ঢাকা
logo
প্রকাশিত : January 13, 2026

নিপাহ্ ভাইরাসে আক্রান্ত পশ্চিমবঙ্গের দুই নার্স

পশ্চিমবঙ্গে দুজন নিপাহ্ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে সন্দেহ করছে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এই দুজনেই হাসপাতালের নার্স বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী।

নন্দিনী চক্রবর্তী সংবাদ সম্মেলনে জানান, কী ভাবে ওই দুই নার্স নিপাহ্ ভাইরাসে আক্রান্ত হলেন, তার জন্য `কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং' চলছে। তারা যে হাসপাতালে কাজ করেন, সেখানেই তাদের চিকিৎসা চলছে বলে জানান তিনি।

এর আগে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা এক বিবৃতিতে জানান, “রোববার ১১ জানুয়ারি দুই সন্দেহজনক নিপাহ্ ভাইরাস আক্রান্ত চিহ্নিত হয়েছেন কল্যানীর ভাইরাল রিসার্চ অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরিতে। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া আটকাতে সঙ্গে সঙ্গেই সমন্বিত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিষয়টি জানার পরেই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব ও স্বাস্থ্যসচিবের সঙ্গে আলোচনা করেন।“

সংক্রমণ যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, তার জন্য দ্রুত ‘ন্যাশানাল জয়েন্ট আউটব্রেক রেসপন্স টিম’ গড়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেপি নাড্ডা।

এছাড়াও কলকাতার অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ হেলথ অ্যান্ড পাবলিক হাইজিন, পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি, চেন্নাইয়ের ন্যাশানাল ইনস্টিটিউট অফ এপিডেমোলজি, কল্যানীর এইমস হাসপাতালসহ বিভিন্ন দফতরের প্রতিনিধি নিয়ে একটি দল গড়া হয়েছে।

নিপাহ্ ভাইরাস সংক্রমণ আটকাতে সরকারের যে প্রোটোকল আছে, তা পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে জানানো হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। “আমি ব্যক্তিগতভাবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর সঙ্গে কথাও বলেছি,” বিবৃতিতে জানিয়েছেন জেপি নাড্ডা।

দক্ষিণ ভারতীয় রাজ্য কেরালায় ঘুরে-ফিরে নিপাহ্ ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, নিপাহ্‌ ভাইরাস এক ধরনের ‘জুনোটিক ভাইরাস’ অর্থাৎ এই ভাইরাস প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হয়। পরে সেটি মানুষে মানুষে সংক্রমিত হয়ে থাকে।

বিশ্বে প্রথম নিপাহ্‌ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল ১৯৯৯ সালে মালয়েশিয়ায় শূকর খামারিদের মধ্যে। পরবর্তীতে এই ভাইরাস বাংলাদেশে শনাক্ত হয় ২০০১ সালে।

পরে আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান- আসিডিডিআর আক্রান্ত এলাকা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে নিশ্চিত হয় যে, বাদুড়ই নিপাহ্‌ ভাইরাস খেজুরের রসে ছড়িয়ে দিয়েছে। খেজুরের রসের হাঁড়িতে বাদুড়ের মল লেগে থাকতে দেখা যায়।

এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মস্তিষ্কে ভয়াবহ প্রদাহ দেখা দেয়। এতে রোগী জ্বর ও মানসিক অস্থিরতায় ভোগেন। এক পর্যায়ে খিচুঁনিও দেখা দিতে পারে।

নিপাহ্ ভাইরাসে আক্রান্তদের জ্বর, মাথাব্যথা, দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট, কাশি, বমি, ডায়রিয়া নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। যা মৃত্যুর কারণ পর্যন্ত হতে পারে।

নিপাহ্ ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার অত্যন্ত বেশি।

সূত্র: বিবিসি

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram