

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: দীর্ঘ ১৬ বছর পর সারা দেশে একযোগে শুরু হয় ৮ম শ্রেণির জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা। কুড়িগ্রামের চিলমারীতে প্রধান শিক্ষকের গাফিলতিতে কেন্দ্রে গিয়েও প্রবেশপত্র না পেয়ে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে পারেনি ১০ শিক্ষার্থী। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নে অবস্থিত কয়ারপাড় বীরবিক্রম উচ্চ বিদ্যালয়ে। বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে না পারায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ২৮ ডিসেম্বর সারাদেশে একযোগে ৮ম শ্রেণির জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা শুরু হয়। এতে উপজেলার থানাহাট এইউ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২২৪জন পরীক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করে। কিন্তু রানীগঞ্জ ইউনিয়নের কয়ারপাড় বীরবিক্রম উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেও পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে পারেনি। দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেও প্রধান শিক্ষকের গাফিলতির কারনে শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারেনি তারা। পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক।
ওই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিশাদ বাবু, মেহেদী হাসান, সুমাইয়া আক্তারসহ অনেকে জানায়, তারা অনেকদিন আগেই ফরম পূরণ করতে বৃত্তি পরীক্ষার ফিস দিয়েছে। প্রধান শিক্ষক বাড়ি বাড়ি গিয়েও পরীক্ষার ফিস নিয়েছেন। তারা আরও জানায়, বৃত্তির পরীক্ষার জন্য আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি। কিন্তু পরীক্ষার সময় প্রবেশপত্র না আসায় তাদের পরীক্ষা দেয়া হয়নি।
অভিভাবক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, আমার মেয়ের পরীক্ষার ফিস নিজে স্কুলে গিয়ে দিয়েছি৷ পরীক্ষার সময় শুনি তাদের প্রবেশ পত্র আসে নাই। প্রধান শিক্ষকের গাফিলতির কারণে আমার মেয়েসহ ১০জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে পারছে না, এটি দুঃখজনক।
প্রধান শিক্ষক কাজটা ঠিক করেনি। এতে করে শিক্ষার্থীরা তাদের মনবল হারিয়ে ফেলবে।
প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম জানান, বৃত্তি পরীক্ষার জন্য ১০জনকে নির্বাচন করে তাদের নিকট থেকে পরীক্ষার ফিস নিয়েও যথাসময়ে ফরম পূরণ করা সম্ভব হয়নি।
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব ও থানাহাট পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তৈয়ব আলী বলেন, ১৪ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২৩২জনের মধ্যে ২২৪জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করেছে। অপরদিকে কয়ারপাড় বীরবিক্রম উচ্চ বিদ্যালয়, দক্ষিণ খাওরিয়া স্কুল এন্ড কলেজ এবং মুদাফৎথানা এস সি উচ্চ বিদ্যালয়ের কোন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করেনি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কমকর্তা সবুজ কুমার বসাক জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
