

আবিদ হাসান, হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় জ্বালানি তেলের ডিলার ভাদিয়াখোলা এলাকার মেসার্স সোনিয়া পেট্রোলিয়াম হাউস নামের মোঃ রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে রাতের আধারে খুচরা ডিলারদের কাছে ব্যারেলে ব্যারেলে ডিজেল পাচার করার অভিযোগ উঠেছে। পাইকারি পর্যায়ে লাভ কম হওয়ায় খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে গোপনে জ্বালানি সরবরাহ করে সাধারণ ভোক্তাদের জিম্মি করে বাধ্য হয়ে চড়া দামে ক্রয় করতে হচ্ছে অকটেন, পেট্রোল, ডিজেল।
এমন সিন্ডিকেটে জিম্মি হয়ে আছে উপজেলার ভাদিয়াখোলা, বাল্লা, মালুচী, গোপিনাথপুর, কাঞ্চনপুরসহ বেশ কিছু এলাকা। এছাড়া মুখ চিনে আর পরিচিত ঘনিষ্ট প্রভাবশালীদের সুপারিশেও অকটেন, পেট্রোল, ডিজেল সাপ্লাইয়ের অভিযোগ রয়েছে রফিকের বিরুদ্ধে। নিজ এলাকা ভাদিয়াখোলা এলাকার আশপাশ ছাড়া খুচরা বিক্রয় করবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়ার পরও উপজেলা প্রপারে বেশ কয়েকজন খুচরা বিক্রেতার কাছে রাতের আধারে ড্রামভর্তি ব্যারেল ব্যারেলে ডিজেল বিক্রয়ের সত্যতা পাওয়া গেছে। আর ডিজেলের লাইসেন্সের আড়ালে অবৈধভাবে অকটেন, পেট্রোলের মজুদ করে প্রকাশ্যে বিক্রয়ের কারণে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এরই মধ্যে অবৈধভাবে মেয়ের জামাই বাড়ি জ্বালানি মজুদের দায়ে হাতেনাতে ধরা পরে মোটা অংকের জরিমানা গুনতে হয়েছে রফিককে।
তারপর থেকে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল বিক্রির রাস্তা পরিবর্তন করে সুকৌশলে রাতের আধারটাই বেছে নিয়েছে রফিক। খুচরা পর্যায়ে বিক্রয়ে লাভ কম হয় বলে পাইকারদের নিকট চড়া দামে বিক্রি করার কারণে খুচরা ব্যবসায়ীরা সাধারণ গ্রাহকদের এক প্রকার জিম্মি করে চড়া দামে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল কিনতে বাধ্য হয় সাধারণ ভোক্তা ও কৃষক। ডিজেলের লাইসেন্সের আড়ালে অকটেন, পেট্রোল বিক্রয়ের কথা অকপটে স্বীকার করলেও উপজেলার দায়িত্বশীল বড় এক কর্মকর্তা আর প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তির নাম ভাঙিয়ে তাদের পারমিশন ছাড়া তেল দেয়া যাবেনা মর্মে দোহাই দিয়ে বিভিন্ন সময় পার পেয়ে যায়। অথচ অনুসন্ধান বলছে- মুখের বুলি আর প্রভাবশালী কয়েকজনের নাম ভাঙানো শুধুমাত্র মুখের ফাকাবুলি। আর উপজেলার বেশ কয়েকজন কৃষক ন্যাজ্য মুল্যে রফিকের কাছে ডিজেল না পেয়ে বাধ্য হয়ে খুচরা বিক্রেতার কাছ থেকে প্রতি লিটার ১২০ টাকা দরে কিনতে হয়েছে বলে জানা গেছে।
হারুকান্দি ইউনিয়নের কৃষক নাসির জানান, সেচ কাজের জন্য ৩০ লিটার ডিজেল কিনতে ভাদিয়াখোলা রফিকের কাছে গিয়ে শুন্য হাতে ফিরতে হয়েছে তাকে। হারুকান্দি এলাকায় ডিজেল বিক্রি করবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন। অথচ, সেদিনই রফিক ৬ ব্যারেল ডিজেল লেছড়াগঞ্জ বাজারে এক খুচরা ব্যবসায়ীর নিকট ১২০ টাকা দরে কিনলাম। আমরা গরীব কৃষক বলে দাম ই পেলাম না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লেছড়াগঞ্জ বাজারের খুচরা ডিজেল ব্যবসায়ী জানান, ২ ব্যারেল ডিজেল রফিক আমাকে দিয়েছে। সঠিক মূল্যে বিক্রি করেছি।
লেছড়াগঞ্জ বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীর নিকট ডিজেল পরিবহনকারী অটোচালক শহিদ জানান, গভীর রাতে কয়েকবার দুই ব্যারেল করে মোট ৬ ব্যারেল ডিজেল রফিকের কাছ থেকে এনে দিয়েছি লেছড়াগঞ্জ বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীর কাছে।
এ বিষয়ে মেসার্স সোনিয়া পেট্রোলিয়াম হাউসের ডিলার মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি ইউএনও স্যারের পারমিশন আর থানার লোকজনদের সাথে নিয়ে খুচরা পর্যায়ে বিক্রি করি। খুচরা ব্যবসায়ীদের দুই তিন ব্যারেল দেই, এরপর শেষ হলে আবার দেই। অকটেন, পেট্রোল বিক্রয়ের পারমিশন না থাকলেও কেন বিক্রয় করেন? জানতে চাইলে তিনি জানান, এসে দেখা করে যান, আর চা খেয়ে যান।
মানিকগঞ্জ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, এ বিষয়ে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। এর পূর্বে রফিককে মেয়ের জামাই বাড়ি জ্বালানি মজুদ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রয়ের দায়ে জরিমানা করা হয়েছে। আমাদের অভিযান নিয়মিত চলবে। সকলের সহযোগিতা চাই।

