ঢাকা
logo
প্রকাশিত : November 19, 2025

চিলমারীতে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথ বন্ধ, রাস্তার ধারে চলছে পাঠদান কার্যক্রম

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের চিলমারীতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পথ বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে জাহাঙ্গীর আলম নামে এক প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টির পথ অবরুদ্ধ থাকায় স্কুলের দ্বিতল ভবন ছেড়ে রাস্তার ধারে গাছতলায় চলছে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী পাঠদান কার্যক্রম। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার রমনা মডেল ইউনিয়নের পাত্রখাতা গ্রামের পূর্ব চর পাত্রখাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়টিতে যাওয়ার একমাত্র রাস্তা বন্দোবস্তপ্রাপ্ত সরকারি জমিতে স্থাপনা নির্মাণের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে।

জানা গেছে, ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৬ জন শিক্ষক এবং ১০৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের একমাত্র পথ ছিল ওয়াবদা খালের বাঁধ। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা এই পথ ব্যবহার করেই স্কুলে আসা-যাওয়া করছিল। সম্প্রতি রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়ায় খোলা আকাশের নিচেই শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে বাধ্য হচ্ছেন দায়িত্বরত শিক্ষকরা।

বিদ্যালয়ের জমিদাতা ছিলেন সাবেক ইউপি সদস্য সেকেন্দার আলী। তিনি বিদ্যালয়ের নামে ৩৫ শতাংশ জমি দান করেন। স্কুলে যাওয়ার একমাত্র পথ ছিল ৩১৩৫নং দাগ ও ৩১৩৬নং দাগে জমির উপর দিয়ে ওয়াবদা খালের বাঁধ। এর মধ্যে ৩১৩৬নং দাগ সরকারি খাসজমি।

২০১৬ সালের দিকে অষ্টমীর চরের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম নিজেকে ভূমিহীন দেখিয়ে ৩১৩৬নং দাগে ১৫ শতাংশ ও ৩১৩৭নং দাগে ২১ শতাংশ জমি বন্দোবস্ত নেন।

অভিযোগ রয়েছে, জাহাঙ্গীর আলম প্রভাব খাটিয়ে বন্দোবস্তকৃত জমি ছাড়াও উত্তর পাশ্বে থাকা ৩১৩৫ নং দাগের জমিও দখলে নিয়ে সেখানে বসতি গড়ে তোলেন। এতে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বিদ্যালয়ে প্রবেশের রাস্তা না থাকায় খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করতে হচ্ছে স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের। এতে প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছে শিক্ষার্থীসহ দায়িত্বরত শিক্ষকরা।

সরেজমিন বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষকরা সড়কের পাশে গাছতলায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাচ্ছেন। পূর্বে যে পথ দিয়ে তারা বিদ্যালয়ে যেতেন, সেখানে এখন বসতি-বাড়ী স্থাপন করা হয়েছে। এসময় বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক শাহ্ আলম বলেন, ১৯৮৮ সালে স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের উদ্যোগে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর আমরা ৪জন শিক্ষক পাঠদান শুরু করি। এরপর রেজি:প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে পাঠদান চালু থাকা অবস্থায় ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টিকে সরকারি করণ করা হয়। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিদ্যালয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ ছিল ওয়াবদা খালের বাঁধ, যেটি এখন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মোছা. সুমাইয়া খাতুন বলেন, রাস্তা না থাকায় পাশের দুটি বাড়ির ভেতর দিয়ে স্কুলে আসতে হয়। বাড়ি দুটির পাশে বড় গর্ত আছে। অনেক সময় ছোটরা গর্তে পরার ভয়ে স্কুলে আসে না।

সুম্মা খাতুন নামের আরেক শিক্ষার্থী জানান, আসলে দীর্ঘ দিন ধরে আমাদের রাস্তা নাই। মানুষের বাড়ির ভিতর দিয়ে আসতে গেলে বকা ঝকা খাইতে হয়। তাই ম্যামরা গাছতলায় পড়াশুনা করাচ্ছেন কষ্ট হলেও কিছু করার নাই।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. রিয়াদ বিন রানু জানিয়েছেন, স্বাভাবিক একটি যাতায়াতের পথ না থাকায় আমার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনই কষ্ট করতে হচ্ছে। বিষয়টি একাধিক বার প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে রাস্তায় পাঠদান করাতে হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে রাস্তার ব্যবস্থা হলে আমরা আবারো বিদ্যালয়ে ফিরতে পারবো।

জমির বর্তমান দখলদার মো. জাহাঙ্গীর আলম সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা স্কুলের রাস্তা বন্ধ করিনি। রাস্তার জন্য বরাদ্দ এলে প্রয়োজনে আমরা জায়গা ছেড়ে দেব।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ মনসুর আলী জানান, সরকারি জায়গা বন্দোবস্ত নিয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পথ বন্ধ করা একধরণের ধৃষ্টতা। স্কুলের রাস্তার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি নিজেও প্রতিহিংসার শিকার বলে জানান।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবুজ কুমার বসাক বলেন, স্কুলের রাস্তার ব্যাপারে লোক পাঠানো হয়েছিল। তারা সরেজমিন ঘুরে রিপোর্ট করেছে, শীঘ্রই স্কুলের রাস্তা বের করা হবে।’

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram