ঢাকা
২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সন্ধ্যা ৭:২৮
logo
প্রকাশিত : মে ২৬, ২০২৬

জলঢাকায় কোরবানির পশুরহাটে লাগামহীন চাঁদাবাজি : ক্ষুব্ধ ক্রেতা-বিক্রেতারা

​জলঢাকা (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ পবিত্র ঈদুল আযহা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার কোরবানির পশুরহাটগুলোতে টোল আদায়ের নামে চলছে লাগামহীন চাঁদাবাজি। প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। অতিরিক্ত এই অর্থ আদায়ের কোনো বৈধ রসিদও দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

​সোমবার (২৫ মে) জলঢাকা পৌরসভাসহ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের বিভিন্ন পশুরহাট সরেজমিনে ঘুরে এবং ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে অতিরিক্ত টোল আদায়ের এই ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতি গরুর হাটে ক্রেতার কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৬০০ টাকা টোল নির্ধারণ করা রয়েছে। কিন্তু ইজারাদারদের নিয়োজিত লোকজন প্রতি গরুর রসিদ বাবদ ৮০০ টাকা এবং অতিরিক্ত 'চাঁদা' বা 'খাজনা' হিসেবে আরও ২০০ টাকা—সর্বমোট ১,০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন। অথচ রসিদ বইয়ে সরকারি নির্ধারিত টাকার অঙ্কই লিখে রাখা হচ্ছে, কিংবা অনেক ক্ষেত্রে রসিদ ছাড়াই জোরপূর্বক অতিরিক্ত টাকা রাখা হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতাদের হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে।

​হাটে কোরবানির গরু কিনতে আসা নাজমুল ইসলাম, তাইমুর রহমান ও আব্দুস সামাদ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারের নির্ধারিত টোলের বাইরে ইজারাদাররা জোর করে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি নিচ্ছে। রসিদে এক দাম লিখে আমাদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে অন্য দাম। জলঢাকায় পশুরহাটে এরকম বেপরোয়া চাঁদাবাজি আমরা আগে কখনো দেখিনি।"

​পশুরহাটের এই সিন্ডিকেট ও প্রকাশ্য চাঁদাবাজি বন্ধে এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে জরুরি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপ ও দৃষ্টি কামনা করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ ক্রেতা ও এলাকাবাসী।
অতিরিক্ত টোল ও চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে হাটের ইজারাদার ও তাদের প্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে অনেকে নানা অজুহাতে কৌশলে হাট থেকে গাঢাকা দেন।

​এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, পশুরহাটগুলোতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং প্রশাসনের কঠোর নজরদারি না থাকায় ইজারাদাররা পার পেয়ে যাচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিক্রেতা জানান, হাটের ইজারাদাররা প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয়ভাবে কেউ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায় না।

​এ বিষয়ে উপজেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি সাথে কথা হলে তিনি জানান, সরকার নির্ধারিত টোলের বাইরে এক টাকাও বেশি নেওয়ার নিয়ম নেই। কোনো হাটে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

​পবিত্র ঈদুল আযহার আনন্দ সাধারণ মানুষের মাঝে নির্বিঘ্ন করতে দ্রুত জলঢাকার পশুরহাটগুলোকে এই চাঁদাবাজিমুক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ক্রেতা-বিক্রেতারা।
মো: হাফিজুর রহমান
জলঢাকা নীলফামারী
০১৭৬৮৯২৯৪৪২

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram