

উদ্যোগ সাত হাজার কোটি টাকারও বেশি। বিশাল মাল্টি স্টিল গ্রিন ফ্যাক্টরি।
উন্নত প্রযুক্তির মেলবন্ধনে বিরাট কর্মযজ্ঞ। বিপুল কর্মসংস্থান। সরকারের খাতায় বড় অঙ্কের রাজস্ব সম্ভাবনা। বছরে উৎপাদন সাড়ে ১২ লাখ টন স্টিল।
দেশের নির্মাণশিল্পের চেহারা পাল্টে দিতে ‘বসুন্ধরা মাল্টি স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড-বিএমএসআইএল’-এর এমনই জোর প্রস্তুতি। সব আয়োজন ঠিকঠাক। প্রায় ৫০০ কোটি টাকার এলসিতে ২৭৫ কনটেইনারে টনকে টন বাক্সবন্দি যন্ত্রপাতি এলো বন্দরে। কিন্তু না, এর পরই বড় ধাক্কা।
যেন সব আয়োজন মাটি! এ উদ্যোগের সঙ্গে ‘বসুন্ধরা’ নামই যত মাথাব্যথার কারণ! এই একটি নামই সব প্রতিহিংসা, জেদ আর রোষানলের নিরপরাধ শিকারে পরিণত হলো যেন! অভিযোগ উঠেছে, ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের অদৃশ্য ইশারায় সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের কলমের এক ‘খোঁচায়’ আটকে গেল সব। শিল্পবিরোধী নীতির ‘চোরাচালে’ বেঁকে বসল ব্যাংক। বসুন্ধরা নামধারী সব প্রতিষ্ঠানকে ‘রেড’ তালিকাভুক্ত করে, একক ঋণ গ্রহীতা হিসেবে বিবেচনা করে এলসির সব ডকুমেন্ট আটকে দেওয়া হলো। ওই দিকে, বন্দরে অলস পড়ে রইল একে একে জমতে থাকা পৌনে তিন শ কনটেইনারের বিশাল স্তূপ। পড়ে থাকতে থাকতে বন্দর ও শিপিং লাইন্সসহ অন্যান্য ‘ড্যামারেজ’ মাশুলই জমা হলো ৯৫০ কোটি টাকা।
তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা ও বিএমএসআইএল সূত্র বলছে, দীর্ঘ ১৩ মাস পর ক্ষমতার পালাবদলে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলে ভুল ভাঙে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। বিষয়টি পর্যালোচনা করে বৈষম্যমূলক নীতির পক্ষপাতিত্ব তুলে দেওয়া হয়। আর এতেই অন্তর্বর্তীর ‘একচোখা’ নীতি যে ‘বসুন্ধরা’ বধের ষড়যন্ত্র ছিল—তা ক্রমেই প্রমাণ হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিষ্কার
করে দেয়, বসুন্ধরার নামে অন্য যেসব গ্রুপ রয়েছে, সবই একক সত্তা নয়, বরং আলাদা সত্তা। বিনা দোষে ‘নিরপরাধী’ বসুন্ধরাকে শিকার বানানোর মাশুল বসুন্ধরা মাল্টি স্টিলসহ ঠিকই সব প্রকল্পই ভোগ করল। অথচ এরই মধ্যে তিন বছর পার হয়ে গেল। আর ‘কর্ণফুলী দিয়েও অনেক জল গড়াল।’ কিন্তু কারখানা চালুর আগেই বিএমএসআইএলের ঘাড়ে পড়ল প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার লোকসানের বোঝা।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন-বিটিএমের প্রেসিডেন্ট শওকত আজিজ রাসেল বলেন, ‘একজন ব্যবসায়ীকে দোষ দেওয়ার সুযোগ আমি দেখছি না। ডলারের দরের কারণে লোকসান হয়েছে। আবার রিপেমেন্ট করার সময়ও বাড়তি দরে ডলার কিনতে হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আমাদের পলিসি তৈরিতে ঘাটতি ছিল। বিশেষ করে ইউনূস সরকারের সময়। তারা ১৮ মাসে দেশটাকে একদম ডেস্ট্রয় করে দিয়ে গেছে। তাদের ডানে-বাঁয়ে সুন্দর কথা, বিদেশি কথা, মার্কেটিংয়ের লোক, তারপর ফাইন্যানসের লোক, এনভায়রনমেন্টের লোক...তারা অলমোস্ট ফেল। আর আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি করেছে, তারা এলএনজি সাপ্লাই সোর্স, আমাদের রপ্তানি, আমাদের বিদেশি পারচেজেও ইন্টারফেয়ার করছে। এসব চুক্তি তো ঠিক হয়নি। সবকিছু মিলিয়ে তারা অনেক ক্ষতি করে গেছে। এখন আমরা পুরো হ্যান্ডিকেপ একটি কান্ট্রি হয়ে গেছি। আমাদের হাত বাঁধা। ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে পারছেন না। ভাইব্রেন্ট ইকোনোমিতে যে মানি সার্কুলেশন করে, তা ক্রমে কমে যাচ্ছে।’
সূত্র থেকে আরো জানা যায়, ২০২২ সালে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী সরকারের সময়েই মিরসরাই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় ৭০ একর জমিতে সাফওয়ান বসুন্ধরা গ্লোবালের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা মাল্টি স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামের একটি মেগা স্টিল ফ্যাক্টরি করার অনুমতি দেওয়া হয়। এর কমিশনিং হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালে। এখন ২০২৬ সালেরও প্রায় আট মাস শেষ। কারখানাটি চালু হয়নি। এই প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, উন্নত প্রযুক্তির এই কারখানাটির নকশা এমনভাবে করা হয়েছে যে, অপেক্ষাকৃত কম পরিচালন ব্যয়ে এখানে কাঙ্ক্ষিত স্টিল উৎপাদন সক্ষম। এটি বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো রিবার কয়েল ও ওয়্যার রড উৎপাদন করার কথা, যেগুলো বিপুল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এই কারখানায় প্রতি টন রড উৎপাদনে তিন হাজার টাকা সাশ্রয়, অন্তত সাত হাজার লোকের সরাসরি ও প্রায় এক লাখ লোকের পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান হওয়ার কথা।
কারখানাটি যাতে যথা সময়ে চালু হতে পারে, সে জন্য অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের প্রতিশ্রুত সব ইউটিলিটি সেবাও নিজের উদ্যোগে সম্পন্ন করতে থাকে বিএমএসআইএল কর্তৃপক্ষ। এ জন্য জমি ও ইউটিলিটি সেবা প্রস্তুতে পৃথকভাবে ৩০০ কোটি করে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়। তাতেও গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির সংযোগ পাওয়া যায়নি।
এই প্রকল্পে অর্থায়নের অংশ হিসেবে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ আমদানির জন্য ২০২২ সালে কয়েকটি ব্যাংক সিন্ডিকেটেড টার্ম লোন অনুমোদন দেয় এবং প্রায় ৫৫০ কোটি টাকার এলসি খোলা হয়। ওই সময় ডলারের দর ছিল ৮৪ থেকে ৮৬ টাকা। ওই সালের শেষের দিকে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাবে ডলারের দর বেড়ে গেলে টাকার প্রায় ৪০ শতাংশ অবমূল্যায়ন হয়। ব্যাংকগুলো ২০২২-২৩ সালের মধ্যেই সরবরাহকারীদের পাওনা শোধ করে। কিন্তু ৩৬০ দিনের পেমেন্ট ছাড় থাকায় ব্যাংকগুলো বিএমএসআইএলের কাছে পেমেন্ট চায়নি। কিন্তু ২০২৪ সালের শুরুতে তারা বিএমএসআইএলের কাছে এককালীন ৮৫০ কোটি টাকা চেয়ে বসে। অর্থাৎ ৫০০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতির বিপরীতে মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও মুদ্রাস্ফীতির খেসারত হিসেবে অতিরিক্ত সাড়ে ৮০০ কোটি টাকা চার্জ করা হয়।
মানে এই পুরো টাকাটাই প্রকল্পটির ওপর বাড়তি খড়গ হয়ে আসে। তার পরও বিএমএসআইএলও ওই টাকা জোগাড় করে পণ্যের ডকুমেন্ট হস্তান্তরের বিনিময়ে তা ব্যাংককে দিতে চায়। কিন্তু বসুন্ধরা মাল্টি স্টিলের পক্ষ থেকে টাকার বন্দোবস্ত থাকার পরও তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘ইশারায়’ ডকুমেন্ট দিতে আপত্তি জানায় ব্যাংকগুলো। আর তখনই আটকে যায় বিশাল আয়োজনের বাংলাদেশের প্রথম গ্রিন মাল্টি স্টিল কারখানাটি। কনটেইনারবন্দি হয়ে থাকে সব মালপত্র-যন্ত্রপাতি। এই ধাক্কায় ওই স্টিল কারখানাটি পিছিয়ে যায় তিন বছর। এই যে মাঝখানে তিন বছরের বিলম্ব—এতে স্টিল কারখানাটি এখনো প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ লোকসান গুনছে। এখনো কাজ শুরু হলে এর কমিশনিং ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ হতে পারে বলে আশা করা যাচ্ছে।
বিএমএসআইএলের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এলসিগুলো ক্যাপিটাল মেশিনারির জন্য খোলা হয়েছিল, কাঁচামালের জন্য নয়। কাঁচামাল কয়েক মাসের মধ্যে প্রক্রিয়াজাত ও বিক্রি করে দায় পরিশোধ করা যায়। একটি রোলিং মিলের ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়। প্রি-রেভিনিউ প্রকল্পে এ ধরনের চার্জ আরোপ প্রচলিত প্রকল্প অর্থায়ন পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। পরের ১৩ মাসেই ড্যামারেজ জমেছে। এই ব্যয় মুদ্রার কারণে তৈরি হয়নি এবং আমাদের কারণেও হয়নি।’
কর্মকর্তারা আরো জানান, যে সময় ব্যাংক ৮০০ কোটি টাকা দাবি করে, তা জোগাড় করার পরও ব্যাংক বেঁকে বসে এবং ডকুমেন্ট হস্তান্তর করেনি। যদি ওই সময় তা করা হতো তাহলে কনটেইনারগুলো কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের মাধ্যমে বের করে যন্ত্রপাতি স্থাপন করা সম্ভব হতো। এই সময়ের মধ্যেই বন্দর ও শিপিং ড্যামারেজ প্রায় ৪০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছিল। ড্যামারেজ বাড়ছিল, সুদও চলমান ছিল। অথচ ২০২৬ সালের এপ্রিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশে অগ্রণী ব্যাংক বিএমএসআইএলকে ওই নির্দেশনা থেকে পৃথকভাবে বিবেচনার নির্দেশ দেয়। তত দিনে সর্বনাশ যা হওয়ার হয়ে যায়।
উল্লেখ্য, অগ্রণী ব্যাংকের নেতৃত্বে সিন্ডিকেটেড ফ্যাসিলিটিও স্থবির রয়েছে। অগ্রণী ব্যাংকের নেতৃত্বে আটটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের একটি কনসোর্টিয়ামে সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া ও এসবিএসি রয়েছে। এরা মোট দুই হাজার ৩৫০ কোটি টাকার সিন্ডিকেটেড টার্ম লোন অনুমোদন করে। এর মধ্যে ছাড় হয় মাত্র ৫৭৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ মোট অনুমোদনের ২৪.৫১ শতাংশ। আরো এক হাজার ৭৭৪ কোটি টাকা এখনো ব্যাংকের কবজায়।
৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত প্রকল্পের সুদ ও আবগারি শুল্কের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৫৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২৪৬ কোটি টাকা সিন্ডিকেটেড ঋণের বিতরণকৃত অংশে এবং ৬১১ কোটি টাকা ‘ফোর্সড লোনের’ ওপর। এই ব্যয় এখনো বাড়ছে। বিএমএসআইএল এ পর্যন্ত ৪১১ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে, যা স্পন্সর ইকুইটি ও অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে দেওয়া হয়েছে।
অথচ ওই স্টিল প্লান্টটি শুধু ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের রোষানলে পড়ে এখনো এক ইঞ্চি স্টিলও উৎপাদন করতে পারেনি। এ সময় ঋণের সুদের হার প্রায় ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় ১৬ শতাংশে পৌঁছেছে। মুদ্রার অবমূল্যায়নের কারণে প্রকল্পের মোট বিনিয়োগের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা চার হাজার ১৬০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে এখন প্রায় সাত হাজার ১১৮ কোটিতে পৌঁছেছে।
এই প্লান্টটি করতে গিয়ে পদে পদে ভুগতে হয়েছে। অর্থনৈতিক অঞ্চলের অভ্যন্তরে ইউটিলিটি অবকাঠামো স্থাপন সরকার ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) দায় হলেও বসুন্ধরা মাল্টি স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজ এ খাতে কার্যত দুবার অর্থ ব্যয় করেছে। গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপনের জন্য ৫০ বছর মেয়াদে বসুন্ধরা প্রথমে ২৯০ কোটি টাকা অগ্রিম পরিশোধ করে। পরে ইউটিলিটি সেবা চাওয়া হলে বেজা জানায়, তাদের কাছে পর্যাপ্ত অর্থ নেই এবং তারা কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমাও দিতে পারছে না। এরপর সংযোগ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য বসুন্ধরা মাল্টি স্টিল কর্তৃপক্ষ নিজস্ব উৎস থেকে আরো ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে ২৫০ কোটি টাকা, গ্যাস সংযোগে ৪০ কোটি টাকা এবং পানির লাইনে ১০ কোটি টাকা।
কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি দৈনিক তিন মিলিয়ন স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক ফুট গ্যাস সরবরাহ অনুমোদন করে এবং বেজা ও বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ অনুমোদন করে। তবে এসব সরবরাহ বাস্তবে পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় ভৌত অবকাঠামো বিএমএসআইএলের নিজস্ব অর্থেই নির্মিত হয়।
স্টিল প্লান্টের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা দুবার টাকা দিয়েছি। একবার মেয়াদের জন্য, আরেকবার তা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য। তার পরও এমন কারণে আমরা পিছিয়েছি যে তা সম্পূর্ণভাবে আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল।’
বিএমএসআইএল কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রকল্পটির ওপর প্রধান তিনটি আর্থিক চাপ প্রায় সমপরিমাণ এবং এর কোনোটিই নির্মাণ ব্যয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। প্রকল্প শুরুই হয়নি। অথচ এর জন্য এরই মধ্যে দুই হাজার ৯৫৮ কোটি টাকা লোকসানের বোঝা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে নিষ্পত্তিকৃত এলসির বিপরীতে মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও মুদ্রাস্ফীতি হওয়ায় ৮৫০ কোটি টাকা, বন্দর ড্যামারেজ ও কনটেইনার ডিটেনশনসহ অন্যান্য ৯৫০ কোটি টাকা, ব্যাংকের সুদ ও আবগারি শুল্ক (৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত) ৮৫৮ কোটি টাকা এবং ইউটিলিটি অবকাঠামো দ্রুত বাস্তবায়ন (রাষ্ট্রীয় দায় হওয়া সত্ত্বেও) ৩০০ কোটি টাকা।
সাফওয়ান বসুন্ধরা গ্লোবাল-এসবিজির চিফ অপারেটিং অফিসার শাহেদ জাহিদ বলেন, ‘উন্নত ও নিম্ন-নিঃসরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশে রিবার কয়েল ও ওয়্যার রড উৎপাদন চালুর লক্ষ্যেই কম্পানি এ প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে। প্রকল্পটি প্রচলিত উৎপাদন পদ্ধতির তুলনায় কম ব্যয়ে উচ্চমানের স্টিল উৎপাদনের পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর লক্ষ্য নিয়ে নকশা করা হয়েছে। এটি ইঞ্জিনিয়ারিং গ্র্যাজুয়েট ও দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করবে। এখন প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় চার হাজার ১৬০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে সাত হাজার ১১৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে এবং কমিশনিংও ২০২৪ সালের শেষ থেকে পিছিয়ে ২০২৭ সালের শেষে নির্ধারিত হয়েছে। গ্রুপের পক্ষ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে এখন আমরা অত্যন্ত অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি। প্রতিটি অতিরিক্ত বিলম্ব প্রকল্পের ব্যয় বাড়ায়, আর্থিক সক্ষমতা দুর্বল করে এবং বিনিয়োগকারী ও ঋণদাতা উভয়ের ওপরই চাপ তৈরি করেছে।’
স্টিল শিল্প খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এটি চালু হলে তা আমদানিনির্ভর স্টিল পণ্যের ওপর নিভর্রতা কমাবে, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করবে এবং দেশীয় শিল্প সরবরাহ শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করবে। বিশ্লেষকদের ধারণা, সরবরাহ শৃঙ্খল সীমাবদ্ধতা, বন্দর জট এবং কাঁচামালের মূল্য অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ করা গেলে দশকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের স্টিল শিল্প বছরে ১১ থেকে ১৫ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে। তাঁদের মতে, দেশীয় উদ্যোক্তারা যদি বড় শিল্প প্রকল্প বাস্তবায়নে ‘কারো দুষ্টদৃষ্টির রোষানলে পড়ে বড় লোকসানে জর্জড়িত হন, তবে তা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছেও ভুল বার্তা দেবে। তাঁরা নিরুৎসাহিত হবেন।
তাঁরা আরো বলেন, ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার দেশের অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফেরাতে উল্লেখযোগ্য কিছুই করে যেতে পারেনি। উল্টো বড় বড় শিল্প গ্রুপকে হীনস্বার্থে হয়রানি করেছে। যারা অপরাধী হবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কোনো বাধা নেই। কিন্তু এমন কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণ না করেই দেশের অর্থনীতিতে সামনে থেকে অবদান রাখা ব্যবসায়ীদের নাজেহাল করেছে। এলসি বন্ধ, নীতির দৌরাত্ম্যে জটিলতা তৈরি করেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংককে কারো বিরুদ্ধে একতরফাভাবে ব্যবহার করেছে। অনেক পিছিয়ে দিয়ে গেছে অর্থনীতিকে। ওই ক্ষত এখনো বিদ্যমান। তারেক রহমানের সরকার দায়িত্ব নেওয়ার শুরু থেকেই একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে। বিদেশিদের বিনিয়োগের আহবান জানাচ্ছে। এখন দরকার সব জটিলতা দূর করে একটি সহজ, উদার-বিনিয়োগ পরিবেশ। এমনটাই মনে করেন বিশ্লেষকরা।
সুত্র: কালের কণ্ঠ
