

ভেনেজুয়েলার নিকোলাস মাদুরোর পতনের পর এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীক্ষè নজর পড়েছে কলম্বিয়ার প্রথম বামপন্থি প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর ওপর। ট্রাম্প পেত্রোকে ‘মাদক পাচারকারী’ হিসেবে অভিযুক্ত করে কলম্বিয়ায় সামরিক অভিযানের হুমকি দিলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, কলম্বিয়ার পরিস্থিতি ভেনেজুয়েলার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
একই চিত্রনাট্য, ভিন্ন প্রেক্ষাপট : মাদুরোর মতো পেত্রোকেও ব্যক্তিগতভাবে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে আক্রমণ করছেন ট্রাম্প। সম্প্রতি তিনি পেত্রোকে ‘একজন অসুস্থ মানুষ, যিনি কোকেন বানাতে এবং যুক্তরাষ্ট্রে তা বিক্রি করতে পছন্দ করেন’ বলে মন্তব্য করেন। এর প্রতিবাদে পেত্রো কলম্বিয়ার সার্বভৌমত্ব রক্ষার ডাক দিয়ে রাজপথে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিলেন। তবে বুধবার এই উত্তেজনার মধ্যেই দুই নেতার মধ্যে এক ঘণ্টার একটি টেলিফোন আলাপ হয়, যা আপাতত পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত করেছে। ট্রাম্প পরে পেত্রোকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণও জানান।
যে কারণে পেত্রো আলাদা : রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাদুরো ও পেত্রোর মধ্যে বড় কিছু পার্থক্য রয়েছে। যেমনÑ মাদুরোর বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ থাকলেও ২০২২ সালে পেত্রোর বিজয় ছিল প্রশ্নাতীত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। কলম্বিয়ার সামরিক ও পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে মার্কিন বাহিনীর দীর্ঘদিনের ও গভীর প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক রয়েছে, যা ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে ছিল না। মাদুরোর বিরুদ্ধে মার্কিন আদালতে সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি অভিযোগ থাকলেও পেত্রোর বিরুদ্ধে এমন কোনো প্রমাণ বা মামলা নেই।
সংঘাতের নেপথ্যে : ২০২৫ সালের শুরু থেকেই ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে পেত্রোর বিরোধ চরমে ওঠে। ফিলিস্তিনপন্থি সমাবেশে মার্কিন সেনাদের ‘অবৈধ আদেশ’ অমান্য করার আহ্বান জানানোয় পেত্রোর মার্কিন ভিসা বাতিল করা হয়। এছাড়া কলম্বিয়াকে মাদক নিয়ন্ত্রণে ‘ব্যর্থ’ রাষ্ট্র হিসেবে তালিকাভুক্ত করেন ট্রাম্প। যদিও পেত্রো সরকার রেকর্ড পরিমাণ কোকেন জব্দ করেছে; কিন্তু জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশটিতে কোকেনের উৎপাদন এখনও ঊর্ধ্বমুখী।
পেত্রো এক সময় এম-১৯ গেরিলা গোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন, তবে ১৯৯০ সালে শান্তি আলোচনার মাধ্যমে তিনি মূলধারার রাজনীতিতে ফেরেন। আগামী মে মাসে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান কলম্বিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বামপন্থীদের আরও শক্তিশালী করতে পারে। আপাতত হোয়াইট হাউস সফরের আমন্ত্রণে বরফ গলার আভাস পাওয়া গেলেও ট্রাম্প-পেত্রো সম্পর্কের অনিশ্চয়তা কাটেনি।

