

হুমায়ুন কবীর রিন্টু, নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইল সদর উপজেলার ভদ্রবিলা ইউনিয়নে বৃদ্ধ মোস্তফা কাজীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার তীব্র প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। হত্যায় জড়িত সকল আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির (ফাঁসি) দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে ভদ্রবিলা ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ-এর ব্যানারে স্থানীয় বাজার এলাকায় সচেতন ও ক্ষুব্ধ নাগরিকরা এ কর্মসূচির আয়োজন করেন।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের অভিযোগ থেকে জানা যায়, সম্প্রতি ভদ্রবিলা ইউনিয়নের প্রাইমারি স্কুল মাঠে ছোটদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে একটি অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হয়। ওই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ৩ জুলাই বিকেলে উপজেলার মহারাগ গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে ভদ্রবিলা বাজারে যাওয়ার পথে প্রতিপক্ষরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে মোস্তফা কাজীর ওপর হামলা চালায়। তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরদিন ৪ জুলাই নিহতের ছেলে বাদী হয়ে ২৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৮–১০ জনকে আসামি করে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এপর্যন্ত ৪ জন এজাহারনামীয় আসামিকে গ্রেপ্তার করলেও বাকিরা অধরা রয়েছে।
মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন ভদ্রবিলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কাজী রাকিব সেন্টু। তিনি বলেন, "একজন বৃদ্ধ ও নিরীহ মানুষকে এভাবে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত চাই এবং জড়িত সকল আসামিকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করার জোর দাবি জানাচ্ছি।"
মানববন্ধনে নিহত মোস্তফা কাজীর ছেলে আমজাদ হোসেন কালাই ও নাতি স্বাধীন কাজী আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, "আমাদের পিতাকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা আর কিছুই চাই না, প্রশাসন ও আদালতের কাছে শুধু বাবার প্রকৃত খুনিদের দ্রুত ফাঁসি চাই।"
মানববন্ধন শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে ভদ্রবিলা বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে সংক্ষিপ্ত পথসভার মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করে বিচারে সোপর্দ করা না হয়, তবে পরবর্তীতে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
