

বিশ্বের ইতিহাসে এমন একজন মানুষ রয়েছেন, যার জীবন এমনভাবে গড়েছে যে তাকে বলা যায় একই সঙ্গে সবচেয়ে সৌভাগ্যবান এবং দুর্ভাগ্যবান মানুষ। ক্রোয়েশিয়ার এই ব্যক্তি ফ্রানো সেলাক ১৯৫৭ সাল থেকে শুরু করে সাতটি মারাত্মক দুর্ঘটনা থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন। পেশায় সঙ্গীত শিক্ষক ফ্রানো সেলাককে ‘সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে থাকা মানুষ’ হিসেবে পরিচিতি লাভ হয়েছে।
ফ্রানো সেলাকের জীবনের শুরুতেই ঘটে তার প্রথম দুর্ঘটনা, যেখানে তিনি যাত্রী ছিলেন একটি বাসে, যা রাস্তা থেকে ছিটকে নদীতে পড়ে যায়। অন্যান্য যাত্রীদের অনেকেই প্রাণ হারালেও তিনি বেঁচে যান। এরপর তিনি ছিলেন এক ট্রেন দুর্ঘটনার যাত্রী, যেখানে ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে অনেক মানুষের মৃত্যু হয়, কিন্তু সেলাক আবারও বেঁচে যান।
তারপরেও তার দুর্ভাগ্যের ধারা থামেনি। একবার বিমান দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিলেন, তারপর দুইবার তাঁর নিজস্ব গাড়ি অগ্নিদগ্ধ হয়। এছাড়া, একবার বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত হলেও মাত্র সামান্য আঘাত নিয়ে তিনি বেঁচে গিয়েছিলেন। সবচেয়ে অবাক করার বিষয়, একবার প্রায় ৩০০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়া গাড়ির ভেতর থেকে তিনি সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার হন।
এই সকল দুর্ভাগ্য কাটিয়ে ২০০৩ সালে ফ্রানো সেলাকের জীবনে এল এক আশীর্বাদ তিনি লটারি জিতে প্রায় ৮.৩ কোটি টাকার অর্থ পান। এই অর্থে তিনি একটি বিলাসবহুল বাড়ি কিনেন। তবে ২০১০ সালে বাড়িটি বিক্রি করে দিয়ে নিজের পঞ্চম স্ত্রীসহ সহজ-সরল জীবন যাপনের সিদ্ধান্ত নেন।
২০১৬ সালে ৮৭ বছর বয়সে ফ্রানো সেলাক মৃত্যুবরণ করেন, রেখে যান এক অবিশ্বাস্য জীবনগল্প, যা আজও মানুষের কাছে এক মিশ্র অনুভূতি দুর্ভাগ্য এবং সৌভাগ্যের এক অনন্য উদাহরণ।
