

গাজী মমিন, ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি: চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে গৃহবধূ জাহেদা আক্তার মিশু (২০) হত্যা মামলায় তার স্বামী মো. সুজন খানকে (৩১) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন চাঁদপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে; অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে চাঁদপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ সামছুন্নাহার এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি সুজন খান আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
সুজন খান ফরিদগঞ্জ উপজেলার চরমঘুয়া গ্রামের মসজিদসংলগ্ন খানবাড়ির আবুল বাশার খানের ছেলে। এ মামলায় অপর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে।
মামলার নথি ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে জাহেদা আক্তার মিশুর সঙ্গে পাশের সন্তোষপুর গ্রামের সোহেল বেপারীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর সোহেল কাতার চলে গেলে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে পারিবারিক নানা বিষয়ে মিশুর বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে মিশুর মা ছালেহা বেগম মেয়েকে বাবার বাড়িতে নিয়ে আসেন। তবে এতে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের ক্ষোভ কমেনি এবং তারা মিশুকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে অভিযোগ।
জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৯ জুলাই ভোর ছয়টার দিকে চরমঘুয়া গ্রামে মিশুর বাবার বাড়িতে যান সুজন খান। সেখানে তিনি ধারালো অস্ত্র দিয়ে মিশুর মাথা ও কানে আঘাত করেন। মিশুর মা ছালেহা বেগম চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। গুরুতর আহত অবস্থায় মিশুকে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার দিনই মিশুর মা ছালেহা বেগম বাদী হয়ে ফরিদগঞ্জ থানায় সুজন খানকে প্রধান আসামি করে পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ২০১৯ সালের ৩১ জুলাই সুজন খানকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফরিদগঞ্জ থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক উনুমং মায়মা তদন্ত শেষে ওই বছরের ১৬ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন এবং ৩০ ডিসেম্বর আদালত তা গ্রহণ করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর কোহিনুর রশিদ বলেন, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালত এ মামলায় ২০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্য-প্রমাণ, নথিপত্র পর্যালোচনা এবং আসামির অপরাধ স্বীকারের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আদালত সুজন খানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট আমিন মিয়া খোকন। রায়ের বিষয়ে তিনি কথা বলতে রাজী হয়নি।
