ঢাকা
logo
প্রকাশিত : January 25, 2026

কানাডার পণ্যে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের

কানাডার সব ধরনের পণ্যের ওপর তাৎক্ষণিকভাবে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি যদি চীনের সঙ্গে কোনো বাণিজ্য চুক্তি করেন, তবেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল–এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

ট্রাম্প লেখেছেন, কার্নি যদি মনে করেন তিনি কানাডাকে চীনের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর জন্য একটি ‘ড্রপ অফ পোর্ট’-এ পরিণত করবেন, তাহলে তিনি মারাত্মক ভুল করছেন।

তিনি আরও লেখেন, ‘চীন কানাডাকে জীবন্ত গিলে খাবে—তাদের ব্যবসা, সামাজিক কাঠামো ও সামগ্রিক জীবনধারা ধ্বংস করে দেবে।’

ট্রাম্প বলেন, ‘কানাডা যদি চীনের সঙ্গে চুক্তি করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী সব কানাডীয় পণ্যের ওপর তাৎক্ষণিকভাবে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।’

ট্রাম্প কার্নিকে ‘গভর্নর’ বলে সম্বোধন করেন—যা একটি কটাক্ষ, কারণ ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হওয়া উচিত।

চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মানচিত্র পোস্ট করেন, যেখানে কানাডা, গ্রিনল্যান্ড ও ভেনেজুয়েলাকে মার্কিন পতাকায় আচ্ছাদিত দেখানো হয়।

কানাডার যুক্তরাষ্ট্রবিষয়ক বাণিজ্যমন্ত্রী ডমিনিক লেব্লঁ ট্রাম্পের সর্বশেষ হুমকির জবাবে বলেন, চীনের সঙ্গে কোনো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির চেষ্টা করা হচ্ছে না।

তিনি এক্সে লেখেন, ‘যা অর্জিত হয়েছে তা হলো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শুল্কসংক্রান্ত বিষয়ের নিষ্পত্তি।’

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দুই নেতার মধ্যে কথার লড়াই আরও তীব্র হয়েছে। ডাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে মঙ্গলবার দেওয়া বক্তব্যে কার্নি যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক ব্যবস্থায় একটি ‘ছেদ’-এর কথা বলেন, যা ব্যাপক করতালিতে সাড়া ফেলে।

এই মন্তব্যকে ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিঘ্নসৃষ্টিকারী ভূমিকাকে ইঙ্গিত করে বলা হয়েছে বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হয়, যদিও কার্নি সরাসরি ট্রাম্পের নাম নেননি।

পরদিন ট্রাম্প নিজের বক্তব্যে কার্নির সমালোচনা করেন এবং পরে তাকে তার প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’-এ আমন্ত্রণ জানানোও প্রত্যাহার করে নেন।

প্রথমে যুদ্ধ-পরবর্তী গাজা পরিস্থিতি তদারকির জন্য প্রস্তাবিত এই সংস্থাটি এখন অনেক বিস্তৃত ভূমিকার দিকে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে, যা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে—ট্রাম্প হয়তো জাতিসংঘের বিকল্প কিছু গড়তে চাইছেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের কারণেই টিকে আছে। মার্ক, পরেরবার বক্তব্য দেওয়ার সময় এটা মনে রাখবেন।’

এর জবাবে কার্নি বৃহস্পতিবার বলেন, ‘কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের কারণে বেঁচে নেই। আমরা সমৃদ্ধ, কারণ আমরা কানাডীয়।’ তবে তিনি দুই দেশের মধ্যে ‘ব্যতিক্রমী অংশীদারত্ব’-এর কথাও স্বীকার করেন।

কানাডা ব্যাপকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল। দেশটির মোট রপ্তানির তিন-চতুর্থাংশের বেশি যায় যুক্তরাষ্ট্রে।

অটোমোবাইল, অ্যালুমিনিয়াম ও স্টিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ কানাডীয় খাতগুলো ট্রাম্পের বৈশ্বিক খাতভিত্তিক শুল্কে বড় ধাক্কা খেয়েছে। তবে উত্তর আমেরিকার বিদ্যমান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির প্রতি ট্রাম্পের মোটামুটি আনুগত্যের কারণে এর প্রভাব কিছুটা কম ছিল।

এই চুক্তি সংশোধনের আলোচনা এ বছরের শুরুতেই হওয়ার কথা। ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কানাডীয় পণ্যের প্রয়োজন নেই—যার প্রভাব কানাডার জন্য ভয়াবহ হতে পারে।

কানাডিয়ান চেম্বার অব কমার্সের নির্বাহী সহসভাপতি ম্যাথিউ হোমস এক বিবৃতিতে বলেন, তিনি আশা করছেন দুই সরকার দ্রুত একটি ভালো সমঝোতায় পৌঁছাবে, যা ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ কমাবে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছর কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো যৌথভাবে ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজন করতে যাচ্ছে।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram