ঢাকা
১৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাত ২:২৩
logo
প্রকাশিত : ডিসেম্বর ৮, ২০২৫

বাউফলে সারের তীব্র সংকটের আশংকা, আন্দোলনে নামার হুমকি কৃষকদের

অতুল পাল, বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: বাউফলে রবিশষ্য ও তরমুজ মৌসুমে তীব্র সার সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করছেন ডিলার ও কৃষকরা। আসন্ন ওই সার সংকটের কথা মাথায় রেখে বিশেষ করে তরমুজ চাষিরা বিভিন্ন পথে পরিমাণে কম হলেও অতিরিক্ত দাম দিয়ে সার সংগ্রহ করছেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছেন। সার সংকটে তরমুজ উৎপাদন ব্যহত হতে পারে এবং খরচও অনেকটা বেড়ে যেতে পারে। এদিকে ডিলাররা চাহিদা মোতাবেক ও সময় মতো সার পাচ্ছেন না বলে জানান। সরকার থেকে ন্যয্যমূল্যে যথা সময়ে সার পাওয়ার জন্য কৃষকরা আন্দোলনের পথ বেছে নিতে পারেন বলেও হুমকি দিচ্ছেন।

সরেজমিন তরমুজ চাষিদের মাঠে গিয়ে জানা গেছে, বাউফলের সার ডিলারদের থেকে সময় অনুযায়ী পরিমাণ মতো সার পাচ্ছেন না। অপরদিকে ডিলারাও যথা সময়ে সার পাচ্ছেন না। ফলে প্রয়োজনের সময় সারের একটি কৃত্রিম সংকটের আশংকা থেকেই যায়।

উপজেলা ফার্টিলাইজার এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডিলার মাসুদ রানা জানান, চাহিদাপত্র দিলেও সময় মতো চাহিদা মোতাবেক সার সরবরাহ হচ্ছেনা। ফলে কৃষকদের সাথে মনোমালিন্য ঘটেই থাকে। এরথেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায় সরবরাহ ঠিক রাখা।

একটি সূত্র জানায়, সারের চাহিদা যখন বেড়ে যায় তখন যে সকল এলাকায় সারের ব্যবহার কম কিন্তু বরাদ্দের সার রয়েছে সেখান থেকে গোপনে বেশি দামে সার ক্রয় করতে কৃষকরা বাধ্য হন। তখনই সারের সংকট বলে চারদিকে কথা ছড়িয়ে পড়ে। আবার খুচরা বিক্রতারাও কিছু বেশি দামেও সার বিক্রি করছেন। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, বেশি দামে কিনে এনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

উপজেলার চরকালাইয়া এলাকার তরমুজ চাষি আনোয়ার হোসেন জানান, লাখ লাখ টাকা ব্যয় করে তরমুজ চাষ করছি। বাউফলে তরমুজ চাষে কয়েক কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়। প্রায় ৩০ হাজার মৌসুমী শ্রমিক তরমুজ ক্ষেতে কাজ করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করেন। ক্ষেতে এখন বীজ অঙ্কুরোদগম হয়ে গেছে। এখন প্রতিদিনই সারের ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু সরকার এই বিষয়ে তেমন নজর দিচ্ছেন না। কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে সময় মতো সার না পেলে বাধ্য হয়ে আমরা আন্দোলন করতে রাস্তায় নামবো।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিলন জানান, বাউফলে ৩৪ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে তরমুজসহ রবিশষ্য চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হবে। এজন্য সবমিলিয়ে ইউরিয়া ৩ হাজার ৬৬৬ মেট্রিক টন, টিএসপি ২ হাজার ৭৬ মেট্রিক টন, ড্যাপ ২ হাজার ১৯৬ মেট্রিক টন এবং এমএপি ২ হাজার ৩৮০ মেট্রিক টন সারের চাহিদাপত্র দেয়া হয়েছে। যাহা অন্যান্য সময়ের চেয়ে কিছু বেশি।

তিনি বলেন, কিছু সার মাছের ঘের, মুড়ি ভাজাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। যাহা অজানা এবং হিসেবের বাহিরে রয়ে যায়। আবার কিছু চাষি এককালিন বেশি সার ক্রয় করে মজুদ করেন। এছাড়া সরকারিভাবে ফসলে নির্ধারিত পরিমাণ সার না দিয়ে কৃষকের ইচ্ছা মোতাবেক বেশি সার ব্যবহার করেন। এমতাবস্থায়, সবমিলিয়ে একটা পর্যায়ে কিছু সময়ের জন্য সার সংকট দেখা দেয়। তবে চাহিদা মোতাবেক সরবারাহ ঠিক থাকলে কোন সংকট হবে না। আমাদের ১৬ জন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাঠে রয়েছেন। তারা সার্বিক বিষয় মনিটরিং করে দেখছেন।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +880 2-8878026, +880 1736 786915, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram