ঢাকা
২৩শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাত ৮:৪৯
logo
প্রকাশিত : মার্চ ১০, ২০২৫

ধর্ষণ থামছে না, ফেব্রুয়ারিতে দিনে গড়ে ১২টি মামলা

দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম ‘ধর্ষণ থামছে না, ফেব্রুয়ারিতে দিনে গড়ে ১২টি মামলা’। খবরে বলা হয়, মাগুরায় আট বছরের শিশু ধর্ষণের ঘটনায় দেশের নাগরিক সমাজ তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েছে। অব্যাহতভাবে চলতে থাকা নারী ও শিশু ধর্ষণ, নির্যাতন, নারীদের দলবদ্ধভাবে হেনস্তা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে রাতে–দিনে প্রতিবাদ হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ে ও সড়কে। প্রতিবাদ চলার সময়েও নারী–শিশু ধর্ষণের পরপর কয়েকটি ঘটনা উদ্বেগ–উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করেছে। এ পরিস্থিতির মধ্যে একটি আলোচিত শিশু ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামির জামিনে বেরিয়ে আসার ঘটনা ঘটেছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুসারে, এ বছরের ফেব্রুয়ারির ২৮ দিনে ধর্ষণের অভিযোগে দিনে গড়ে ১২টি মামলা হয়েছে। আগের বছরের ফেব্রুয়ারির ২৯ দিনে এই সংখ্যা একই ছিল। গত বছর সারা দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ১৭ হাজার ৫৭১টি মামলা হয়েছে। এই আইনে এ বছরের জানুয়ারি মাসে মামলা হয়েছে ১ হাজার ৪৪০টি। গত বছরের জানুয়ারিতে এই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৪৩।

৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসের দিনে গাজীপুরের শ্রীপুরে আরেকটি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। বনের ভেতর নির্জন স্থানে আরমান মিয়া নামের এক ব্যক্তি শিশুটিকে ধর্ষণ করে সে দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করেছেন এবং সেই ভিডিও ক্লিপ তিন বন্ধুকে পাঠিয়েছেন। ওই ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়ে এলাকাবাসী পুলিশের জিম্মায় দেন। একই দিনে ঠাকুরগাঁওয়ের সদর উপজেলায় পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার হন মোজাম্মেল হক মানিক নামের এক শিক্ষক। ৮ মার্চ রাতে কেরানীগঞ্জে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারী দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। মামলার পর আশরাফুল ও দীপ সরকার নামের দুই অটোরিকশাচালককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

২০১৬ সালে দিনাজপুরে যৌনাঙ্গ ব্লেড দিয়ে কেটে পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ করেন প্রতিবেশী সাইফুল ইসলাম। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় সাইফুলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। আদালত থেকে জামিন নিয়ে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুর জেলা কারাগার থেকে মুক্ত হয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় ক্ষোভ সৃষ্টি হলেও আসামিকে আবার কারাগারে পাঠানোর মতো কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। ওই শিশুর বাবা ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রথম আলোকে বলেছেন, আসামি চোখের সামনে ঘুরে বেড়ায়। তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে এখন ঘর থেকে বের হতে চান না।

নারী ও শিশু অধিকার নিয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের মতে, নারী ও পুরুষের মধ্যে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা ও অপরাধকে ছোট করে দেখার কারণে অপরাধীরা অপরাধ করার প্রশ্রয় পাচ্ছে। অপর দিকে মামলা হওয়ার পর দীর্ঘ সময় নিয়ে তদন্ত করা, ধর্ষণের মামলার ক্ষেত্রে ডিএনএ প্রতিবেদন আবশ্যক—সেই প্রতিবেদন দেরিতে দেওয়া, বিচারে দীর্ঘসূত্রতা, বড় অপরাধেও আসামির জামিন হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনায় অপরাধ বাড়ছে। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হয় ৮ আগস্ট। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যথেষ্ট সক্রিয় না হওয়ায় সেই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে অপরাধী চক্র। নারী ও শিশু এখানে বড় টার্গেটে পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম প্রথম আলোকে বলেন, যেকোনো রাজনৈতিক, সামাজিক, প্রাকৃতিক অস্থিরতার সময় নারী ও শিশুর প্রতি যৌন–সন্ত্রাস বাড়ে। এখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক। ৫ আগস্টের পর অনেক কয়েদি পালিয়েছেন। এখন নারীবিদ্বেষী প্রচারও বাড়ছে। আর বিচার না হওয়ার দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি তো এ দেশে রয়েছেই। এ সুযোগগুলো নিচ্ছে অপরাধীরা। শুধু নারী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এ অপরাধ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে না। সবাইকে সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদ করতে হবে।

নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগে মামলা

গত বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সারা দেশের থানা ও আদালতে কতসংখ্যক ধর্ষণের মামলা হয়েছে, সে তথ্য পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাওয়া গেছে। এ সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৩৩২। ওই ৯ মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগে হওয়া মোট মামলার ৩৪ শতাংশ ধর্ষণের। এ ছাড়া ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে ১ হাজার ৮৭০টি।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এর তথ্য অনুসারে, গত বছরের আগস্ট থেকে এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত সাত মাসে ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ জানিয়ে কল এসেছে ৩৪৮টি।

নারী ও শিশু নির্যাতনের যেসব ঘটনা গুরুতর হয়, সেসব উঠে আসে সংবাদমাধ্যমে। এর বাইরে অনেক খবর আড়ালেই থেকে যায়। নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতন বিষয়ে ১৬টি জাতীয় দৈনিকের তথ্য সংকলন করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ জানিয়েছে, গত বছর নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের ২ হাজার ৫২৫টি খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত ৭ মাসে ১ হাজার ৬৬৪টি ও আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫ মাসে ৮৬১টি নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। গত বছর ৩৪৫ জন ধর্ষণ, ১৪২ জন দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ২৩ জনকে। ধর্ষণের কারণে আত্মহত্যা করেন ছয়জন।

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান ও পুলিশবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুহাম্মদ উমর ফারুক নারী ও শিশু নির্যাতন, এ–সংক্রান্ত মামলা ও বিচার পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক গবেষণা করেছেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, সামাজিক ও আইনি কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ায় অপরাধের ওপর নিয়ন্ত্রণ কমে যাচ্ছে। ফলে নারী ও শিশু নির্যাতন বাড়ছে। নির্যাতনের চিত্র আগের ধারাতেই রয়েছে। ২০২০ সালের গবেষণায় দেখা গেছে, নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগে হওয়া মামলায় বিচারের হার শূন্য দশমিক ৪২ শতাংশ। এটা খুব উদ্বেগজনক চিত্র। এমন বিচারব্যবস্থা ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়া নির্যাতন না কমার বড় কারণ।

যুগান্তর

‘প্রতিবাদে উত্তাল দেশ’-এটি দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, মাগুরায় আট বছরের শিশু ধর্ষণের ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে সারা দেশ। প্রতিবাদ-বিক্ষোভে উত্তাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ধর্ষকদের বিচারের দাবিতে শনিবার মধ্যরাত থেকেই শুরু হয় শিক্ষার্থীদের লাগাতার আন্দোলন। সড়কে নেমে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থীরা। এছাড়া রোববার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সারা দেশেই বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও নারী অধিকার কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষও এই প্রতিবাদ-বিক্ষোভে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি রাজধানীতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকারি ও বেসরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরাও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন। এসব সমাবেশ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাগুরায় শিশু ধর্ষণে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারকে আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। নারীদের নিরাপত্তায় ব্যর্থতার দায়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করেছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ঢাবিতে নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘ধর্ষণবিরোধী মঞ্চ’ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ঢাবির বিভিন্ন বিভাগের ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ সমাবেশের পাশাপাশি লাঠি মিছিল করেছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। ওদিকে ধর্ষকদের ফাঁসির দাবিতে মাগুরায় আদালত চত্বরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন ছাত্র-জনতা ও আইনজীবীরা। আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী না দাঁড়ানোরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে তীব্র প্রতিবাদ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। উদ্যোগ নিয়েছে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণসংক্রান্ত আইন সংশোধনের। ধর্ষণ মামলার বিচার ১৮০ দিনের পরিবর্তে ৯০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা। মামলার তদন্ত ৩০ দিনের পরিবর্তে ১৫ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে। তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন করা যাবে না।

কালের কণ্ঠ

দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার খবর ‘ধর্ষকের বিচার দাবিতে ক্ষোভে ফুঁসছে দেশ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশজুড়ে অব্যাহত ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে পুরো দেশের মানুষ। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গত শনিবার রাত থেকে বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু করেন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গতকাল রবিবার সকাল থেকে দিনব্যাপী এই বিক্ষোভ সমাবেশ ছড়িয়ে পড়ে দেশের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ে। ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ।

ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। ধর্ষণবিরোধী মঞ্চের ব্যানারে গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বিভিন্ন হল থেকে শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে নারী-শিশু নিপীড়ন ও ধর্ষণের প্রতিবাদ এবং ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

রাত ৮টার দিকে একটি মশাল মিছিল নিয়ে রাজু ভাস্কর্য থেকে ভিসি চত্বর দিয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। ধর্ষণবিরোধী মঞ্চের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে দিনের বেলায় ঢাবির অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক আয়োজিত ‘নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ সমাবেশে’ শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

সমকাল

‘ধর্ষণ নিপীড়ন নারীবিদ্বেষ রুখো’-এটি দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, নারীর প্রতি বিদ্বেষ, ধর্ষণ, নির্যাতন বন্ধে ক্ষোভ-বিক্ষোভে প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠেছে গোটা দেশ। নানা স্থানে শিশু ধর্ষণসহ নারী নিপীড়ন বেড়ে যাওয়ার পটভূমিতে দল-মত নির্বিশেষে প্রতিবাদী কর্মসূচি নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। গতকাল রোববার সকাল থেকে মধ্যরাত অবধি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের নানা প্রান্তে সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন ও মিছিল করতে দেখা গেছে। কোথাও কোথাও সড়ক-মহাসড়ক আটকে বিক্ষোভ করেন মানুষ। তাদের স্লোগানে অভিন্ন দাবি– ধর্ষক-নিপীড়ককে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর নানা দাবি-দাওয়া নিয়ে বিভিন্ন সংগঠন বিক্ষোভ করে আসছে। তবে দু’দিন ধরে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধ প্রশ্নে মানুষ যেভাবে মাঠে নেমেছেন, এমন স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ গত সাত মাসে দেখা যায়নি। এমনকি নিকট অতীতেও এই ইস্যুতে সর্বস্তরের মানুষের মধ্য থেকে উঠে আসা এত বড় বিক্ষোভ কমই দেখা গেছে।

এ পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিনির্ধারকরা ধর্ষক ও নারী নির্যাতকের কঠোর শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন। গতকাল আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, ধর্ষণের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান জিরো টলারেন্স। দেশে ধর্ষকের স্থান হবে না। একই দিন আইন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ মামলায় জামিন পাওয়ার অধিকার আমরা রাখব না।

ইত্তেফাক

দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম ‘ধর্ষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে উত্তাল সারা দেশ’। খবরে বলা হয়, ধর্ষণ ও নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে উত্তাল সারা দেশ। গতকাল রবিবার দেশের বিভিন্ন স্থানে মিছিল-সমাবেশ করে ধর্ষক ও নিপীড়কদের কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে লাঠিমিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা। ‘ধর্ষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’ প্ল্যাটফরমের ব্যানারে বেলা পৌনে ৩টার দিকে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে থেকে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। বাঁশের ছোট ছোট লাঠি হাতে ভিসি চত্বর, নীলক্ষেত, কাঁটাবন, শাহবাগ মোড় ঘুরে মিছিলটি আবার রাজু ভাস্কর্যে এসে শেষ হয়।

এই কর্মসূচিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সামিনা লুত্ফাসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্য ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। মিছিলে ‘জান, মালের নিরাপত্তা দে/নইলে গদি ছেড়ে দে’, ‘খুন, ধর্ষণ, নিপীড়ন/রুখে দাঁড়াও জনগণ’, ‘অবিলম্বে ধর্ষকদের/বিচার করো করতে হবে’, ‘ধর্ষকরা ধর্ষণ করে/প্রশাসন কী করে?’, ‘বেগম রোকেয়া শিখিয়ে গেছে/লড়াই করে বাঁচতে হবে,’ ইত্যাদি স্লোগান দেওয়া হয়।

এই কর্মসূচি থেকে ৯ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে জননিরাপত্তাদানে ব্যর্থ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে দায় স্বীকার করে পদত্যাগ; সারা দেশে অব্যাহত ধর্ষণ, নারী নিপীড়ন, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, ধর্ষণ ও নিপীড়নের সব ঘটনার বিচারের জন্য আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠন, ধর্ষণ ও নারী নিপীড়ন প্রতিরোধের আইনসমূহে প্রয়োজনীয় যৌক্তিক সংযোজন, বিয়োজন ও সংশোধন উল্লেখযোগ্য। কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে লেখক নিগার সুলতানা বলেন, প্রতীকী প্রতিবাদ জানাতে লাঠি নিয়ে এসেছেন। তারা শিশু, নারীসহ প্রত্যেকের নিরাপত্তা চান। অপরাধীরা শাস্তি পেলে অপরাধ করার প্রবণতা কমে আসবে।

নয়া দিগন্ত

‘নারীর প্রতি সহিংসতায় উত্তাল দেশ’-এটি দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, মাগুরাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেছে রাজনৈতিক দল ও সংগঠনসমূহ। বিক্ষোভকারীরা দ্রুত ধর্ষণকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

এদিকে, ধর্ষণের মামলা ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত ও ৯০ দিনের মধ্যে বিচারকাজ শেষ করার নির্দেশনা দিয়েছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, ধর্ষণকে জামিন অযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। ধর্ষণের মামলাগুলো তদারকির জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের আলাদা একটা সেল থাকবে, যেন অযথা সময়ক্ষেপণ না করা হয়।

অপর দিকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব:) মো: জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ধর্ষণসহ নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। ধর্ষণের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান জিরো টলারেন্স।

গতকাল রোববার আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কোর কমিটির বৈঠক শেষে আইন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে দুই উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

বণিক বার্তা

দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম ‘আমদানি নয়, দেশীয় পণ্য ৮৪ শতাংশ ভূমিকা রাখছে মূল্যস্ফীতিতে’। খবরে বলা হয়, দেশে মূল্যস্ফীতির পেছনে বিগত সরকার বরাবরই আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি, যুদ্ধবিগ্রহ ও আমদানির লাগাম টানাকে সামনে এনেছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এর কারণ নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য সামনে আসতে থাকে। যেখানে উঠে আসে, মূল্যস্ফীতিতে স্থানীয় বাজারের পণ্যের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি। সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে দেশের অর্থনীতির এক পর্যালোচনায়ও সে বিষয়টি উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যালোচনাও বলছে, মূল্যস্ফীতির পেছনে স্থানীয় পণ্যগুলোর ভূমিকা ৮৪ শতাংশ। অন্যদিকে কেবল ১৬ শতাংশ আমদানি পণ্যের কারণে মূল্যস্ফীতি বেড়ে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা হ্রাস পাওয়ার পেছনে সবজির দাম কমার প্রভাবকে সামনে আনছেন অর্থনীতিবিদরা। তাই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদহার বাড়িয়ে টাকার সরবরাহ হ্রাসের কৌশল কতটা কাজের সে প্রশ্নও উঠছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যমতে, ফেব্রুয়ারিতে দেশের গড় মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। সবজির দাম কমায় গত মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ২৪ শতাংশে নেমেছে। গত বছরের মার্চের পর তা আর এক অংকের ঘরে নামতে দেখা যায়নি।

আজকের পত্রিকা

‘নিরাপত্তা নেই শিশুর, ৮ বছরে ধর্ষণের শিকার প্রায় ৫ হাজার’-এটি আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, মাগুরায় বোনের বাড়িতে গিয়ে গত বৃহস্পতিবার ৮ বছরের এক শিশুর ধর্ষণের শিকার হওয়ার ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে সারা দেশ। প্রতিবাদে পথে নেমেছেন নারীসমাজ ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ। এর মধ্যেই গাজীপুরে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৮ বছরের আরেক শিশুশিক্ষার্থী। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের হিসাব বলছে, দেশে এভাবেই প্রতিনিয়ত নিপীড়ন ও সহিংসতার শিকার হচ্ছে শিশুরা। শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের ঘটনা বাড়ছে বলেও জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মীরা। পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র কেউই শিশুকে নিরাপত্তা দিতে পারছে না বলে মনে করেন তাঁরা।

বেসরকারি সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আট বছরে দেশে সহিংসতার শিকার হয়েছে অন্তত ৯ হাজার ৬৭৭ শিশু, অর্থাৎ যাদের বয়স ১৮ বছরের কম। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক, ৪ হাজার ৮০১ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছে। গত আট বছরে ধর্ষণের শিকার শিশুদের মধ্যে অন্তত ৫৩৯ জনের বয়স ছয় বছরের কম। আর ১ হাজার ২৮ জনের বয়স সাত থেকে বারো বছরের মধ্যে।

আসকের (আইন ও সালিশ কেন্দ্র) তথ্য বলছে, গত আট বছরে ৪ হাজার ৩৮৯ শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। এদের মধ্যে অন্তত ৯৯৯ জনের বয়স ছিল ছয় বছরের কম। আর ৯২৯ জনের বয়স সাত থেকে বারো বছরের মধ্যে। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ২৪০ শিশুকে। এদের মধ্যে ৩৩ শিশুর বয়স ছয় বছরের কম। আর ৯৮ জনের বয়স সাত থেকে বারো বছরের মধ্যে।

দেশ রূপান্তর

দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘আ.লীগ নেতা পুলিশ আমলাসহ ৪৬৭ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা’। খবরে বলা হয়, দীর্ঘদিন ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের পতনের পর দলটির নেতাকর্মীরা চলে যান আত্মগোপনে। অথচ ১৬টি বছর তাদের অত্যাচারে মানুষ ছিল দিশেহারা। ক্ষমতায় টিকে থাকতে গুম-খুন অপহরণ, নির্যাতন মিথ্যা মামলাসহ সব ধরনের অপকর্মে জড়িত ছিল হাসিনা সরকার। তার দলের নেতারা ছিলেন অপকর্মে অপ্রতিরোধ্য। এদের কেউ কেউ বিনা ভোটে এমপি হয়েছেন; স্বাদ নিয়েছেন মন্ত্রিত্বেরও।

মূলত আওয়ামী অপকর্মের সহযোগী ছিল স্বয়ং পুলিশ ও প্রশাসন যন্ত্র। যার মধ্যে চিহ্নিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের বেশ কিছু কর্মকর্তা। কোটাবিরোধী আন্দোলনেও নির্বিচারে ছাত্র-জনতাকে হত্যার সঙ্গেও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এসব কর্মকর্তার। এখন পুলিশ, আওয়ামী লীগ নেতা, আমলাসহ ৪৬৭ জনের দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞায় বিমানবন্দর ও সীমান্তে বিশেষ বার্তা দেওয়া হয়েছে।

ইতিমধ্যে তাদের তালিকা করা হয়েছে। সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার সুপারিশ আমলে নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তর তালিকাটি চূড়ান্ত করেছে। তালিকার মধ্যে ৪৬৭ জন যাতে দেশের বাইরে যেতে না পারেন সেই জন্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। দেশের সবকটি বিমানবন্দর ও সীমান্ত এলাকায় ‘বিশেষ নোটিস’ পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশের একটি সূত্র দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছে।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +880 2-8878026, +880 1736 786915, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram