

পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে আগামীকাল সোমবার। জিলহজ মাসের ৮ তারিখ মিনায় অবস্থানের মধ্য দিয়ে শুরু হবে হজের মূল কার্যক্রম। এ উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত লাখো মুসল্লি এখন পবিত্র মক্কায় শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম হজ। এটি মুসলমানদের জন্য এক অনন্য ইবাদত, যেখানে ধৈর্য, আত্মত্যাগ ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের শিক্ষা রয়েছে প্রতিটি ধাপে।
সৌদি আরবে আজ ৭ জিলহজ। এ দিনটি মূলত প্রস্তুতির দিন হিসেবে বিবেচিত হয়। হাজিরা কেউ বাইতুল্লাহ শরিফে তাওয়াফ করছেন, কেউ মিনায় যাওয়ার পথ ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে খোঁজ নিচ্ছেন। আবার অনেকে নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়ায় সময় কাটাচ্ছেন।
হজের গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলো
৮ জিলহজ (ইয়াওমুত তারওয়িয়া):
হাজিরা মিনা প্রান্তরে গমন করবেন এবং সেখানে অবস্থান করবেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় ও ইবাদতের মাধ্যমে দিনটি অতিবাহিত করবেন।
৯ জিলহজ (ইয়াওমে আরাফা):
এদিন হাজিরা আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করবেন, যা হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুকন। নবীজি (সা.) বলেছেন, “হজই হলো আরাফা।” সূর্যাস্ত পর্যন্ত দোয়া, ইস্তেগফার ও ইবাদতে মশগুল থাকবেন হাজিরা। পরে মুজদালিফায় রাত্রিযাপন করবেন।
১০ জিলহজ (ঈদুল আজহার দিন):
হাজিরা মিনায় ফিরে বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করবেন, কোরবানি করবেন এবং মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করবেন। এরপর তাওয়াফে জিয়ারত আদায় করবেন।
১১ ও ১২ জিলহজ:
মিনায় অবস্থান করে তিনটি জামারাতে শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করবেন হাজিরা। অনেকে ১২ জিলহজের পর মক্কায় ফিরে যান, আবার কেউ ১৩ জিলহজ পর্যন্ত মিনায় অবস্থান করেন।
ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, হজ কেবল কিছু আনুষ্ঠানিকতার নাম নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, সংযম ও আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণের এক মহাসাধনা। ৭ জিলহজের প্রস্তুতি থেকেই শুরু হয় সেই ঐতিহাসিক সফরের বাস্তব রূপ।
