

নুরুল ইসলাম আসাদ, উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি: উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে দালালদের দৌরাত্ম্যে রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তির অভিযোগ ছিল। অবশেষে প্রশাসনের অভিযানে সেই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজন দালালকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি এনে দিয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহেশ্বর মন্ডল। হঠাৎ অভিযান চালিয়ে হাসপাতাল চত্বরে সক্রিয় দালালদের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এ সময় রোগীদের বিভ্রান্ত করার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, একটি সংঘবদ্ধ দালালচক্র রোগী ও তাদের স্বজনদের টার্গেট করে বিভিন্ন প্রলোভন দেখাতো। তারা নির্দিষ্ট ক্লিনিক ও চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে অর্থ আদায় করত, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অভিযানের সময় তিনজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বিচারকার্য পরিচালনা করা হয়। এতে একজনকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বাকি দুইজনকে ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহেশ্বর মন্ডল জানান, সরকারি হাসপাতালে দালালচক্রের কোনো স্থান নেই। রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা বা হয়রানির ঘটনা কঠোরভাবে দমন করা হবে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আলী সুজা বলেন, স্বাস্থ্যসেবা খাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দালালি সহ্য করা হবে না। সাধারণ মানুষ যেন নির্বিঘ্নে চিকিৎসা পায়, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বদা তৎপর রয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধেও ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের কড়া পদক্ষেপ হাসপাতাল এলাকায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে। এতে করে রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি কমবে এবং স্বাস্থ্যসেবার পরিবেশ আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ হবে বলে তারা আশা করছেন।
