ঢাকা
logo
প্রকাশিত : August 13, 2026

মশা মারতে অকার্যকর ওষুধ

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন প্রতিবছর বিপুল টাকা ব্যয়ের পরও ডেঙ্গু পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। কারণ ব্যয়ের বড় অংশই যাচ্ছে এমন একটি পদ্ধতিতে, যাকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) ও দেশের কীটতত্ত্ববিদরা বহু বছর ধরেই অকার্যকর বলে আসছেন।

তা সত্ত্বেও সেই অকার্যকর ফগিং ও প্রচলিত কীটনাশক প্রয়োগের ওপরই নির্ভর করছে দুই সিটি করপোরেশনের মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত এক দশকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যয় করেছে ৩০৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকা এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ব্যয় করেছে ৫৯৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, অর্থাৎ দুই সিটি মিলিয়ে মোট ব্যয় ৮৯৮ কোটি ২৭ লাখ টাকা।

শুধু তা-ই নয়, এই অকার্যকর কীটনাশক ক্রয়, প্রয়োগ ও তদারকিতে অনিয়ম-দুর্নীতিও চলছে। এরই মধ্যে ডিএনসিসি বাজারদরের প্রায় ১০ গুণ বেশি দামে ওষুধ কেনার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার পরও বড় কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দুই কর্মকর্তাকে বদলি করেই দায় সেরেছে।

এ ছাড়া ডিএসসিসির মশা নিয়ন্ত্রণে মাঠে থাকা মশককর্মীদের অবহেলা ও নিয়মিত কীটনাশক প্রয়োগ না করায় আলাদা মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে, যেখানে বেশ কয়েকজন মশককর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। কিন্তু দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি দুই সিটি করপোরেশন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ কীটতত্ত্ববিদ ড. বি এন নাগপাল ২০১৯ সালে ঢাকায় এসে বলেছিলেন, ফগার মেশিন দিয়ে রাস্তা বা উন্মুক্ত স্থানে কীটনাশক ছিটিয়ে এডিস মশা দমন করা সম্ভব নয়। তাঁর ভাষায়, এটি একটি ‘মিথ’।

তিনি আরো বলেন, ফগিংয়ে ব্যবহৃত মিশ্রণের প্রায় ৯৫ শতাংশই ডিজেল বা কেরোসিন, যা মানুষের শ্বাসতন্ত্র ও হৃদযন্ত্রের জন্যও ক্ষতিকর। এ কারণেই ডাব্লিউএইচও ফগিংকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে সুপারিশ করে না।

কিন্তু সেই সতর্কবার্তার সাত বছর পরও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রধান কার্যক্রম ফগিং ও রাস্তা-ড্রেনে কীটনাশক ছিটানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার বলেন, ‘ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করতে হলে এডিস মশার প্রজননস্থলকে লক্ষ্য করে ব্যবস্থা নিতে হবে। কিউলেক্স মশার জন্য যে পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, সেটি এডিস মশার ক্ষেত্রে কার্যকর নয়।

ফগিং কার্যকর কোনো পদ্ধতি নয়। ল্যাবে কার্যকর কীটনাশকও মাঠে ফগিংয়ের মাধ্যমে কার্যকর ফল দেয় না।’তিনি বলেন, এডিস মশা ড্রেন বা নোংরা পানিতে নয়, বরং বাসাবাড়ির আশপাশের পরিষ্কার পানিতে জন্মায়। অথচ সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম এখনো মূলত রাস্তা, ড্রেন ও উন্মুক্ত স্থানে সীমাবদ্ধ। ফলে প্রকৃত প্রজননস্থলগুলো নিয়ন্ত্রণের বাইরে থেকে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা আরো জানান, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের কীটনাশক ব্যবহারের ফলে বেশির ভাগ ওষুধের বিরুদ্ধে এডিস মশার প্রতিরোধক্ষমতা (রেজিস্ট্যান্স) তৈরি হয়েছে। তাই শুধু ওষুধ ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বলছে, তারা এডিস ও কিউলেক্স—দুই ধরনের মশার জন্য একই পদ্ধতিতে কীটনাশক প্রয়োগ করছে। মশা কমলেই তারা মনে করে, তাদের প্রয়োগকৃত কীটনাশক ও পদ্ধতি কাজে দিচ্ছে।

ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার দাবি করেছেন, ‘আমরা নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন এলাকা থেকে আমাদের ব্যবহৃত দুটি ওষুধ সংগ্রহ করে দুটি পৃথক ল্যাবে পরীক্ষা করিয়েছি। রিপোর্টে ওষুধ কার্যকর পাওয়া গেছে। আমার মতে, সমস্যা ওষুধে নয়; সমস্যা মাঠ পর্যায়ে সঠিকভাবে প্রয়োগ ও তদারকিতে।’

তিনি জানান, সম্প্রতি ৫৩টি ওয়ার্ডে জরিপ চালিয়ে ৪০টির মতো ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি, স্থানীয় ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা এবং স্প্রে কার্যক্রমের তদারকি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি বিটিআইভিত্তিক নতুন একটি জৈব লার্ভিসাইড পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা সব ধরনের মশার জন্য একই পদ্ধতিতেই কীটনাশক প্রয়োগ করে আসছি। একই সঙ্গে আমরা মাঠ পর্যায়ে নজরদারি বাড়িয়েছি, কারণ বিগত সময়ে মাঠের মশককর্মীরা তাদের কাজে ফাঁকি দিত, যা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। মশা কমলেই আমরা মনে করছি, আমাদের কীটনাশক প্রয়োগ ও মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম ঠিক আছে।’

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু স্প্রে বাড়িয়ে বা নতুন ওষুধ ব্যবহার করে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে না। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, বাড়িভিত্তিক উৎস নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত নজরদারি এবং জনসচেতনতা ছাড়া এই সমস্যার সমাধান হবে না।

ওষুধ কেনায় দুর্নীতি

২০২৩-২৪ অর্থবছরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন জেনেটিকা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের কাছ থেকে নোভালুরন-০.৮পি নামের একটি লার্ভিসাইড প্রতি কেজি ২১ হাজার ৬৮ টাকা দরে কেনে। অথচ আমদানি, কর ও লাভসহ ওই ওষুধের প্রকৃত খরচ ছিল মাত্র দুই হাজার ১১৪ টাকা। অর্থাৎ বাজারদরের প্রায় ১০ গুণ বেশি দামে ওষুধ কেনা হয়। এই ঘটনার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার পর ডিএনসিসির সহকারী ভাণ্ডার ও ক্রয় কর্মকর্তা রাহাত আল ফয়সালকে শাস্তি হিসেবে ভাণ্ডার বিভাগ থেকে সরিয়ে ঢাকা উত্তর সিটির অঞ্চল-৪ এর সমাজকল্যাণ ও বস্তি উন্নয়ন বিভাগে সরিয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া এর সঙ্গে জড়িত তৎকালীন প্রধান ভাণ্ডার ও ক্রয় কর্মকর্তা রমেন্দ্র নাথ বিশ্বাসকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন থেকে সরিয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

রাহাত আল ফয়সাল বলেন, ‘বিদেশ থেকে কীটনাশক আমদানিকারক হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান, তাই ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জেনেটিকা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের দর সবচেয়ে কম থাকার কারণেই তাদের নোভালুরন-০.৮পি নামের লার্ভিসাইডটি সরবরাহের জন্য সিলেক্ট করা হয়। এ ছাড়া শুধু দর নয়, কীটনাশক সরবরাহ করার পরে সেটি পরীক্ষা করেই তাদের টাকা পরিশোধ করা হয়। এখানে যেহেতু ভেন্ডরের মাধ্যমে আমদানি করা হয়, তাই বাজারের মূল্য যাচাইয়ের খুব একটা সুযোগ নাই। এখন যদি বেশি মূল্যের দর দিয়ে কারসাজি করে, সেটা আমাদের জন্য চিহ্নিত করা কঠিন ছিল। যদি তার চেয়ে কম দরের কেউ টেন্ডারে অংশ নিত, তাহলে তারা আমদানির জন্য টেন্ডার পেত।’

তিনি আরো বলেন, ‘ওই ঘটনার পরেই আমাকে সরিয়ে অঞ্চলে দেওয়া হয়, একই সঙ্গে একটি তদন্ত কমিটি হয়। পরে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আদৌ প্রকাশিত হয়েছে কি না আমার জানা নেই।’

শুধু এই ঘটনাই নয়, ঢাকা উত্তরে এর আগেও বিটিআই আমদানি নিয়েও অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনা ঘটে। ২০২৩ সালে সিঙ্গাপুর থেকে ব্যাসিলাস থুরিনজিয়ানসিস ইসরায়েলেনসিস (বিটিআই) নামের জৈব কীটনাশক আনে ডিএনসিসি। মার্শাল অ্যাগ্রোভেট নামের একটি প্রতিষ্ঠান এটি আমদানি করে ডিএনসিসিকে সরবরাহ করে। সেখানে মার্শাল অ্যাগ্রোভেট সিঙ্গাপুরের বেস্ট কেমিক্যাল লিমিটেডের কাছ থেকে বিটিআই আমদানি করে বলে উল্লেখ করলেও তারা মূলত চীন থেকে আমদানি করে। তখন বেস্ট কেমিক্যাল লিমিটেড জানায়, তারা মার্শাল অ্যাগ্রোভেটকে চেনে না এবং এই নামে কোনো পণ্য তারা বাংলাদেশি কোনো কম্পানির কাছে বিক্রি করেনি।

এমনকি তখন বিটিআই আমদানির লাইসেন্সও ছিল না মার্শাল অ্যাগ্রোভেটের। পরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন মার্শাল অ্যাগ্রোভেটকে কালো তালিকাভুক্ত করে এবং ওই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রায় ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ের পরও যদি ঢাকা ডেঙ্গুর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শহরই থেকে যায়, তাহলে শুধু বাজেট বাড়িয়ে নয়, পুরো মশক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাই বৈজ্ঞানিকভাবে পুনর্গঠন করতে হবে। তা না হলে প্রতিবছর একইভাবে অর্থ ব্যয় হবে, কিন্তু ডেঙ্গুর ভয়াবহতা কমবে না।

বাজেট বাড়ে, মশা কমে না

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ২০১৬-১৭ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই সময়ে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে মোট ৮৯৮ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। প্রায় প্রতিবছরই বাজেটের অর্ধেকের বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে কীটনাশক কেনায়। নতুন অর্থবছরেও একই ধারা অব্যাহত রয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে ডিএনসিসি মশা নিয়ন্ত্রণে ২০৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে, যার মধ্যে ৮০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে কীটনাশক কেনার জন্য। ডিএসসিসিও ১১৪ কোটি ৫০ লাখ টাকার বাজেটের ৫০ কোটি টাকা কীটনাশক কেনার জন্য বরাদ্দ রেখেছে।

গত অর্থবছরে (২০২৫-২৬) ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন মশা নিধনের ৯৪ কোটি টাকার মধ্যে ৫৩ কোটি টাকাই ব্যয় করেছে কীটনাশক কেনায়। আর দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ৩৩.৫ কোটি টাকার মধ্যে ৩০ কোটি টাকাই ব্যয় করেছে ওষুধ কিনতে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন প্রায় ৫৪ কোটি টাকার মধ্যে ৩৫ কোটি টাকা এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ৮৪ কোটি টাকার মধ্য ২১ কোটি টাকা ব্যয় করেছিল কীটনাশক কেনায়।

দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা মশক নিধনে খরচের ক্ষেত্রে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ধারেকাছেও নেই। অথচ এত টাকা খরচ হলেও নগরবাসী কাঙ্ক্ষিত সুফল পাচ্ছে না। খরচের সঙ্গে ঢাকায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুও বেশি হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের তথ্য মতে, এ বছরের শুরু থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৫৯ জনের। এর মধ্যে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনেই মৃত্যু হয়েছে ২৫ জনের। ওই দিন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৬৮৪ জনে।

গত বছর দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিল এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ জন এবং মারা যায় ৪১৩ জন। আর ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল এক লাখ এক হাজার ২১৪, যেখানে মৃত্যু হয়েছিল ৫৭৫ জনের।

ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, ‘আমরা শুধু কীটনাশক প্রয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, সোর্স চিহ্নিত করতে আমাদের টিম মাঠে কাজ করছে। তবে যেসব রোগী ঢাকা উত্তরের দেখানো হয়, সেগুলোর মধ্যে একটা বড় অংশই ঢাকার বাইরের রোগী।’

তিনি আরো বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের এলাকাগুলোর মধ্যে আমরা ২৫টি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে সেসব এলাকায় সোর্স আইডেন্টিফাই করতে কাজ করছি। সবচেয়ে বেশি সমস্যা সৃষ্টি করছে দুই ভবনের মাঝের অংশ, বাসার বারান্দা কিংবা পার্কিংয়ে জমে থাকা পানি। সিটি করপোরেশনের সঙ্গে নগরবাসী এগিয়ে এলে ঢাকায় ডেঙ্গুতে মৃত্যু শূন্যের কাছাকাছি নামিয়ে আনা সম্ভব।’

সুফল মিলছে না কীটনাশকে

ডেঙ্গু এবং মশাবাহিত অন্যান্য রোগ নিয়ন্ত্রণে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করছে সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। বছর বছর কীটনাশকের ব্যবহার বাড়লেও মশার ঘনত্ব এবং ডেঙ্গুর প্রকোপ কমছে না; বরং অনেক ক্ষেত্রে বাড়ছে।

গবেষকদের অভিযোগ, কীটনাশক ব্যবহারে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। অপ্রশিক্ষিত মশককর্মীরা গতানুগতিক নিয়মেই কীটনাশক প্রয়োগ করে যাচ্ছে।

কীটতত্ত্ববিদ ড. ইন্দ্রাণী ধর বলেন, ‘ব্যবহৃত কীটনাশকের মান, কার্যকারিতা, মেয়াদ ও প্রয়োগ পদ্ধতি নিয়মিত ও নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি। এডিস ও কিউলেক্স এ দুই ধরনের মশাই ঢাকায় বেশি ভোগায়। দুই ধরনের মশা দমনে সিটি করপোরেশনের পদ্ধতি একই, কিন্তু এদের আবাসস্থল ভিন্ন। তাই এদের একই পদ্ধতিতে দমন করা কঠিন। এডিস মশা জন্মে স্বচ্ছ পানিতে, অন্যদিকে কিউলেক্স জন্মে ড্রেন ও পচা-দূষিত পানিতে। তাই ঢাকায় যে মশার কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়, তা মূলত কিছুটা কিউলেক্স দমনে কাজ করে। কিন্তু এডিস মশা দমনে এই পদ্ধতি কাজে আসছে না।’

তিনি আরো বলেন, সিটি করপোরেশনগুলোর মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে নিয়োজিত অনেক কর্মী আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়ায় দক্ষতার ঘাটতি ও তদারকির দুর্বলতা দেখা যায়। নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে কম বা বেশি ওষুধ ব্যবহার, একই কীটনাশক দীর্ঘদিন প্রয়োগ কিংবা ভুল পদ্ধতিতে স্প্রে করার ফলে মশার মধ্যে দ্রুত প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হতে পারে। তাই শুধু ওষুধ কেনা নয়, সঠিক প্রয়োগ এবং নিয়মিত কার্যকারিতা মূল্যায়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অর্থায়নে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশারের নেতৃত্বে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে ব্যবহৃত ছয় ধরনের কীটনাশকের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা যায়, পরীক্ষাধীন ছয়টি কীটনাশকের মধ্যে পাঁচটির বিরুদ্ধেই এডিস মশার উল্লেখযোগ্য প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয়েছে। শুধু ম্যালাথিয়ন তুলনামূলকভাবে কার্যকর পাওয়া গেছে। গবেষণায় ডেল্টামেথ্রিনের কার্যকারিতা সবচেয়ে কম ছিল। এ ছাড়া আলফা-সাইপারমেথ্রিন, পারমেথ্রিন ও ইটোফেনপ্রক্সের কার্যকারিতাও সন্তোষজনক নয়। এর মধ্যে অকার্যকর কীটনাশকও ডিএসসিসি ব্যবহার করছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই বিশেষজ্ঞ।

ড. কবিরুল বাশার বলেন, প্রায় ২৫ বছর ধরে দেশে নিয়মিত মশার কীটনাশক ছিটানো হলেও মশার ঘনত্ব কিংবা মশাবাহিত রোগের প্রকোপ কমেনি। তাই শুধু কীটনাশক ছিটিয়ে দায় শেষ না করে কোন ওষুধ বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিয়মিত পরীক্ষা ও মূল্যায়নের ব্যবস্থা চালু করা জরুরি।

সুত্র: কালের কণ্ঠ

logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram