

উম্মতে মুহাম্মদির স্বল্প হায়াতের ইবাদতের ঘাটতি পূরণে মহান আল্লাহর এক বিশেষ উপহার হলো লাইলাতুল কদর। হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ এই রাতে ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে একজন বান্দা তার অতীতের গুনাহ মাফ করিয়ে নেওয়ার সুযোগ পায়। তাই এই বরকতময় রাতের পূর্ণ ফজিলত পেতে হলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় মেনে চলা প্রয়োজন।
শবে কদরে যা বর্জন করা উচিত
১. ঘুমে সময় নষ্ট করা
লাইলাতুল কদর ইবাদতের রাত, ঘুমের নয়। মুমিনের উচিত সাধ্যমতো বিশ্রাম কমিয়ে সারা রাত ইবাদতে কাটানো। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় কদরের রাতে ইবাদতে দাঁড়াবে, তার অতীতের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।
২. ভারী খাবার ও অতিরিক্ত আয়োজন
ইবাদতের প্রধান শর্ত হলো শরীর ও মনকে হালকা রাখা। এ রাতে ভারী খাবার তৈরি বা ভোজনে বেশি সময় ব্যয় করা ঠিক নয়। সময়ের বরকত রক্ষায় সাধারণ খাবার গ্রহণ করে ইবাদতে মনোনিবেশ করাই উত্তম।
৩. বিদআত ও লোকদেখানো কাজ
কোরআন ও সুন্নাহর বাইরে মনগড়া কোনো নিয়ম বা লোকদেখানো ইবাদত করা থেকে বিরত থাকতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) যে পদ্ধতিতে ইবাদত করেছেন, সেই পদ্ধতিই অনুসরণ করা মুমিনের জন্য নিরাপদ পথ।
১. কোরআন তিলাওয়াত ও ইবাদত
রমজানের শেষ দশকে রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে সারা রাত জেগে ইবাদত করতেন এবং পরিবারের সদস্যদেরও জাগিয়ে তুলতেন। যেহেতু এই রাতেই কোরআন নাজিল হয়েছে, তাই কোরআন তিলাওয়াত ও এর অর্থ বোঝার চেষ্টা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমল।
২. শেষ দশকের বিজোড় রাতে কদর অনুসন্ধান
কদরের রাত নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। হাদিসে এসেছে, রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে (২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯) কদর তালাশ করতে হবে। এই রাতগুলো ইবাদতে কাটালে কদর পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
৩. বেশি বেশি দোয়া করা
শবে কদরকে ভাগ্য নির্ধারণের রাতও বলা হয়। তাই ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও রাষ্ট্রীয় কল্যাণের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে আন্তরিকভাবে দোয়া করা উচিত। নিজের প্রয়োজন, অভাব ও আশা-আকাঙ্ক্ষা আল্লাহর কাছে তুলে ধরার এটি একটি উত্তম সময়।
এই বরকতময় রাতের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বেশি বেশি ইবাদত, তওবা ও দোয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করা প্রত্যেক মুমিনের দায়িত্ব।

