কেন এবং কীভাবে পাকিস্তান বারবার কূটনৈতিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উঠে আসে এবং এতে তারা কতটা সফল?

চীনের সঙ্গে যোগাযোগের দ্বার উন্মোচন
১৯৬৯ সালের আগস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন পাকিস্তান সফরে এসে দেশটির সামরিক শাসক প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকে গোপনে একটি বার্তা বেইজিংয়ে পৌঁছে দিতে বলেন। সেই বার্তা ছিল, ওয়াশিংটন চীনের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে চায়।

তখন তাইওয়ানকেই চীন হিসেবে স্বীকৃতি দিত যুক্তরাষ্ট্র এবং বেইজিংকে স্বীকৃতি দিত না।

পাকিস্তানকে এই দায়িত্ব দেওয়ার কারণ ছিল, দেশটির সঙ্গে ওয়াশিংটন ও বেইজিং- দুই পক্ষেরই কার্যকর সম্পর্ক ছিল।

কিসিঞ্জারের সহকারী উইন্সটন লর্ড ১৯৯৮ সালের এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “শেষ পর্যন্ত আমরা পাকিস্তানকেই বেছে নিয়েছিলাম। কারণ দুই পক্ষের সঙ্গেই তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল।”

এরপর দুই বছর ধরে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা দুই রাজধানীর মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করেন।

১৯৭১ সালের জুলাইয়ে কিসিঞ্জার এশিয়া সফরের অংশ হিসেবে ইসলামাবাদে আসেন। ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, এক নৈশভোজে তিনি অসুস্থ হওয়ার ভান করেন।

৯ জুলাই ভোরে, ইয়াহিয়া খানের গাড়িচালক কিসিঞ্জার ও তার তিন সহকারীকে একটি সামরিক বিমানঘাঁটিতে নিয়ে যান। সেখানে একটি পাকিস্তানি বিমান প্রস্তুত ছিল, যাতে চারজন চীনা প্রতিনিধি ছিলেন। বিমানটি রাতে বেইজিংয়ের উদ্দেশে উড়ে যায়, আর বিভ্রান্তি তৈরি করতে একটি গাড়ি নাথিয়া গালির দিকে রওনা দেয়।

কিসিঞ্জার সেখানে ৪৮ ঘণ্টা চীনা নেতা ঝৌ এনলাইয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। এই সফরের পথ ধরেই ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিক্সনের বেইজিং সফর এবং মাও সেতুংয়ের সঙ্গে ঐতিহাসিক করমর্দন সম্ভব হয়, যা দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করে।

পরে কিসিঞ্জার স্বীকার করেন, নিক্সন প্রশাসন পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানি বাহিনীর কর্মকাণ্ডের প্রকাশ্য নিন্দা করেনি। কারণ এতে পাকিস্তানি যোগাযোগপথ নষ্ট হয়ে যেত, যা চীনের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য জরুরি ছিল। ওই ঘটনাপ্রবাহই শেষ পর্যন্ত ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের জন্মে ভূমিকা রাখে।

পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাসুদ খান বলেন, “১৯৭১ সালে এমন সংবেদনশীল দায়িত্বে ওয়াশিংটন ও বেইজিং দুই পক্ষের কাছেই বিশ্বাসযোগ্য ছিল একমাত্র পাকিস্তান।”

সিডনি-ভিত্তিক বিশ্লেষক মুহাম্মদ ফয়সাল বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র-চীন যোগাযোগে পাকিস্তানের ভূমিকা ছিল তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য, যা এখনো বিশ্বব্যবস্থাকে প্রভাবিত করছে।”

তবে তিনি সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন এভাবে, এই সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তান ১৯৭১ সালের গৃহযুদ্ধ ও পরবর্তী ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে ভারতকে ঠেকাতে পারেনি।

মধ্যস্থতাকারী না অংশীজন?
আফগানিস্তান ইস্যুতে পাকিস্তানের ভূমিকা চার দশকজুড়ে বিস্তৃত এবং তা সবসময় নিরপেক্ষ মধ্যস্থতা ছিল না।

১৯৭৯ সালে সোভিয়েত আগ্রাসনের পর পাকিস্তান আফগান মুজাহিদিনদের জন্য মার্কিন, সৌদি ও চীনা সহায়তার প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠে। তাদের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই প্রতিরোধ সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

১৯৮২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় জেনেভায় আলোচনা শুরু হয়। পাকিস্তান সোভিয়েত-সমর্থিত কাবুল সরকারকে স্বীকৃতি না দেওয়ায় আলোচনা পরোক্ষভাবে হয়।

১৯৮৮ সালের জেনেভা চুক্তির মাধ্যমে সোভিয়েত সেনা প্রত্যাহারের সময়সূচি নির্ধারিত হয়, যা ১৯৮৯ সালে সম্পন্ন হয়।

মাসুদ খান বলেন, “পাকিস্তান এখানে একসঙ্গে অংশীজন এবং মধ্যস্থতাকারী— এই দ্বৈত ভূমিকাই তাদের নীতিকে প্রভাবিত করেছে।”

২০১৫ সালে মুরিতে তালেবান ও আফগান সরকারের প্রথম প্রকাশ্য বৈঠকের আয়োজন করে পাকিস্তান। পরে ২০২০ সালের দোহা চুক্তির আলোচনাতেও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

মার্কিন দূত জালমায় খলিলজাদ স্বীকার করে নিয়েছেন যে, পাকিস্তানের চাপই তালেবানকে আলোচনায় ধরে রাখতে সাহায্য করেছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি পাকিস্তানের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ রক্ষা করতে পারেনি।

আজ পরিস্থিতি এমন যে, তালেবান-শাসিত আফগানিস্তানের সঙ্গে পাকিস্তানের সংঘাত চলছে। অন্যদিকে তালেবান ভারতের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছে।

সৌদি-ইরান: নিষ্ফল প্রচেষ্টা
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তান যত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়েছে, তুল্যমূল বিচারে তার বাস্তব ফলাফল এসেছে খুবই কম।

২০১৬ সালের জানুয়ারিতে, ইরানে বিক্ষোভকারীরা সৌদি কূটনৈতিক মিশনে হামলা চালানোর পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ একই সফরে রিয়াদ ও তেহরান দু’জায়গাতেই যান। তার সঙ্গে ছিলেন তখনকার সেনাপ্রধান রহিল শরিফ।

কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল-জুবায়ের প্রকাশ্যে জানিয়ে দেন, কোনো আনুষ্ঠানিক মধ্যস্থতার বিষয়ে ঐকমত্য হয়নি।

২০১৯ সালের অক্টোবরে সৌদি আরবের তেলক্ষেত্র আরামকোর আবকাইক ও খুরাইস স্থাপনায় ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। যে ঘটনার পর দেশটির তেলের উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসে। তখনকার পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তেহরান ও রিয়াদের মধ্যে ‘শাটল কূটনীতি’ চালিয়েছিলেন।

এ বিষয়ে ইমরান খান জানিয়েছিলেন, তখন প্রথম মেয়াদে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে তাকে কোনো না কোনো সংলাপের ব্যবস্থা করতে বলেছিলেন। তবে ইরানি কর্মকর্তারা তখন বলেন, তারা কোনো আনুষ্ঠানিক মধ্যস্থতার বিষয়ে অবগত নন।

২০২৩ সালের মার্চে চীন যখন বেইজিংয়ে সৌদি-ইরান কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের চুক্তি করায়। তখন পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়- ২০১৬ সালের পর দুই পক্ষের প্রথম সরাসরি যোগাযোগ হয়েছিল তার এক বছর আগে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ইসলামি দেশগুলোর এক সম্মেলনের আড়ালে।

কূটনীতিক মাসুদ খান এই ধারণা প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, বিষয়টি এমন নয় যে ২০২৩ সালের এই সাফল্যে চীনের ভূমিকা পাকিস্তানের ব্যর্থতা প্রমাণ করে।

তিনি বলেন, “ইরান-সৌদি সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের কৃতিত্ব পুরোপুরি চীনের প্রাপ্য। তবে বেইজিংও স্বীকার করবে, এই পথ তৈরি করেছিল পাকিস্তান।”

“যোগাযোগের পথ খোলা, আস্থা তৈরি করা এবং পরোক্ষ আলোচনার আয়োজন- এটাই পাকিস্তানের শক্তি। যেকোনো মধ্যস্থতা, সমঝোতা বা চুক্তির ভিত্তি এগুলোই,” যোগ করেন মাসুদ খান।

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির চেষ্টা
২০০৫ সালের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খুরশিদ মাহমুদ কাসুরি ইস্তাম্বুলে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিলভান শ্যালোমের সঙ্গে বৈঠক করেন। এটি ছিল দুই দেশের মধ্যে প্রথম প্রকাশ্য সরকারি যোগাযোগ।

কাসুরি তার স্মৃতিকথা ‘নেইদার অ্যা হক নর অ্যা ডাব’-এ লিখেছেন, আরব ও মুসলিম বিশ্বের আস্থাকে কাজে লাগিয়ে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি না দেওয়ার অবস্থানকে কূটনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিল পাকিস্তান। শর্ত ছিল ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অগ্রগতি।

শালোম এই বৈঠককে ‘বড় ধরনের অগ্রগতি’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। কিন্তু এই উদ্যোগ পাকিস্তানে দেশীয় বিরোধিতার কারণে টেকেনি।

বৈঠকটির বিরোধিতা করে পাকিস্তানেই বিক্ষোভ শুরু হয়। কারণ দেশটি ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়নি। এরপর আর কোনো বৈঠক হয়নি এবং কোনো কাঠামোবদ্ধ প্রক্রিয়াও গড়ে ওঠেনি।

বারবার কূটনৈতিক ভূমিকা
বিশ্লেষক মুহাম্মদ ফয়সাল মনে করেন, পাকিস্তানের এই পুনরাবৃত্ত কূটনৈতিক ভূমিকার পেছনে রয়েছে স্থায়ী কিছু কাঠামোগত কারণ।

তিনি বলেন, “পাকিস্তানের এই প্রবেশাধিকার তার ভৌগোলিক অবস্থান ও আঞ্চলিক সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত, যেখানে বহু বিভাজনরেখার মাঝখানে তারা অবস্থান করছে।”

“ইরান পাকিস্তানকে উপেক্ষা করতে পারে না, কারণ ইরানের বাইরে সবচেয়ে বড় শিয়া জনগোষ্ঠী পাকিস্তানেই বাস করে। আর যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও পাকিস্তানকে উপেক্ষা করা ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ এটি একটি পারমাণবিক শক্তিধর মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ, যার অবস্থান মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার সংযোগস্থলে এবং যার চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।”

মাসুদ খান এই ধারণাও নাকচ করেন যে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতা মূলত ওয়াশিংটনের প্রভাবেই পরিচালিত।

তিনি বলেন, “পাকিস্তান সবসময় যুক্তরাষ্ট্রের চাপে মধ্যস্থতা করে, এমন ধারণা সরলীকৃত। মধ্যস্থতা পাকিস্তানের কূটনীতিরই অংশ।”

“পাকিস্তান ব্লক রাজনীতি অনুসরণ করে না; বরং ওয়াশিংটন, বেইজিং, তেহরান, রিয়াদ ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সমদূরত্ব বজায় রাখতে চায়। তারা জোটে থাকে কিন্তু কারো অনুসারী নয়।”

বর্তমান পরিস্থিতি: উচ্চ ঝুঁকি

তবে বর্তমান ইরান-সংক্রান্ত মধ্যস্থতা আগের অনেক প্রচেষ্টার তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

মাসুদ খান বলেন, “এখন পাকিস্তান ওয়াশিংটন, তেহরান এবং উপসাগরীয় রাজধানীগুলোর আস্থা অর্জন করেছে। এই অঞ্চলে আর কোনো দেশের কাছে এমন প্রভাব নেই।”

[লেখক: আবিদ হুসাইন আলজাজিরা ইংলিশের ডিজিটাল বিভাগের ইসলামাবাদ প্রতিনিধি]

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram