

ক্ষমতা হারানোর পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি বলেছেন, ভারতবিরোধিতার কারণে তাকে ক্ষমতা হারাতে হয়েছে। সহিংস বিক্ষোভের মধ্যে দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর বুধবার তিনি জানান, বর্তমানে নেপাল সেনাবাহিনীর শিবপুরী ব্যারাকে অবস্থান করছেন। দেশজুড়ে চলা সহিংসতা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞার কারণে নেপালে বিক্ষোভের সূচনা হয়। এ বিষয়ে বিষয়ে কিছু না বলে ওলি দায় চাপালেন ভারতের কাঁধে। তিনি এদিনও স্বভাব অনুযায়ী ভারতবিরোধী বক্তব্য দেন। দাবি করেন, অযোধ্যায় ভগবান রামের জন্ম হয়েছে- এই দাবির বিরোধিতা করেছিলেন। এ জন্য তাকে ক্ষমতা হারাতে হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন উইওয়ান।
ওলি বলেন, যদি তিনি লেপুলেখ, কালাপানি ও লিম্পিয়াধুরা নিয়ে ভারতের সঙ্গে বিরোধিতার প্রশ্ন না তুলতেন, তাহলে হয়তো ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারতেন। মঙ্গলবার একাধিক প্রতিবেদন দাবি করা হয় যে তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। তবে ওলি এখন বলছেন, তিনি কাঠমান্ডুর উত্তর দিকে শিবপুরীতে রয়েছেন।
এক চিঠিতে ওলি লিখেছেন, স্বভাবতই আমি একটু একগুঁয়ে। সেই একগুঁয়েমি না থাকলে হয়তো এত চ্যালেঞ্জের ভিড়ে অনেক আগেই সব ছেড়ে দিতাম। কিন্তু জিদ থেকেই আমি দাবি করেছি, নেপালে কার্যরত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে আমাদের আইন মানতে হবে এবং স্থানীয়ভাবে নিবন্ধন করতে হবে। আমি দৃঢ়ভাবে বলেছিলাম যে লেপুলেখ, কালাপানি ও লিম্পিয়াধুরা নেপালের অংশ। আমি বলেছিলাম ভগবান শ্রী রামের জন্ম নেপালে, ভারতে নয়, যেমন শাস্ত্রে বলা আছে। যদি এসব অবস্থান থেকে সরে যেতাম, তাহলে সহজ পথ বেছে নিতে পারতাম, অনেক সুবিধাও পেতাম। যদি লিম্পিয়াধুরাসহ নেপালের মানচিত্র জাতিসংঘে না পাঠাতাম, বা অন্যদের হাতে সিদ্ধান্ত ছেড়ে দিতাম, তাহলে হয়তো আমার জীবন একেবারেই ভিন্ন হতে পারত। কিন্তু তার বদলে আমি আমার সবকিছু রাষ্ট্রের জন্য দিয়েছি। আমার কাছে পদ বা সম্মান কোনোদিনই মুখ্য ছিল না।
