

হাসমত আলী, দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি দাখিল মাদরাসার ৩০ জন শিক্ষার্থী ও দামুড়হুদার গোপালপুর দাখিল মাদরাসায় কেউই পাস করতে পারেনি।
এবছর উপজেলার কুড়ুলগাছি দাখিল মাদরাসায় পরীক্ষার ফলাফল বিপর্যয়ের পর গত সোমবার উপজেলার কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ও বাজারে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে।
জানা যায়, দামুড়হুদার কুড়ুলগাছি দাখিল মাদরাসা ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। মাদরাসার একজন-দুজন নয়, দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৩০ জন শিক্ষার্থী। তাদের পড়ানোর দায়িত্বে ছিলেন ২১ জন শিক্ষক। কিন্তু ফল প্রকাশের পর দেখা গেল ৩০ জনের কেউই পাস করতে পারেনি। ২১ জন শিক্ষক পরিচালিত মাদ্রাসাটিতে দাখিলের ফলাফল দাঁড়িয়েছে শতভাগ ফেল।
ফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে চাইলে কুড়ুলগাছি দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুস সামাদ বলেন, আসলে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত মাদ্রাসায় আসেনি। আমরা চেষ্টা করেছি। আগামী বছর থেকে ভালো ফলাফলের জন্য যা যা প্রয়োজন, সবকিছুই করব। আমরা অভিভাবক সমাবেশ করলেও কেউ আসতে চায় না।
তবে ২১ জন শিক্ষকের বিপরীতে ৩০ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পরও একজন শিক্ষার্থীও পাস না করার এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সুপার বলেন, এটা তো আসলে লজ্জার কথা। মাদরাসার এমপিও বা স্বীকৃতি বন্ধ হবে কি না জানতে চাইলে বলেন, দেখা যাক বোর্ড কি সিদ্ধান্ত নেয়।
এদিকে মাদ্রাসাটিতে শিক্ষক সংখ্যা, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি এবং ফল বিপর্যয়ের বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো: রাফিজুল ইসলাম বলেন, আমি কুড়ুলগাছি দাখিল মাদরাসায় একাধিক বার গিয়েছি এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলোচনা করেছি। কেন ফলাফল বিপর্যয় হলো তা ক্ষতিয়ে দেখা হবে।
দামুড়হুদা উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বুইচিতলা-বড়বলদিয়া দাখিল মাদরাসায় ৩৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৮ জন পাস করেছে, জগন্নাথপুর দাখিল মাদরাসায় ২৭ জনের মধ্যে ১৬ জন, দামুড়হুদা ডিএস দাখিল মাদরাসায় ৩১ জনের মধ্যে ২২ জন, কার্পাসডাঙ্গা ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসায় ৩২ জনের মধ্যে ১৮ জন, বাস্তপুর দাখিল মাদরাসায় ৩০ জনের মধ্যে ১৬ জন, দর্শনা ডিএস ফাজিল মাদরাসায় ৭৯ জনের মধ্যে ৩৭ জন পাস করেছে।
অপরদিকে দামুড়হুদা গোপালপুর দাখিল মাদরাসার কেউ পাস করতে পারেনি। মোট ৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে শতভাগ ফেল করেছে। গোপলপুর দাখিল মাদরাসার সুপার তার নিজের নাম জিজ্ঞেসা করা হলেও ফরাফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে চাইলে মুঠোফোন কেটে দেয়।
উপজেলার কুড়ুলগাছি এলাকার সচেতন মহল ও অভিভাবকদের প্রশ্ন, একটি প্রতিষ্ঠানে ২১ জন শিক্ষক থাকার পরও দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩০ জন শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হওয়ার কারণ কী? শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি যদি ফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হয়, তাহলে তাদের নিয়মিত ক্লাসে আনা এবং পড়াশোনায় মনোযোগী করার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির কার্যকর উদ্যোগ কতটা ছিল-এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
পাশাপাশি স্থানীয় অভিভাবকরা বলেন, সরকারি নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে সারা বছর মাদরাসা চালান সকাল সাড়ে ১০ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত। কোন শিক্ষকই ঠিক মতো ক্লাস নেয় না বলেও জানান।
