

শার্শা (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বাগআঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়তা এবং স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে ইউনিয়নের রাজনৈতিক অঙ্গনে তাকে নিয়ে আলোচনা বাড়ছে।
স্থানীয় নেতাকর্মী ও বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত জাহাঙ্গীর হোসেন ছাত্রদলের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি বাগআঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে টানা তিন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তৃণমূল পর্যায়ে দলকে সংগঠিত করতে তিনি ভূমিকা রেখেছেন বলে দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি।
রাজনীতির পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবেও তার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০১১ সালে বাগআঁচড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। এরপর ২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে ওই নির্বাচনে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে তিনি প্রত্যাশিত ফলাফল পাননি বলে তার সমর্থকদের দাবি।
দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, রাজনৈতিক প্রতিকূলতার বিভিন্ন সময়েও জাহাঙ্গীর হোসেন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছেন। তাদের দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক রাজনৈতিক মামলা দায়ের করা হয় এবং বিভিন্ন সময়ে তাকে বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যেও চাপ ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার অভিযোগ রয়েছে তার।
তবে এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দলীয় কর্মকাণ্ড ও সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান। তাদের ভাষ্য, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তিনি সম্পৃক্ত রয়েছেন।
স্থানীয় পর্যায়ে তার উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে রাস্তাঘাট সংস্কারে সহযোগিতা, বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে অনুদান, যুবসমাজকে ক্রীড়ামুখী করতে ক্রীড়াসামগ্রী বিতরণ এবং দলীয় নেতাকর্মীদের দুঃসময়ে খোঁজখবর নেওয়া। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি স্থানীয়ভাবে জনসম্পৃক্ততা তৈরি করেছেন বলে তার অনুসারীদের দাবি।
জাহাঙ্গীর হোসেনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে পারিবারিক ঐতিহ্যেরও প্রভাব রয়েছে। তার বাবা কাছেদ আলী ছিলেন ইউনিয়ন কৃষক দলের সাবেক সভাপতি, শার্শা থানা ওলামা দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং বাগআঁচড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পরপর তিনবার নির্বাচিত ইউপি সদস্য। তার ছোট ভাইও বর্তমানে শার্শা থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন।
এদিকে আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে বাগআঁচড়া ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী নিয়ে স্থানীয় বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও মাঠপর্যায়ে সক্রিয় নেতাদের মধ্য থেকে যোগ্য প্রার্থীকে দলীয় সমর্থন দেওয়া হবে। তাদের মতে, জাহাঙ্গীর হোসেনকে দলীয় সমর্থন দেওয়া হলে তিনি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন।
তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন বা সমর্থনের বিষয়টি দলের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে বাগআঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “বিগত সময়ে আমার বাড়িঘরে একাধিকবার হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কারণে আমার বসতবাড়িতে গুলিও চালানো হয়েছে এবং ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
এরপরও মানুষের সেবা থেকে সরে যাইনি। আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা সবসময় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। ইনশাআল্লাহ, আগামী নির্বাচনে সাধারণ মানুষ আমাদের পাশে থাকবেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থী বাছাইয়ে দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক দক্ষতা, সততা, জনসম্পৃক্ততা ও এলাকার উন্নয়ন ভাবনাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এখন দেখার বিষয়, বাগআঁচড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে শেষ পর্যন্ত দলীয় সমর্থন কার ভাগ্যে জোটে এবং ভোটাররা কাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নেন।
