ঢাকা
logo
প্রকাশিত : August 11, 2026

কালাইয়ে পুর ফাজিল মাদ্রাসার ২১ পরীক্ষার্থীর পাস করেনি কেউ

মোঃ মোকাররম হোসাইন, কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের কালাইয়ে এবার দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। এ উপজেলার ২০টি মাদ্রাসা থেকে ৪৯৯ জন পরীক্ষার্থী দাখিল/সমমান পরীক্ষায় অংশ নিলেও পাস করেছে মাত্র ১৩৭ জন। পাসের হার দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ৪৫ শতাংশে। অথচ মাদ্রাসা বোর্ডের ফলাফলে পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ ঘোষণা করা হয়েছে।

এ উপজেলার ২০টি মাদ্রাসার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ফলাফল করেছে পুর ফাজিল মাদ্রাসা। প্রতিষ্ঠানটি থেকে এবার ২১ জন পরীক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে একজনও পাস করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার শূন্য শতাংশ।

এছাড়া ফলাফল সীটে ২০ শতাংশের নিচে যে সকল প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত রয়েছে, সে সকল প্রতিষ্ঠানগুলো হলো কালাই পৌরশহরের থুপসারা দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১জন, পাসের হার ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ। মাত্রাই দাখিল মাদ্রাসার ১৪ জনের মধ্যে পাস করেছে ২ জন, পাসের হার দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ। কাঁটাহার দাখিল মাদ্রাসায় ২০ জনের মধ্যে পাস করেছে ৩ জন, পাসের হার ১৫ শতাংশ। ভূগোইল দাখিল মাদ্রাসায় ৩৩ জনের মধ্যে পাস করেছে ৫ জন, পাস করে হার ১৫ দশমিক ১৫ শতাংশ এবং শিকটা দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২৪ জনের মধ্যে পাস করেছে ৪ জন, পাসের হার ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এছাড়া বেগুনগ্রাম ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ২৮ জনের মধ্যে মাত্র ৫ জন পাস করেছে, পাসের হার ১৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ২০টি মাদ্রাসার ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ৪৯৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৬২ জনই অকৃতকার্য হয়েছে। পাস করেছে ১৩৭ জন পরীক্ষার্থী। ১০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৩ জনই ফেল করেছে। এর মধ্যে একটি মাদ্রাসায় শতভাগ ফেল করেছে।

শিক্ষার মান, নিয়মিত পাঠদান ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে একাডেমিক তদারকি নিয়ে এমন ফলাফল নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। পুর ফাজিল মাদ্রাসার অকৃতকার্য ছাত্রদের মধ্যে ফেরদৌস আলী বলেছেন, আসলে ফেল শব্দটি মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। পরীক্ষা কেন্দ্রে আমাদের প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের সাথে অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের দ্বন্দ্বই ফেলের গ্লানি বয়ে বেড়াতে হচ্ছে আমাদের।

স্থানীয় অভিভাবকরা বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এ বছর কোনো শিক্ষার্থী পাস না করা স্বাভাবিক বিষয় নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখে শিক্ষার মান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। শিক্ষার্থীরা কেন ফেল করছে, সেটিও খুঁজে বের করা দরকার।

পুর ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সাহেব আলী বলেন, আসলে শতভাগ ফেল করার বিষয়ে জবাব দেওয়ার মত ভাষা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরীক্ষার্থীদের খাতা পুনঃমূল্যায়নের জন্য বোর্ড চ্যালেঞ্জ করা হবে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. মুনছুর রহমান বলেন, প্রতিষ্ঠানটির কোনো শিক্ষার্থী পাস না করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ফলাফল কেন এমন হলো, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, যে সকল প্রতিষ্ঠানে পাসের হার কম, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ফয়সাল আহমেদ বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস না করার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি কোনোভাবেই স্বাভাবিকভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি নিজেই বিষয়টি তদারকি করবো।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram