

সুস্পষ্টভাবে ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চ্যাটবট গ্রোকের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া। অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব এআই ব্যবহার করে যৌনতা বিষয়ক ভুয়া ছবি তৈরি করা হচ্ছে। ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ব্যবহৃত এই এআই টুলটি ব্যবহারকারীদের ছবি তৈরি ও সম্পাদনার সুযোগ দেয়। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে গ্রোক ব্যবহার করে বাস্তব মানুষের ছবিকে বিকৃত করে তাদেরকে যৌনভাবে উন্মুক্ত বা আপত্তিকর পোশাকে দেখানো হয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দুই দেশ জানিয়েছে, গ্রোকের মাধ্যমে নারী ও শিশুদের নিয়ে পর্নোগ্রাফিক এবং সম্মতি ছাড়া তৈরি করা ছবি ছড়িয়ে পড়ার গুরুতর ঝুঁকি রয়েছে। বিশ্বে এই প্রথম কোনো দেশ গ্রোককে নিষিদ্ধ করল। বিবিসি এ বিষয়ে গ্রোক কর্তৃপক্ষের মন্তব্য জানতে চাইলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পায়নি। এর আগে ইলন মাস্ক দাবি করেন, তার প্ল্যাটফর্মের সমালোচকরা সেন্সরশিপের যেকোনো অজুহাত খুঁজছে।
গ্রোক এবং এর মূল কোম্পানি এক্স বৃটেনেও চাপের মুখে রয়েছে। দেশটির প্রযুক্তি সচিব লিজ কেন্ডাল অনলাইন নিরাপত্তা আইন না মানার অভিযোগে এক্সকে ব্লক করার দাবিকে সমর্থন করেছেন। সপ্তাহান্তে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার যোগাযোগ মন্ত্রণালয় পৃথক বিবৃতিতে গ্রোকের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপের ঘোষণা দেয়। মালয়েশিয়ার যোগাযোগ ও মাল্টিমিডিয়া কমিশন (এমসিএমসি) রোববার জানায়, ক্ষতিকর কনটেন্ট তৈরিতে গ্রোকের ‘বারবার অপব্যবহার’ ধরা পড়ার পর তারা বছরের শুরুতেই এক্সকে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিল এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে বলেছিল। তবে কমিশনের মতে, এক্স তাদের জবাবে প্ল্যাটফর্মের নকশাগত ঝুঁকির বিষয়টি উপেক্ষা করে মূলত ব্যবহারকারীদের রিপোর্টিং ব্যবস্থার কথাই বলেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু না হওয়া পর্যন্ত গ্রোক বন্ধ থাকবে এবং জনগণকে ক্ষতিকর অনলাইন কনটেন্ট রিপোর্ট করার আহ্বান জানানো হয়। ইন্দোনেশিয়ার যোগাযোগ ও ডিজিটাল বিষয়ক মন্ত্রী মেউতিয়া হাফিদ ইনস্টাগ্রামে দেয়া এক পোস্টে বলেন, গ্রোক ব্যবহার করে যৌনভাবে স্পষ্ট কনটেন্ট তৈরি করা মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা ও অনলাইন নিরাপত্তার চরম লঙ্ঘন। ইন্দোনেশিয়ার মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে ইলন মাস্কের এক্স কর্তৃপক্ষের কাছেও আনুষ্ঠানিকভাবে জানতে চেয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইন্দোনেশিয়া অনলাইনে পর্নোগ্রাফিক কনটেন্টের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এর আগে পর্নোগ্রাফিক দুটি প্ল্যাটফর্মও সেখানে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এদিকে বৃটেনের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকম শিগগিরই গ্রোকের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে পারে। যৌনভাবে বিকৃত ছবি তৈরিতে গ্রোক ব্যবহারের বিষয়টি বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার মুখে পড়েছে। বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার একে ‘লজ্জাজনক’ ও ‘ঘৃণ্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

