ঢাকা
২২শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাত ৩:০৮
logo
প্রকাশিত : জুন ৭, ২০২৬

দুই শিক্ষকের বিদ্যালয় থেকে একজনকে অন্য বিদ্যালয়ে সংযুক্তি, অনিয়মের অভিযোগ

হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি: হাতিয়ায় মাত্র দুইজন শিক্ষক কর্মরত থাকা একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে একজন শিক্ষককে অন্য বিদ্যালয়ে সংযুক্তি দেওয়ার ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, যেখানে সাতজন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন, সেখানে মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে ওই সংযুক্তির আদেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে শিক্ষক সংকটে থাকা বিদ্যালয়টি কার্যত শ্রেণি কার্যক্রমহীন হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর নোয়াখালী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ৩৫৪৩(৬) নম্বর স্মারকে হাতিয়া উপজেলার লম্বরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিরাজ উদ্দিনকে তার বাড়ির সামনে মদনখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংযুক্তির আদেশ দেওয়া হয়। অথচ লম্বরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তখন মাত্র দুইজন শিক্ষক কর্মরত ছিলেন। সংযুক্তির পর সেখানে একজন শিক্ষক অবশিষ্ট থাকেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একজন শিক্ষক দিয়ে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ছয়টি শ্রেণির পাঠদান পরিচালনা করা সম্ভব নয়। ফলে বিদ্যালয়টি খোলা থাকলেও নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না। একমাত্র শিক্ষক ছুটিতে গেলে বা সরকারি কাজে বাইরে গেলে বিদ্যালয় বন্ধ রাখতে হয়।

সংযুক্তির প্রস্তাবে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আ. জব্বার প্রধান শিক্ষকের অবসরজনিত কারণ উল্লেখ করে বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষক কর্মরত থাকার তথ্য উপস্থাপন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক সংকট বিদ্যমান ছিল বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষক মিরাজ উদ্দিন বলেন, “আমার ব্যক্তিগত অসুবিধার কারণে অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ডেপুটেশন নিয়েছি।”

উপজেলার একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, কিছু শিক্ষক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আ. জব্বার ও উচ্চমান সহকারী নাজিম উদ্দিনের সঙ্গে যোগসাজশ করে বিধিবহির্ভূত নানান অনিয়ম করে থাকেন। মিথ্যা তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে এসব প্রস্তাব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অনুমোদন নেওয়া হয় বলেও তারা দাবি করেন।

এদিকে, লম্বরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট নিরসনের লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ২৯ এপ্রিল পশ্চিম চর আমানুল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে একজন শিক্ষককে সংযুক্তির জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে প্রস্তাব পাঠায়। তবে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় ওই প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এছাড়া, ২০২৪ সালে মধ্য চর আমানুল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফয়সাল ইসলামকে সংযুক্তির ক্ষেত্রেও তথ্য গোপন ও জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, তার কর্মরত বিদ্যালয়ের শূন্যপদের সংখ্যা কম দেখিয়ে এবং প্রস্তাবিত বিদ্যালয়ে শূন্যপদ না থাকা সত্ত্বেও শূন্যপদ দেখিয়ে সংযুক্তির প্রস্তাব পাঠানো হয়। পরে ওই শিক্ষক নিজেই সংযুক্তি আদেশ বাতিলের আবেদন করলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আদেশটি বাতিল করেন। তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আ. জব্বার বলেন, “সংযুক্তির প্রক্রিয়া বিভিন্নভাবে হয়ে থাকে।”

নোয়াখালী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) ইসরাত নাসিমা হাবীব বলেন, “ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হবে। সংযুক্তির সুপারিশ ও আদেশে কোথায় ভুল হয়েছে, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram