

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুর প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। জেলা শহরের ১৫০টি বাড়িতে কীটতাত্ত্বিক জরিপ চালিয়ে ৫৪টিতেই এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। অর্থাৎ, লার্ভার ঘনত্ব ৩৬ ব্রুটো ইনডেক্স, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা অনুযায়ী উচ্চঝুঁকিপূর্ণ।
সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) জরিপে শহরের মসজিদপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, আরামবাগ, বালুবাগান, পিটিআই বস্তি, আলীনগর, কালিতলা, ইসলামপুর, উদয় সংঘের মোড় ও চরজোতপ্রতাপসহ বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গুর প্রজনন ক্ষেত্র শনাক্ত হয়েছে।
এদিকে, ডেঙ্গু রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে দেখা দিয়েছে বেড সংকট। অনেক রোগীকে হাসপাতালের মেঝে ও সিঁড়িতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। গোমস্তাপুর, শিবগঞ্জ, নাচোল ও ভোলাহাট উপজেলাতেও ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলা হাসপাতালে ১৫ জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৭ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫৯ জন। এর আগে ভর্তি ছিলেন ৭৮ জন। গতকাল রোববার ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন শিবগঞ্জের নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নের মো. বাদল আলীর ছেলে ইংরেজিতে অনার্সপড়ুয়া মো. রাজ্জাক আলী (২৪)। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২৬ জন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয়েছে ৪ জনকে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলা হাসপাতালে ১ হাজার ৩২৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। গুরুতর অবস্থায় ৮৩ জনকে রেফার্ড করা হয়েছে। বহির্বিভাগে এ বছর শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ১৪ জন।
বালুবাগানের বাসিন্দা মো. রেজাউল করিম ও সিএন্ডবি ঘাট এলাকার সাইফুল ইসলাম ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা ও মশা নিধন কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানান।
জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মাহবুব হোসেন বলেন, ডেঙ্গু চিকিৎসায় ওষুধ ও সরঞ্জামের সংকট নেই। তবে বেড সংকটে রোগীদের ভোগান্তি হচ্ছে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. একেএম শাহাব উদ্দীন বলেন, জরিপে ১৫০টি বাড়ির মধ্যে ৫৪টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। ৩৬ ব্রুটো ইনডেক্সের এই ঘনত্ব অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে আমরা প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
