

আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার সিদ্ধান্তে ইস্তফা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সামরিক হামলা থেকে আপাতত বিরত থাকবে যুক্তরাষ্ট্র। মূলত ওয়াশিংটন ও তেহরান দ্রুত একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে কাজ করছে বলে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এই চুক্তি বাস্তবায়নে ইসরায়েলও সম্মত হয়েছে বলে ট্রাম্প দাবি করেছেন।
শনিবার (১ আগস্ট) ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প এসব তথ্য উল্ল্যেখ করেছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে ফক্স নিউজ।
পোস্টে ট্রাম্প বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম এমন মাত্রার সামরিক শক্তি, সক্ষমতা ও প্রস্তুতি নিয়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল যুক্তরাষ্ট্র যা আগে দেখা যায়নি।
তিনি আরও বলেন, তবুও ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশ আমাদের হামলা স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছে কারণ একটি চুক্তির মূল কাঠামোতে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে।
এদিকে, ফের হামলা বন্ধে কুয়েত ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে পৃথক টেলিফোনে কথা বলেছেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান। আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমিত করা, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এসব আলোচনার মূল বিষয় ছিল বলে জানিয়েছে সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ)।
কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ জাররাহ জাবের আল-আহমাদ আল-সাবাহর সঙ্গে ফোনালাপে প্রিন্স ফয়সাল সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি উত্তেজনা কমানো, নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অব্যাহত পরামর্শ ও সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অন্যদিকে, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান-এর সঙ্গে পৃথক ফোনালাপে দুই নেতা চলমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন। তারা সংকট নিয়ন্ত্রণে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার করা এবং পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য ওই চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি তাৎক্ষণিকভাবে, সম্পূর্ণ এবং নিঃশর্তভাবে খুলে দেওয়া হবে এবং ইরানের পারমাণবিক হুমকির অবসান ঘটানো হবে।
তিনি জানান, আলোচনার অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে তিনি সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ট্রাম্প বলেন, বিশ্বের ভবিষ্যৎ কল্যাণ এবং একই সঙ্গে একটি সফল ও সমৃদ্ধ ইরানের টিকে থাকার স্বার্থে, দ্রুত একটি চুক্তি করা সম্ভব হলে আমি হামলা বাতিল করতে সম্মত হয়েছি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, ইসরায়েলও এই চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রচেষ্টাকে সমর্থন করছে। সবশেষে তিনি বলেন, সবাই কাজে নেমে পড়ুন এবং চুক্তিটি সম্পন্ন করুন।
