

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: বিয়ে করতে হবে না হলে আত্মহত্যা করবো, এমন ঘোষণা দিয়ে গত দুই দিন ধরে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন করছে প্রেমিকা। এদিকে বাড়িতে প্রেমিকা আসার পর থেকেই পালিয়ে গেছে প্রেমিক তাবির আহমেদ। এ ঘটনা ঘটেছে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়ন ইসলামপুর গ্রামে।
বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য শফিকুল ইসলাম ওরফে শফি মেম্বারের ছেলে প্রেমিক তাবির আহমেদ ও একই ইউনিয়নের বাদলারপার গ্রামের বাসিন্দা প্রেমিকা।
অনশনে থাকা প্রেমিকা জানায়, বিয়ের প্রলোভনে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক জড়িয়ে পড়ে তারা। শারীরিক সম্পর্ক করাসহ বিভিন্ন স্থানে বেড়াতে নিয়ে যায় প্রেমিক, এভাবেই চলছিল। মাঝে মধ্যে প্রেমিকার বিয়ের আলাপ আসলে প্রেমিক নানা ভাবে বিয়ের আলাপ ভেঙে দেয়।
গত সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে বিয়ের কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়ে সারাদিন নৌকায় করে বেড়িয়ে বিকেলে বাদাঘাট বাজারে একটি স্থানে দাঁড়াতে বলে। এবং কাজির ব্যবস্থা করে আসছি বলে চলে যায়, কিন্তু সন্ধ্যা হয়ে গেলেও না আসায় প্রেমিকা প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের দাবিতে অনশনে নামে। খবর পেয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় প্রেমিক।
প্রেমিকার কথা একটাই, বিয়ে করতে হবে প্রেমিককে না হয় সে আত্মহত্যা করবে বলে জানায়। না হলে কেন আমার সাথে সম্পর্ক করেছে।
তার একমাত্র দাবি, প্রেমের সম্পর্ক করে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমার ইজ্জত সম্মান নষ্ট করে এখন বিয়ে না করে মাকে বাজারে ফেলে পালিয়ে গেছে। এখন আমার তো আর কিছুই নাই। তাবির তাকে বিয়ে করবেনা কেন। বিয়ে না করলে ওই তরুণী আত্মহত্যার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলেও সাংবাদিকদের জানান।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সোমবার সন্ধ্যা থেকে ওই তরুণী তাবিরের বাড়িতে অবস্থান করছেন। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্তও তিনি সেখানে অনশনরত ছিলেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।
এদিকে, মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদ সংগ্রহে গেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে তাবিরের বড় বোন সুমনা অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ বলেন, বিষয়টি আমার জানা আছে। বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়িকে অবগত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত তাবিরকে না পাওয়ায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে তাবিরের বাবার বক্তব্য জনতে মুঠোফোনে কল দিলে তিনি বলেন, আমি অসুস্থ, চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ আছি। আমি কিছুই জানিনা।
