

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে নির্মাণাধীন নদী বন্দর নির্মাণ প্রকল্পের কাজে নিম্নমানের ও পরিত্যাক্ত পাথর ব্যবহারের পায়তারাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গত ৮ আগষ্ট তারিখে প্রকল্প স্থলে থাকা নিম্নমানের(মরা) পাথরের একটি স্তুপ সরিয়ে নেয়ার জন্য সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসক নির্দেশ প্রদান করেন। নির্দেশ প্রদানের ৪দিন অতিবাহিত হলেও সে আদেশকে উপেক্ষা করে গোপনে ওই পরিত্যাক্ত পাথর ব্যবহারের পায়তারা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের বাস্তবায়নে চিলমারী এলাকায় (রমনা, জোড়গাছ, রাজিবপুর, রৌমারী, নয়ারহাট) নদী বন্দর নির্মাণ প্রকল্পের বরাদ্দ দেয়া হয়। যার বাস্তবায়নকাল জুলাই ২০২১ হতে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত এবং প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৩৫ কোটি ৫৯ লক্ষ টাকা। পরবর্তীতে আরও ১০০ কোটি টাকা বাড়িয়ে ৩৩৫ কেটি ৫৯ লক্ষ টাকায় উন্নীত করা হয়। কাজ শুরুর প্রায় ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পের ১০-১৫টি অংশের মধ্যে এ পর্যন্ত নদী তীর সংরক্ষণ, আরসিসি জেটি নির্মাণ এবং বিভিন্ন ভবন নির্মাণসহ কয়েকটি অংশের কাজ শুরু করা হয়েছে। যা অত্যন্ত ধীরগতিতে চলমান।
গত ৮ আগষ্ট তারিখে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি নির্মাণাধীন নদী বন্দর প্রকল্প পরিদর্শনে গিয়ে নিম্নমানের(মরা) পাথরের স্তুপ লক্ষ্য করে অভিযোগ দেন। এসময় কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক, ইউএনও এবং প্রকল্প পরিচালক উপস্থিত ছিলেন। নিম্নমানের পাথর প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক বলেন, এসব পাথক পরিত্যাক্ত ঘোষণা করা হয়েছে যা সরিয়ে নিবে। পরিত্যাক্ত পাথর কাজের স্থলে থাকবে না জানিয়ে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে পাথর সরানোর নির্দেশ দেন এমপি। নির্দেশ প্রদানের ৪দিন অতিবাহিত হলেও সে নির্দেশকে উপেক্ষা করে প্রকল্পের কাজে ওই পরিত্যাক্ত পাথর ব্যবহারের পায়তারা করছেন সংশ্লিষ্টরা এলাকাবাসীর অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী ও সচেতনমহলের মাঝে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে মঙ্গলবার বিকেলে দেখা যায়, উপজেলার নৌ-বন্দর টার্মিনাল ভবন নির্মাণ এবং নদী তীর সংরক্ষণের প্রকল্প স্থলে বিশাল আকৃতির পাথরের স্তুপ জমে রয়েছে। পাথরগুলি ময়লা আবর্জনাযুক্ত, মরা এবং নিম্নমানের। প্রকল্পের শুরু থেকে কাজে নানা অনিয়ম করা হয়েছে এবং প্রশাসনিক নির্দেশকে অমান্য করে ওই নিম্নমানের পাথর দিয়ে প্রকল্পের কাজ চালিয়ে যাওয়ায় পায়তারা করা হচ্ছে বলে অনেকের অভিযোগ। স্থানীয় মাজু ইব্রাহিম, রেজাউল করিম, সাজ্জাদ হোসেন, মাসুম ও সুজনসহ অনেকে জানান, বন্দর নির্মাণ প্রকল্পের শুরু থেকে বিভিন্ন কাজে নানা অনিয়মের মধ্য দিয়ে ঠিকাদার এবং বিআইডব্লিউটিএ’র দায়িত্বরত ব্যক্তিরা নিজেদের খেয়াল খুশিমত ধীরগতিতে কাজ করে যাচ্ছেন। কাজের ভবিষ্যৎ কি তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে বলে ধারনা করেন তারা।
বন্দরের দায়িত্বে থাকা পোর্ট অফিসার পুতুল চন্দ্র বলেন, নির্মাণ প্রকল্পের সকল তথ্য পিডির কাছে। আপনি পিডিকে ফোন দেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুল হাসান বলেন, ওই পাথরগুলি রিজেক্টেড, ওইগুলি সরিয়ে ফেলতে হবে। বিষয়টি দেখছি।
চিলমারী নদী বন্দর নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও বিআইডব্লিউটিএ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো.আবুল কালাম আজাদ মোল্লা জানান, পাথরগুলি ওরা দীর্ঘদিন যাবৎ যত্নসহকারে রেখেছে, ব্যবহার করছে না, সরিয়ে নিবে। ২৪ ঘন্টার মধ্যে সরানোর জন্য এমপি’র নির্দেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২৪ ঘন্টার মধ্যে তো আসলে আমরা কেউ বলি নাই যে ২৪ ঘন্টার মধ্যে সরায়ে দিব। আমরা বলছি সরায়ে দিব।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম-৩ ও ৪ আসনের সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি জানান, প্রকল্প স্থলে রাখা পরিত্যাক্ত পাথর সরিয়ে নিতে হবে। বিষয়টি আমি দেখছি।
