

চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: একসময়ের আরব আমিরাত প্রবাসী আবদুর রহমান (৬৫) বিয়েও করেন প্রবাসে, তিন ছেলে ও এক ছেলের বউ প্রবাসে। কিছুদিন পূর্বে আরেক ছেলেকে বিয়ে করিয়েছেন, সেই বউ থাকেন বাপের বাড়ি। আবদুর রহমান বছর দু'য়েক আগে দেশে ফিরে এক সময়ের যোদ্ধা যাপন করতে থাকেন নিঃসঙ্গ জীবন। কখনো বোনের বাড়িতে, কখনো নিজে রান্না করে খেতেন। দীর্ঘদিন ধরে দুবাইয়ে রহমানের স্ত্রী আছেন লাইফ সাপোর্ট এ।
আবদুর রহমান উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের নগর পাড়া এলাকার মিয়া সওদাগরের ছেলে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, রবিবার বিকাল ৩ টার দিকে আবদুর রহমানের বাড়ির পাশে দুর্গন্ধের উৎসের খবর নিতে গিয়ে দেখেন খাটের উপর পড়ে আছে অর্ধগলিত লাশ। গত বৃহস্পতিবার আবদুর রহমানকে চায়ের দোকান থেকে ঘরে ফিরতে দেখেন এলাকাবাসী। তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গাউছিয়া কমিটির মানবিক টিমের সহায়তায় তাঁর লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।
স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম জানান, তিন-চার দিন আগে আবদুর রহমানের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁর মরদেহে পচন ধরেছিল। নানা স্থানে পোকা ধরে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল।
বাপের বাড়িতে থাকা মেঝ ছেলের বউ আইভি জানান, খবর পেয়ে আমি দেখতে যাই, ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে গেছে এখনো লাশ আনেনি, ছেলেরা কেউ আসবেন কিনা তাও জানেননা তিনি।
চন্দনাইশ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) লিটন মিয়া বলেন, খবর পেয়ে গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, লাশের চোখে–মুখে পোকা ধরেছে। দুই হাতের চামড়া খুলে পড়েছে। দুর্গন্ধে টেকা যাচ্ছে না। তাঁর মৃত্যু বেশ কয়েক দিন আগে হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
